ওপারে যা ছিল অসম্ভব, এপারে তাইই সম্ভব করে দেখালেন চিকিৎসকরা। বিরল থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত বাংলাদেশি শিশুকে সম্পূর্ণ বিপন্মুক্ত করে নতুন জীবন ফিরিয়ে দেওয়া হল। যে কাজ সহজ ছিল না মোটেও। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং তার সঠিক প্রয়োগে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন হাওড়ার এক বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ‘স্টেম সেল থেরাপি’ পদ্ধতি প্রয়োগ করে এই সাফল্যের মুখ দেখেছেন তাঁরা। ছেলের নতুন জীবন পেয়ে বাংলাদেশি দম্পতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের। বলছেন, ভাগ্যিস এপার বাংলায় এসেছিলেন।
ঢাকার ৭ বছরের ছেলে রাকেশ সরকার ওরফে জুয়েল। ছোটবেলা থেকে সে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। বিরল ই-বিটা থ্যালাসেমিয়া বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। সপ্তাহে ২ সপ্তাহ রক্ত লাগত, শরীরে জমছিল আয়রন। রাকেশের বৃদ্ধি প্রায় স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। বয়সের তুলনায় বেড়ে ওঠা হচ্ছিল না। বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অন্তিম সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাকেশের আয়ু বড়জোর আর বছর ১৪ কি ১৫।
আরও পড়ুন:
ঢাকার ৭ বছরের ছেলে রাকেশ সরকার ওরফে জুয়েল। ছোটবেলা থেকে সে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। বিরল ই-বিটা থ্যালাসেমিয়া বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। সপ্তাহে ২ সপ্তাহ রক্ত লাগত, শরীরে জমছিল আয়রন। রাকেশের বৃদ্ধি প্রায় স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। বয়সের তুলনায় বেড়ে ওঠা হচ্ছিল না। বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অন্তিম সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাকেশের আয়ু বড়জোর আর বছর ১৪ কি ১৫। তা শুনে স্বাভাবিকভাবে মুষড়ে পড়েন রাকেশের মা-বাবা। এরপর সিদ্ধান্ত নেন, একবার কলকাতায় গিয়ে ডাক্তার দেখাবেন। সেইমতো ছেলেকে নিয়ে হাওড়ার নামী বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হন। তাঁরা ভালোভাবে পরীক্ষা করে জানান, আশার আলো আছে। দীর্ঘায়ু হবে রাকেশ, শুধু তার এক সহোদর দরকার।
স্নিগ্ধা নামে বোন হয় রাকেশের। তার বয়স ১ বছর হওয়ার আগেই চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে কর্ড ব্লাড সেল সংগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে, রাকেশের বাবার শরীর থেকে হ্যাপলো কর্ড ব্লাড নেওয়া হয়। এই দুটিকে মিশিয়ে রাকেশের শরীরে বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন করা হয়। এটাই সংক্ষেপে স্টেম সেল থেরাপি।
হাওড়া হাসপাতালের চিকিৎসকরা আরেক সন্তান গ্রহণের পরামর্শ দেন বাংলাদেশি দম্পতিকে। পরামর্শ মেনে আইভিএফ পদ্ধতিতে তাঁরা এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। স্নিগ্ধা নামে বোন হয় রাকেশের। তার বয়স ১ বছর হওয়ার আগেই চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে কর্ড ব্লাড সেল সংগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে, রাকেশের বাবার শরীর থেকে হ্যাপলো কর্ড ব্লাড নেওয়া হয়। এই দুটিকে মিশিয়ে রাকেশের শরীরে বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন করা হয়। এটাই সংক্ষেপে স্টেম সেল থেরাপি।
এই পদ্ধতিতে শরীরে নতুন রক্তকণিকা তৈরি হয়। ফলে বাইরে থেকে আর রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। সেই পদ্ধতিতেই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এখন সে সম্পূর্ণ থ্যালাসেমিয়া মুক্ত। বোন আর বাবার সাহায্যেই নবজন্ম পেল ৭ বছরের বাংলাদেশি শিশু। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি স্রেফ পুঁথি আর গবেষণায় সীমাবদ্ধ নেই। তার সুপ্রযুক্ত প্রয়োগ মানুষের মূল্যবান জীবন ফিরিয়ে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘তোলাবাজি করে খেতে হলে তৃণমূল করুন’, দুর্নীতি ইস্যুতে বিজেপি কর্মীদের হুঁশিয়ারি সুকান্তের
-
জাপানের পড়ুয়াদের সঙ্গে শিক্ষার আদানপ্রদান, জাতীয় শিক্ষক তকমা পাচ্ছেন ঝাড়গ্রামের শান্তনু পাত্র
-
মেয়ের নীলছবির ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন বাবাও! ‘কটেন্ট ক্রিয়েটর’ সুমাইয়াকে জেরা করে বিস্ফোরক তথ্য
-
বিশ্বকাপে ডাচদের কাছে হেরে অঙ্ক জটিল, তবুও কীভাবে সেমিফাইনালে যেতে পারে ভারত?
-
‘সিস্টেমের বিচ্যুতি, ষড়যন্ত্রের ছক’, অন্নপূর্ণা-বিক্ষোভ নিয়ে নতুন কথা শমীকের