অর্ণব আইচ: কসবায় আইন কলেজে আইনের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মনোজিতের বিরুদ্ধে রয়েছে আরও অন্তত বারোটি মামলা। মারপিট, গোলমাল ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে এমনই জানালেন এই মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে হেফাজতে রেখে বিচারপর্ব বা ‘কাস্টডি ট্রায়াল’ শুরু হবে। তিনি আদালতে জানান, যদি এই বারোটি মামলায় আগে অভিযুক্ত মনোজিতের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হত, তাহলে এই দিনটা আর আসত না। কলেজে এত বড় ঘটনাও ঘটত না। তখন আলিপুর আদালতের বিচারক পাল্টা প্রশ্ন করেন, ২০২৩ সাল থেকে হওয়া এই বারোটি মামলায় পুলিশ কেন অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি? সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই এক নৌকার যাত্রী।
এদিন কসবা থানায় দায়ের হওয়া আরও দু’টি মামলায় মনোজিৎ মিশ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে একটি ২০২৩ সালে মারপিট ও শ্লীলতাহানির। অন্যটি ২০২৪ সালের মারপিট ও সংঘর্ষের অভিযোগের মামলা। অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী রাজু গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ২০২৩ সালের ঘটনাটির সময় মনোজিৎ আলিপুর আদালতেই একটি মামলা করছিলেন। প্রত্যেকটি মামলাই রাজনৈতিক সংঘর্ষের। মনোজিৎ রাজনীতির শিকার। যদিও এই দু’টি মামলায় আগেই পুলিশ চার্জশিট পেশ করেছে। তাই পুলিশের পক্ষ থেকে দু’টি মামলায় জেল হেফাজতে চাওয়া হলেও এই দু’টি মামলায় জামিন পেয়ে যায় মনোজিৎ। অন্য সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল আদালতে জানান, বুধবার অভিযুক্তদের ‘গেট প্যাটার্ন’ পরীক্ষার তারিখ। উল্লেখ্য, সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের সিসিটিভি থেকে উদ্ধার হওয়া ফুটেজে যাদের দেখা গিয়েছে, তারা যে মনোজিৎ ও অন্য অভিযুক্তরা, তা ‘গেট প্যাটার্ন’ পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা যাবে। অভিযুক্তদের হাঁটাচলার ছবি তুলে তা সিসিটিভির ফুটেজের সঙ্গে মেলানো হবে।
এদিন কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও কর্মী মনোজিৎ মিশ্র, দুই ছাত্র জায়েব আহমেদ, প্রমিত মুখোপাধ্যায় ও নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলিপুর এসিজেএম আদালতে তোলা হয়। মনোজিতের আইনজীবী রাজু গঙ্গোপাধ্যায় তার জামিনের আবেদন করেননি। বাকি তিনজনের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন জানান। পুলিশের পক্ষে অভিযুক্তদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার আবেদন জানানো হয়। দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক তাদের ৫ আগস্ট পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। মনোজিতের আইনজীবী জেলে মশারি, কম্বল, পর্যাপ্ত জল, হাওয়া, খাবার, সঙ্গে কাগজ, পেন, পেন্সিলের জন্য আবেদন জানান। সরকারি আইনজীবী জানান, পেন বা কাগজ হাতে পেয়ে অভিযুক্ত যেন নিজেকে ভাল ছাত্র বলে পরিচয় দিয়ে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা না করে। অভিযুক্তরা এখনও তদন্তে সাহায্য করছে না বলে সরকারি আইনজীবীর দাবি। ধৃত নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর দাবি, সে গার্ড রুমের বাইরে ছিল। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। সরকারি আইনজীবী জানান, বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে সে এই কাজে সাহায্যই করেছে। আদালতের নির্দেশ, অভিযুক্ত জেলে থাকাকালীন যা প্রয়োজন, তা তাঁকে দিতে হবে। আইনজীবী মনোজিতের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। মনোজিতকে জেলের ভিতর পুলিশ জেরা করার সময় আবেদন অনুযায়ী দু’জন আইনজীবী হাজির থাকতে পারবেন বলে নির্দেশ আদালতের।
সর্বশেষ খবর
-
প্রতীক কার! ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ ‘কালীঘাট তৃণমূলের’
-
গেরুয়া উত্তরীয় বনাম বোরখা, পোশাক নিয়ে বারাসত কলেজে সম্মুখ সমরে এবিভিপি-বজরং দল!
-
‘ভারতবিদ্বেষে’র হাওয়ায় প্রথম চিন সফর! কী বললেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক?
-
‘যে ইন্ডাস্ট্রিকে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা দিয়েছে…’, রণবীরকে কোণঠাসা প্রসঙ্গে বিস্ফোরক সুনীল
-
‘গুন্ডাদমন বিলে’ লুটের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তই সরকারের লক্ষ্য! কী রয়েছে খসড়ায়