Jadavpur University

যাদবপুরে নন্দলাল বসুর আঁকা প্রতীক ভাঙচুর, কোন উদ্দেশে তৈরি, অর্থই বা কী? জানুন ইতিহাস

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই এমব্লেমই এখন চর্চায়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০২৬, ২১:০৮

options
link
যাদবপুরে নন্দলাল বসুর আঁকা প্রতীক ভাঙচুর, কোন উদ্দেশে তৈরি, অর্থই বা কী? জানুন ইতিহাস
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে নন্দলাল বসুর আঁকা প্রতীকের ইতিহাস, নিজস্ব ছবি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করার নেপথ্যে শুধু পুঁথির চর্চা নয়, বৃহত্তর অর্থে সমাজ সচেতনতাও বটে। স্বাধীনতার কয়েকবছর পর বাংলার বুকে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরির পিছনে এই বোধই কাজ করেছিল নির্মাতাদের। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বার কীভাবে সাজানো হবে, তার অন্দরে কোন বার্তা থাকবে, এসবের খোঁজ পেতে দেশের চিত্রশিল্প জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নেহধন্য নন্দলাল বসুর দ্বারস্থ হন তাঁরা। তারপর যা হয়েছে, তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে নয়, শিল্পজগতের ধারাবাহিকতার কাহিনিতেও। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নং গেটে নন্দলাল বসু এঁকে দিয়েছিলেন সেই প্রতীক – পদ্মবলয়ের মাঝে তিনটি অগ্নিশিখার মাঝে বাংলা ও হিন্দিতে লেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। ছাত্র সংঘর্ষের মাঝে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সেই এমব্লেম এখন চর্চায়। জানেন এই প্রতীকের অর্থ কী?

Advertisement

তিনটি অগ্নিশিখা যথাক্রমে জ্ঞান, আধ্যাত্মিক বিকাশ ও সংস্কৃতিমনস্কতার প্রতীক। সামগ্রিকভাবে তা মেধা ও কল্পনার বিকাশকে সূচিত করে। আর শেষ স্তরের পদ্মপাঁপড়ি সূক্ষ্ম শিল্পবোধের প্রতিফলন। যাদবপুরে কলা, বিজ্ঞান বিভাগের চেয়েও অধিক নামী ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। নন্দলাল বসুর ভাবনায় তা ফাইন আর্টসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব জানা গিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস থেকে।’ল্যাম্প ইন লোটাস’ নামের ওই বইটি লিখেছেন তিন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ – রামপ্রসাদ দে, আনন্দ লাল ও অমৃতা সেন।

১৯৫৫ সালে তৈরি হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সেসময় প্রবেশদ্বারের নকশার জন্য শিল্পী নন্দলাল বসুর পরামর্শ চাওয়া হয়। নির্মাতারা চেয়েছিলেন, শিল্পী নিজে ওই প্রতীক এঁকে দিন। অনুরোধ মেনে নন্দলাল বসু এঁকেছিলেন তিনটি অগ্নিশিখা, তাকে ঘিরে একটি বৃত্ত। তার বাইরে বাংলা ও হিন্দিতে লেখা ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়’। শেষ স্তরে আরেকটি বৃত্ত এবং তার বাইরে পদ্মপাঁপড়ি দিয়ে ঘেরা। এহেন প্রতীক নান্দনিক নিঃসন্দেহে। কিন্তু শুধু নন্দন-তত্ত্ব চর্চা নয়, এই এমব্লেমের অন্দরে বহু অর্থ লুকিয়ে।

Advertisement

জানা যাচ্ছে, তিনটি অগ্নিশিখা যথাক্রমে জ্ঞান, আধ্যাত্মিক বিকাশ ও সংস্কৃতিমনস্কতার প্রতীক। সামগ্রিকভাবে তা মেধা ও কল্পনার বিকাশকে সূচিত করে। আর শেষ স্তরের পদ্মপাঁপড়ি সূক্ষ্ম শিল্পবোধের প্রতিফলন। যাদবপুরে কলা, বিজ্ঞান বিভাগের চেয়েও অধিক নামী ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। নন্দলাল বসুর ভাবনায় তা ফাইন আর্টসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব জানা গিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস থেকে।’ল্যাম্প ইন লোটাস’ নামের ওই বইটি লিখেছেন তিন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ – রামপ্রসাদ দে, আনন্দ লাল ও অমৃতা সেন।

Advertisement
এমব্লেমটি শুক্রবার ফের স্থাপন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নং গেটে, নিজস্ব ছবি

বৃহস্পতিবার যাদবপুরে এবিভিপি ও এসএফআইয়ের ছাত্র সংঘর্ষের মাঝে সাত দশকের বেশি এই এমব্লেমটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে লোহার বলয়ের মধ্যে তা বসানো ছিল, সেই বলয়টি খুলে যায়। এতে অবশ্য গেরুয়াপন্থী ও ডানপন্থীরা একে অপরকে দুষেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই বলয়টি আবার গেটে স্থাপন করে নন্দলাল বসুর শিল্পকর্মকে ফিরিয়ে আনা হয়।এই ঘটনার পর অনেকেই জানাচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে ওই প্রতীকের ইতিহাস, গুরুত্ব তাঁদের অজ্ঞাত ছিল। এবার সবটা জানার পর নিন্দায় মুখর রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সকলে।

যাদবপুরের এমিরেটাস প্রফেসর সুপ্রিয় চৌধুরী থেকে বাংলা, ইংরাজি-সহ বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপকরা বারবার একটা কথাই বলছেন, ”যা ঘটল এই এমব্লেম নিয়ে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। যারা এমনটা করেছে, তারা এই প্রতীকের গুরুত্বও বোঝে না, ইতিহাসও জানে না।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.