Kolkata

প্রতিবেশীর গয়না ‘লুট’ করে উত্তরবঙ্গে প্রি-হানিমুন, ফিরে লিভ ইন করতে গিয়েই গ্রেপ্তার

শিলিগুড়ি ও কলকাতার কয়েকটি দোকানে তল্লাশি চালিয়ে কিছু গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি গয়নার সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০২৬, ১১:১১

options
link
প্রতিবেশীর গয়না ‘লুট’ করে উত্তরবঙ্গে প্রি-হানিমুন, ফিরে লিভ ইন করতে গিয়েই গ্রেপ্তার
আবেগহীন যুবকরাই চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে মেয়েদের

এ এক অন‌্য ‘বান্টি-বাবলি’র কাহিনী। প্রতিবেশীর বাড়িতে গয়না ‘লুঠ’ করে বান্ধবীকে নিয়ে উত্তরবঙ্গে পাড়ি। সেই গয়না বিক্রির টাকায় দার্জিলিং, কালিম্পং, লাটাগুড়ি, ডুয়ার্সের একাধিক জায়গায় দামী রিসর্ট আর হোম স্টে-তে বান্ধবীর সঙ্গে প্রি-হানিমুন। কলকাতায় ফিরেও বান্ধবীর সঙ্গে লিভ-ইন করছিল অনীক ভট্টাচার্য। সরশুনার একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অনীককে গ্রেপ্তার করলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। তার বান্ধবী সুস্মিতা হালদারকেও গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শিলিগুড়ি ও কলকাতার একাধিক সোনার দোকান থেকে ওই সোনার গয়নাগুলি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

Advertisement

আদালত ও পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, মে মাসের প্রথমদিকে সরশুনার একটি আবাসনের চারতলায় দরজার লক ভেঙে প্রায় ১৩ লাখ টাকার সোনার গয়না চুরি করে দুষ্কৃতী। খোয়া যায় টাকাও। ওই ফ্ল‌্যাট পরিষ্কার করতে এসে একজন এই চুরির ঘটনাটি দেখতে পান। যেহেতু ওই ফ্ল‌্যাটের মালিকের সঙ্গে অনীকের সম্পর্ক ভাল, তাই তিনি অনীককেই ফোন করে বিষয়টি জানান। অনীক নিজেকে ‘নির্দোষ’ প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে ১০০ ডায়ালে ফোন করে বলে, বাড়িতে একতলার ফ্ল‌্যাট ও চারতলার ফ্ল‌্যাটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দু’টি ফ্ল‌্যাটে এসে তদন্ত করে। কিন্তু অনীকের ফ্ল‌্যাটে সাজানো চুরির ঘটনা দেখে পুলিশের সন্দেহও হয়। যদিও তাকে তখন পুলিশ ধরেনি। চারতলার ফ্ল‌্যাটের মালিক সরশুনা থানায় অভিযোগ জানান। এর তদন্ত শুরু করেন লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের চুরি দমন শাখার আধিকারিকরা।

Advertisement

গোয়েন্দাদের সন্দেহ হয়, এই চুরির পিছনে বাইরের কেউ নেই। সিসিটিভির একটি ফুটেজে হেলমেট পরে একজনকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। সেই সূত্র ধরেই ওই আবাসনের একতলার বাসিন্দা অনীককেই গোয়েন্দা পুলিশের সন্দেহ হয়। বেগতিক বুঝে অনীকও তার মোবাইল বন্ধ করে দেয়। স্ত্রীর সঙ্গে অনীকের সম্পর্ক ভাল নয়। স্ত্রী জানতেন যে, সুস্মিতা নামে যুবতীর সঙ্গে অনীকের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু শহরজুড়ে তল্লাশি চালিয়েও দু’জনের সন্ধান মেলেনি। এর মধ্যে চারটি সিমকার্ড পাল্টায় অনীক। সেই সূত্র ধরে গোয়েন্দারা বুঝতে পারেন যে, বান্ধবী সুস্মিতা সঙ্গে নিয়ে পুরো উত্তরবঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে অভিযুক্ত। বিলাসবহুল রিসর্টে থাকা ও গাড়ি করে ঘোরার জন‌্য শিলিগুড়ির একটি দোকানে ওই ‘বান্টি-বাবলি’ দু’জন মিলেই গয়না বিক্রি করে। সপ্তাহ তিনেক ঘোরার পর একবার কলকাতায় এসে গয়না বিক্রি করে ফের দু’জন মিলে ডুয়ার্সে ঘুরতে শুরু করে।

Advertisement

মাসখানেকের উপর ঘোরাঘুরির পর তারা ফিরে আসে কলকাতায়। সরশুনারই একটি বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ‘লিভ ইন’ করতে শুরু করে। বান্ধবী সুস্মিতাকে অনীক প্রতিশ্রুতি দেয়, স্ত্রীর সঙ্গে তার ডিভোর্স হয়ে গেলেই তাকে অনীক বিয়ে করবে। সিম কার্ড পাল্টালেও ওই যুগলের মোবাইলের সূত্র ধরে গোয়েন্দারা বুঝতে পারেন, তারা কলকাতায় রয়েছে। সেই সূত্রে এলাকার বাসিন্দাদের সাহায‌্য নিয়ে গোয়েন্দারা সরশুনার বাড়িটি চিহ্নিত করে। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে অনীক ভট্টাচার্য ও সুস্মিতা হালদারকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। শিলিগুড়ি ও কলকাতার কয়েকটি দোকানে তল্লাশি চালিয়ে কিছু গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি গয়নার সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.