কলকাতার ‘শ্রী ফেরাতে’ মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ ৫৮টি বড় রাস্তার ‘ক্রসিং’ ও সমস্ত ফুটপাত পথচারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করছে পুরসভা ও পুলিশ। এই ক্রসিংয়ের দু’পাশে ৪৫ ফুটের মধ্যে হকার থাকলে উঠে যেতে হবে। মহানগরের ‘কালো পিচ রাস্তা’র কোথাও যাতে একজন হকারও না থাকে তা নিয়ে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে পুরপ্রশাসন। কলকাতার সমস্ত স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, সরকারি দপ্তর, শপিং মল, পুর মার্কেট ও নামী প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথের দু’পাশে থাকা সমস্ত হকারকে অবিলম্বে সরে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন পুর কমিশনার ও প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে। পুরসভা সূত্রে খবর, এখনই সরাসরি বড়মাপের উচ্ছেদ অভিযান শুরু না হলেও তিলোত্তমার ‘ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য’ ফেরাতে শহরবাসীর দাবি মেনে হকার নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ শুরু হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
রবিবার মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও হকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “কলকাতায় একেই ছোট রাস্তা। গাড়িঘোড়ার জ্যাম। পরিষ্কার করতে হবে। হকাররা নিজেরা সরে গেলেই ভালো।” পুর প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর টাউন্ড ভেন্ডিং কমিটির প্রথম বৈঠকে দ্বিতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা হল- এসআইআর-এর পর যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই তাঁদের হকারির জন্য ‘ভেন্ডিং লাইসেন্স’ দেওয়া হবে না। বিদায়ী তৃণমূল সরকারের সময়ে যে ৮৭২৭ জনের ভেন্ডিং সার্টিফিকেট দিতে তালিকা প্রস্তুত হয়েছিল তাঁদের ফের এসআইআর প্রমাণপত্র আনতে বলা হয়েছে। অভিযোগ, একশ্রেণির ইউনিয়ন নেতা প্রচুর বাংলাদেশিকে মোটা টাকার বিনিময়ে হকারি করার সুযোগ ও ভেন্ডিং লাইসেন্স পাইয়ে দিচ্ছিল। তাঁদেরও চিহ্নিত করা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, রেলস্টেশনে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের একাংশ রাতের অন্ধকারে কলকাতার বিভিন্ন গলিতে এসে চুপি চুপি বসে পড়ছে, তা বন্ধে পুলিশকে বলা হয়েছে।
রেলস্টেশনে হকার উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে দিন কয়েক আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, ধর্মতলার ‘শ্রী ফেরানো’র জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আবেদন করব। বস্তুত শমীকের সেই বার্তার পর এবার যে কলকাতার রাস্তা জবরদখলমুক্ত করার কাজ পুরসভা শুরু করছে তা স্পষ্ট। টাউন ভেন্ডিং কমিটির বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত, প্রথম দফায় ধর্মতলা, পার্ক স্ট্রিট, বিবাদী বাগ-সহ কলকাতার ১৮৯২টি চিহ্নিত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় হকার রাখা হবে না। দ্বিতীয় দফায় মহানগরের অন্তত আরও দু’হাজার ব্যস্ত রাস্তাকে কমিটির সদস্যদের নিয়েই সমীক্ষা শেষে ‘নো-হকিং জোন’ করা হবে। ১৫ দিনের মধ্যে যৌথভাবে সমীক্ষা শুরু হবে। কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়া হকার সংগ্রাম কমিটির নেতা শক্তিমান ঘোষ জানান, “বিভিন্ন বরোর এক্সিকিউটিভরা দিন ঠিক করে জানালেই সমীক্ষায় অংশ নেব।” ২০২৪ সালে সমীক্ষায় ৫৬ হাজার হকার বলে যে তালিকা হয়েছিল সেখানেও প্রচুর ভুয়া নাম আছে। যদিও হকারদের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা ২ লক্ষ ৭৫ হাজারের বেশি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ব্রাজিল ম্যাচের আগেই পানামার বিরুদ্ধে নামবে ভারত, দিনক্ষণ জানিয়ে দিল ফেডারেশন
-
ঠিকভাবে উল্লেখ নেই রাস্তার নাম! কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে ৭ দফা আপত্তি সিপিএমের
-
হাসপাতালে থাকতে নারাজ বিমান বসু, ফিরতে চাইছেন কলকাতায়! কবে ছুটি?
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে, সুন্দরবনে প্রমোদতরী! পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে মাস্টার প্ল্যান রাজ্যের
-
আচমকা মস্কোয় অবতরণ করল মার্কিন সেনার বিমান! ঘনাচ্ছে রহস্য, কী বলল ক্রেমলিন?