অর্ণব আইচ: ইছাপুর অস্ত্র কারখানা থেকে গোপনে পাচার হওয়া অস্ত্র চলে যেত বিহারে। তুলে দেওয়া হত মাওবাদীদের হাতে। এ তথ্য নতুন নয়। ইছাপুর অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি থেকে অস্ত্র পাচার কাণ্ডে জড়িত ছয় অভিযুক্তকে পাকড়াও করার পর থেকেই ক্রমশ চক্রের মূলের হদিশ মিলছে। যা ছড়িয়ে আছে গোটা বিহারে। এবার তাই বিহারে গিয়েই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিল এসটিএফ। আজই গোয়েন্দাদের একটি বিশেষ দল রওনা দিচ্ছে পড়শি রাজ্যে।
[ লালবাজারে অগ্নিকাণ্ড, আগুন লাগল মার্টিন বার্ন বিল্ডিংয়ের চারতলায় ]
এসটিএফ-এর একটি স্পেশ্যাল টিম আজই পাড়ি দিয়েছে বিহারে। গোয়েন্দাদের অনুমান, এই ছয়জন ছাড়াও অস্ত্র পাচারের সঙ্গে যুক্ত আরও অনেকে। তারা লুকিয়ে আছে বিহারেই। এছাড়া সেখানে আরও অস্ত্র মজুত করা আছে বলেও খবর গোয়েন্দাদের কাছে। বিহার পুলিশের সাহায্য নিয়েই চক্রের মূলে পৌঁছাতে চাইছেন গোয়েন্দারা। মঙ্গলবার ধৃতকে নিয়ে ইছাপুরের ওই ফ্যাক্টরিতে যান গোয়েন্দারা। সেখানে পুরো ঘটনার পুনর্ণির্মাণ করা হয়। কী দেখা গেল? দেখা গেল, রেনপাইপ বেয়ে তরতর করে উঠে যাচ্ছিল লোকটি। দোতলার সরু কার্নিশে এক পা ভর দিয়ে জানালার উপর। জানালার একটি শিক ভাঙা। সুন্দর কায়দায় সেই শিক সরিয়ে ফেলল উমেশ রায় ওরফে ভোলা। ছোট্ট একটি লাফ দিয়ে সে ঢুকে গেল গুদামঘরের ভিতর। সেখান থেকে অস্ত্রের অংশ নিয়ে ফের কার্নিশে পা রেখে রেন ওয়াটার পাইপ বেয়ে নিচে।
[ সিগন্যালে গণ্ডগোল, অফিস টাইমে ব্যাহত শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখায় ট্রেন চলাচল ]
উমেশের এই ‘পারদর্শিতা’ দেখে হতবাক কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ও ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইআরএফ আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় সরকারের এই অস্ত্র কারখানা থেকে সাতটি রিভলভার ও একটি কার্বাইন পাচারের অভিযোগে এসটিএফ-এর হাতে ধরা পড়েছে ৬ অস্ত্র পাচারকারী। তাদের মধ্যে দু’জন এই অস্ত্র কারখানার কর্মী। বাকিদের মধ্যে দু’জন বিহারের অস্ত্র কারবারি। কারখানার ভিতরে ঢুকে অস্ত্রের অংশ নিয়ে আসত উমেশ। তাকে সাহায্য করত সঙ্গী কার্তিক। তাদের মদত জোগাত কারখানার দুই কর্মী সুখদা ও সুশান্ত। মঙ্গলবার দুপুরে উমেশ, কার্তিক, সুখদা ও সুশান্তকে নিয়ে ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরিতে গিয়ে ঘটনার পুনর্গঠন করে এসটিএফ। এটিএফ-এর এক কর্তা জানান, পুনর্গঠনের সময়ই উঠে এসেছে একের পর এক গাফিলতির প্রমাণ। কারখানার ‘স্ক্র্যাপ ডিভিশন’-এর গুদাম থেকে সংগ্রহ করা হত অস্ত্রের ‘বাতিল’ অংশ। সেই অংশ পাচার হত বিহারে। অংশগুলি জুড়েই তৈরি হত রিভলভার, পিস্তল, এসএলআর, কার্বাইনের মতো মারণাস্ত্র। তা পৌঁছাত বিহারের মাওবাদী, নেপাল ও উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গিদের হাতে।
[ লজেন্সের লোভ দেখিয়ে বালিকাদের যৌন নিগ্রহের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২ প্রৌঢ় ]
আবার কলকাতায় ধৃত অস্ত্র মাফিয়া অজয়কুমার ওরফে গুড্ডু ও জয়শঙ্কর যে উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গিদের কাছ থেকে একে ৪৭ ও একে ৫৭-র মতো মারাত্মক অস্ত্র বিহারে পাচার করত, সেই প্রমাণও পেয়েছে এসটিএফ। গোয়েন্দাদের প্রশ্ন, অস্ত্র স্ক্র্যাপের গুদামের জানালার শিক ভাঙল কে? তদন্তে এই অস্ত্র পাচার-কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও অন্তত চারজন ইছাপুর অস্ত্র কারখানার কর্মী ও আধিকারিকের নাম উঠে এসেছে পুলিশের হাতে। অভিযোগ, তাদের মধ্যে একজন পাচারকারীদের সুবিধার জন্য শিক ভেঙেছিল। একাধিক লোক প্রয়োজনীয় স্ক্র্যাপ গুছিয়ে রাখত পাচারের জন্য। তাদের ডেকে জেরা শুরু হয়েছে। পাচারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন স্ক্র্যাপ ঠিকাদারের সন্ধানও মিলেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে। এ-ও প্রমাণ মিলেছে যে, কত স্ক্র্যাপ গুদামে জমা হত, তার কোনও হিসাব রাখা হত না। হিসাবের কোনও খাতা বা কম্পিউটারের ফাইল মেলেনি। গুদামের ভিতর থেকে তৈরি হওয়া দু’টি রিভলভার ও একটি এসএমসি উদ্ধার করা হয়েছে।এদিন পুনর্গঠনের সময় উমেশ দেখায়, রাতে কোন জায়গা দিয়ে পাঁচিল ডিঙিয়ে কারখানার ভিতরে ঢুকত সে। স্ক্র্যাপ গুদামের কাছে যে নিরাপত্তারক্ষীর নজরদারি বা কোনও সিসিটিভিও ছিল না সেই বিষয়ে নিশ্চিত পুলিশও। অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের এক কর্তা জানান, বোর্ডের পক্ষে ফ্যাক্টরির কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর
-
‘ইসলামই শ্রেষ্ঠ’, মন্তব্য কর্নাটকের মন্ত্রীর, হিন্দু ধর্মকে হেয় করার অভিযোগ বিজেপির
-
ঠোঁটে সারাক্ষণ কৃষ্ণনাম, সাধু বেশে আশ্রয় নিয়ে একের পর এক মঠে লুট! তারপর…
-
নেপালের দুর্যোগে ভাসবে উত্তরপ্রদেশ? ফুঁসছে নারায়ণী-গণ্ডক, প্লাবনের শঙ্কায় সতর্কতা একাধিক জেলায়
-
পাথর হয়েছিল পিত্তথলিতে, অস্ত্রোপচার হল অ্যাপেনডিক্স! কাঠগড়ায় এনআরএস হাসপাতাল
-
হবু স্ত্রী ইউরোপের রাজকন্যা! বিলাওয়াল ভুট্টোর বিয়ে নিয়ে জল্পনা, কী বলছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি?