অর্ণব আইচ: ইছাপুর অস্ত্র কারখানা থেকে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র পাচার হয়েছে ছত্তিশগড়ের মাওবাদীদের হাতেও। বিহারের অস্ত্র মাফিয়া অজয়কুমার পাণ্ডে ওরফে গুড্ডু পণ্ডিত নিজেই ইছাপুরের অস্ত্র পাঠাত ছত্তিশগড়ে। অস্ত্র পাচারের কাজে গুড্ডু অন্তত চারটি দল তৈরি করেছিল। এই দলের সদস্যদের খুঁজতে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর একটি টিম গেল বিহারে। গোয়েন্দাদের কাছে খবর, ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরির ‘স্ক্র্যাপ ডিভিশন’-এর গুদামের ভিতরেও আস্ত অস্ত্র তৈরি করা হত। এসটিএফ-এর হাতে ধৃত অস্ত্র কারখানার কর্মী সুশান্ত বসু স্বীকার করেছে যে, তার অস্ত্র তৈরির প্রশিক্ষণ ছিল। সেই সূত্রে সে গুদামে ডিউটি করার সময় অস্ত্রের অংশগুলি বাছত। যে অংশগুলি কাজে লাগতে পারে, সেগুলি বেছে আলাদা করে গুদামের একটি জায়গায় রাখত। এ ছাড়াও সামান্য অকেজো হওয়ার জন্য যে অস্ত্রগুলিকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, সেগুলিও সে আলাদা করে রেখে দিত। গুদামে বসেই রিভলভার ও পিস্তলের মতো বেশ কিছু অস্ত্র সারাত সে। আস্ত অস্ত্র তৈরি করেও উমেশ রায় ওরফে ভোলার হাত দিয়ে পাচার করত। সম্প্রতি ধৃত দুই কর্মী সুখদা মুর্মু ও সুশান্ত বসু গুদামের দায়িত্বে ছিল না বলে জানিয়েছে। সেই ক্ষেত্রে তাদের আরও কয়েকজন কর্মী ও ঠিকাদার সাহায্য করত। বুধবার লালবাজারে কয়েকজন কর্মী ও স্ক্র্যাপ ঠিকাদারকে ডেকে জেরা করা হয়। যে জানালার ভাঙা শিক দিকে গলে উমেশ ওরফে ভোলা গুদামের ভিতর ঢুকত, সেই ভাঙা অংশটি কেন কারও চোখে পড়েনি, সেই বিষয়েও গোয়েন্দারা জেরা করেন।
[ইছাপুর থেকে পাচার বিহারে, অস্ত্রের খোঁজে পড়শি রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে এসটিএফ]
এদিকে, জেরার মুখে এসটিএফ-এর হাতে ধৃত বিহারের দুই অস্ত্র মাফিয়া গুড্ডু ও জয়শঙ্কর পাণ্ডেকে জেরা করে পুলিশ জেনেছে, ২০০৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত এই রাজ্যে কিষেনজি ও তাঁর মাওবাদী সঙ্গীদেরও অস্ত্র পাচার করেছে তারা। এই রাজ্যে মাওবাদীদের শিরদাঁড়া ভেঙে পড়ার পর বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ে তারা অস্ত্র পাচার করত। গত বছর কয়েকজন অস্ত্র পাচারকারীকে বিহার পুলিশ গ্রেফতার করার পর এই বিষয়টি নজরে আসে। লালবাজারের এসটিএফ-এর একটি টিম বিহারে গিয়ে জানার চেষ্টা করছে, গুড্ডুরা কোথায় অস্ত্রের টুকরো জুড়ে তৈরি করত এসএলআর, কার্বাইন, ইনসাস, একে ৪৭ ও ৫৭-এর মতো মারাত্মক অস্ত্রগুলি। রিভলভার ও পিস্তল ছিলই। সেগুলি গভীর জঙ্গলের একটি জায়গায় পরীক্ষা করা হত। তার জন্য বুলেট নিয়ে আসা হত পাঞ্জাব থেকে। গুড্ডুর যে দলটি এই টুকরোগুলি জুড়ত, তাদের অর্ডন্যান্স অস্ত্র কারখানার কয়েকজন কর্মীই প্রশিক্ষণ দিয়েছিল বলে পুলিশের কাছে খবর। গোয়েন্দারা জেনেছেন, এখনও বিহারের কয়েকটি গোপন আস্তানায় গুড্ডু সরকারি অস্ত্র কারখানা থেকে জোগাড় করা প্রচুর অস্ত্র মজুত করে রেখেছে। বিহার পুলিশের সাহায্য নিয়ে সেই অস্ত্রগুলির সন্ধান চলছে। বিহারে অস্ত্র কারবারিদের পলাতক সঙ্গীদের সন্ধানেও তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
[পাঁচিল টপকে কীভাবে পাচার হত আগ্নেয়াস্ত্র, ইছাপুরে গোয়েন্দাদের দেখাবে ধৃতরা]
সর্বশেষ খবর
-
‘ইসলামই শ্রেষ্ঠ’, মন্তব্য কর্নাটকের মন্ত্রীর, হিন্দু ধর্মকে হেয় করার অভিযোগ বিজেপির
-
ঠোঁটে সারাক্ষণ কৃষ্ণনাম, সাধু বেশে আশ্রয় নিয়ে একের পর এক মঠে লুট! তারপর…
-
নেপালের দুর্যোগে ভাসবে উত্তরপ্রদেশ? ফুঁসছে নারায়ণী-গণ্ডক, প্লাবনের শঙ্কায় সতর্কতা একাধিক জেলায়
-
পাথর হয়েছিল পিত্তথলিতে, অস্ত্রোপচার হল অ্যাপেনডিক্স! কাঠগড়ায় এনআরএস হাসপাতাল
-
হবু স্ত্রী ইউরোপের রাজকন্যা! বিলাওয়াল ভুট্টোর বিয়ে নিয়ে জল্পনা, কী বলছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি?