Leader of Opposition in West Bengal

‘বহিষ্কৃত’ ঋতব্রত কীভাবে বিরোধী দলনেতা? হাই কোর্টে সওয়াল কল্যাণের

বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করার পর স্পিকারের তরফে কেন কোনও পৃথক বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হয়নি।

Advertisement
গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: জুন ১১, ২০২৬, ২১:০৪

options
link
‘বহিষ্কৃত’ ঋতব্রত কীভাবে বিরোধী দলনেতা? হাই কোর্টে সওয়াল কল্যাণের
ঋতব্রত নাকি শোভনদেব, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা মামলায় হাই কোর্টে শুনানি।

দল থেকে বহিষ্কৃত এক বিধায়ককে কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হল, বৃহস্পতিবার সেই প্রশ্নই উঠল কলকাতা হাই কোর্টে। সম্প্রতি, বিরোধী দলনেতা নির্ধারণ নিয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আদালতে তাঁর হয়ে সওয়াল করছেন তৃণমূলের সাংসদ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

তাঁর দাবি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যে বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাঁকে কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব? তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। সেই অবস্থায় দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে অন্য একজনকে ওই পদে বসানোর যৌক্তিকতা কোথায়?

Advertisement

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে আরও বলেন, স্পিকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার দিন পর্যন্ত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। এমনকি স্পিকারকে স্বাগত জানানো থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনাতেও তিনি বিরোধী দলনেতার ভূমিকাতেই উপস্থিত ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে কেন এবং কীসের ভিত্তিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই পদে স্বীকৃতি দেওয়া হল, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণ রাও-ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি জানতে চান, যদি কোনও রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে বহিষ্কার করে থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি কীভাবে বিরোধী দলনেতার পদে আসীন হতে পারেন?

Advertisement

একইসঙ্গে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করার পর স্পিকারের তরফে কেন কোনও পৃথক বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হয়নি। তার প্রেক্ষিতে, বিধানসভা শুরুর আগে নতুন করে আসন সংরক্ষণ না করার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। যদিও সেই আবেদনে মান্যতা দেয়নি আদালত। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য মামলার গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে, স্পিকারের অবস্থান এবং সিদ্ধান্তের পক্ষে বিস্তারিত বক্তব্য আদালতের সামনে তুলে ধরার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত হলফনামা দাখিল করতে চায়। সেই কারণে কিছু সময়ের আবেদন জানানো হয়। আদালত রাজ্যের সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ জুন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.