West Bengal assembly

দু’জায়গায় দু’রকম সই! বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ে তৃণমূল বিধায়কদের অস্বস্তির সূত্রপাত কোথায়?

সই-জাল কাণ্ডে কতজন দোষী প্রমাণিত হবেন, তার উপর নির্ভর করছে তৃণমূলের বিরোধী দলের তকমা ধরে রাখা।

Advertisement
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুন ১, ২০২৬, ১৬:১৯

options
link
দু’জায়গায় দু’রকম সই! বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ে তৃণমূল বিধায়কদের অস্বস্তির সূত্রপাত কোথায়?

বিধানসভায় সই কেলেঙ্কারি! বিরোধী দলনেতা বাছাই ঘিরে কার্যত নজিরবিহীন বিপাকে তৃণমূল। দু’জায়গায় দু’রকম সই নিয়ে সন্দেহ, অসংগতি মেলায় এফআইআর দায়ের, সিআইডি তদন্ত, একের পর এক বিধায়ককে সিআইডি-র নোটিস। এমনকী দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সেই নোটিস দেওয়া হয়েছে। সোমবার তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে ভবানীভবনে। তার ঠিক আগে, রবিবার এই সংক্রান্ত আলোচনার জন্য তৃণমূল বিধায়কদের কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে পাঠানো হলেও ৮০ জনের মধ্যে উপস্থিতি মাত্র ২৫ শতাংশ! অর্থাৎ ২০ জন হাজির ছিলেন। ফলে বৈঠকই বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু তৃণমূলের অন্দরে স্বাক্ষর কেলেঙ্কারির এই সূত্রপাত ঠিক কোথায়?

Advertisement

জানা যাচ্ছে, ৪ মে ভোটের ফলপ্রকাশের পর ৬ তারিখ বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটের বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বিধানসভার সচিব দেখেন, ওই প্রস্তাবনাপত্রে অনেক বিধায়কের নাম লেখা বড় অক্ষরে, কারও আবার নামে আদ্যক্ষর সই করা। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনায় পুরো নাম সই করার কথা। তা নেই দেখে সন্দেহ হয় সচিবের। তিনি গত ১৩ ও ১৪ মে তৃণমূল বিধায়কদের শপথের দিন হাজিরা খাতায় সই করা পাতাগুলির ফটোকপি করে নেন। এরপর ওই প্রস্তাবনাপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখেন। তাতে অন্তত ২০ জনের স্বাক্ষর মেলেনি বলে খবর। তাতেই সই জালের অভিযোগে থানায় এফআইআর করেন বিধানসভার সচিব।

বিধানসভার সচিব দেখেন, ওই প্রস্তাবনাপত্রে অনেক বিধায়কের নাম লেখা বড় অক্ষরে, কারও আবার নামে আদ্যক্ষর সই করা। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনায় পুরো নাম সই করার কথা। তা নেই দেখে সন্দেহ হয় সচিবের। তিনি গত ১৩ ও ১৪ মে তৃণমূল বিধায়কদের শপথের দিন হাজিরা খাতায় সই করা পাতাগুলির ফটোকপি করে নেন। এরপর ওই প্রস্তাবনাপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখেন। তাতে অন্তত ২০ জনের স্বাক্ষর মেলেনি বলে খবর। তাতেই সই জালের অভিযোগে থানায় এফআইআর করেন বিধানসভার সচিব। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি তদন্তভার গ্রহণ করে। নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু হয়। প্রথমেই চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে এই নোটিস ধরান তদন্তকারীরা। রবিবার কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠকে যোগ দিতে আসা নয়নাকে এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে রীতিমতো মেজাজ হারিয়ে তিনি জানান, ‘‘সই জাল বলবেন না, আমি কোনও সই করিনি। নিজের নাম লিখেছিলাম।” ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলামের সাফ কথা, ”সই তো আমি করিনি, ভূতে সই করল?”

Advertisement
তৃণমূল বিধায়কদের সই-বিভ্রাটের শুরু এখান থেকে

এখন তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে বিধানসভায় জমা দেওয়া প্রস্তাবনায় সই করেননি বিধায়করা, তাহলে অনেকেরই বিধায়ক পদ খারিজ তো বটেই, শাস্তিও হবে। বিরোধী দলের মর্যাদা ধরে রাখতে ৩০ জন বিধায়ক দরকার। প্রস্তাবনায় ৭০ জনের সই আছে। তাঁদের মধ্যে কতজন নিজেরা সই করেননি, তদন্ত শেষের পরই তা প্রমাণিত হবে এবং তাঁরা বড় শাস্তির মুখে পড়বেন। সেই সংখ্যাটা কত, তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই কারণে কি বিরোধী দলের তকমা খোয়াবে সদ্যপ্রাক্তন শাসকদল?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন