যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষ গত তিনদিন ধরে সংবাদ শিরোনামে। গেরুয়াপন্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি, প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে বেশ উত্তপ্ত দেশের এই নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই চর্চাকে আরও উসকে দিয়েছে। এনিয়ে এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ভবানীপুরে এক অনুষ্ঠানে অশান্তি ছড়ানো পড়ুয়াদের উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই। এরাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম গাইতে হবে।”
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের অনুষ্ঠান থেকে বললেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বন্দে মাতরম গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওড়ে না এখানে। শিক্ষাদপ্তরকে ঢুকতে দেয়নি, সিসিটিভি লাগাতে দেয় না। কিন্তু আমরা যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই। যাদবপুর নিয়ে অনেকেই দেখেছি সোশাল মিডিয়ায় কাঁদছেন। তাঁরা শুনে রাখুন, এরাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম গাইতে হবে। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস নয়। যারা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান তুলছে, তাদের মুখ সেলাই করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।”
রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে নতুন করে রাষ্ট্রবাদী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতি রাজ্যবাসীকে তাতে শামিল করতে চেষ্টার অন্ত নেই। সুশাসন, নাগরিক পরিষেবার পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাংলায় তাঁর আদর্শকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংস্কার কর্ম চলছে। তার মাঝেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছোট ঘটনা থেকে যে বিরোধিতার আগুন জ্বলেছে, যেভাবে প্রতিবাদের নামে বামপন্থী ছাত্ররা ‘আজাদি’ স্লোগান, মাওবাদী আদর্শের কথা লেখা পোস্টার তুলে ধরেছে, তা নিয়ে সমালোচনার অবকাশ তৈরি হয়েছে। এ কি আদৌ পড়ুয়াদের প্রতিবাদ নাকি আড়ালে আসলে ‘দেশবিরোধী’ কাজে উসকানি? এই প্রশ্নও উঠেছে।
এই আবহে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের অনুষ্ঠান থেকে বললেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বন্দে মাতরম গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওড়ে না এখানে। শিক্ষাদপ্তরকে ঢুকতে দেয়নি, সিসিটিভি লাগাতে দেয় না। কিন্তু আমরা যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই। যাদবপুর নিয়ে অনেকেই দেখেছি সোশাল মিডিয়ায় কাঁদছেন। তাঁরা শুনে রাখুন, এরাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম গাইতে হবে। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস নয়। যারা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান তুলছে, তাদের মুখ সেলাই করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।” পরে বেরিয়ে তিনি এও জানান, বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সিদ্ধান্তে রাখির দিন ১০ লক্ষ কণ্ঠে বন্দে মাতরম গাওয়া হবে যাদবপুরে। অর্থাৎ বুঝিয়ে দিলেন, বাংলার যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সে যতই আপন মেধায় উজ্জ্বল হোক, রাষ্ট্রবাদী আদর্শ মেনেই এগোতে হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কেমন চলছে চিকিৎসা? মীরা ভট্টাচার্যর খবর নিতে হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
-
ছিলেন বিমানসেবিকা, হলেন পুলিশ সুপার! সেই নেহার বিরুদ্ধেই তোলাবাজির অভিযোগ
-
সারাক্ষণ বেরিয়ে জিভ, ঠিকরে বেরচ্ছে চোখ! সবচেয়ে ‘কুৎসিত’ কুকুরের তকমা পেয়ে ৫ লক্ষ জিতল লু
-
বুধবার কলকাতার হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু, ৬ বাংলাদেশির দেহ ফিরল দেশে
-
পূর্বজন্মের পাপেই সমস্যায় জর্জরিত জীবন! জানেন কোন অন্যায়ের শাস্তি পাচ্ছেন?