ভাগাড় আতঙ্কে হোটেলের মাংসে ভীতি, বাড়ছে মাছ-ডিম ও নিরামিষের চাহিদা  

সব ভাগাড়ে নজরদারি, পুরমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত শুরু।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৮, ১৭:১৬

options
link
ভাগাড় আতঙ্কে হোটেলের মাংসে ভীতি, বাড়ছে মাছ-ডিম ও নিরামিষের চাহিদা  

সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: অর্ডার দেওয়ার কথা ভাবলেই গা ঘিনঘিন করছে। ভয়-ঘেন্নায় মেনু কার্ডের চিকেন, মটনের ‘অপশন’ থেকে মাংসপ্রেমীদের চোখ সরে যাচ্ছে নিমেষে। বজবজে ভাগাড় থেকে পচা মাংস হোটেলে খাবারের প্লেটে চালান হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতে এমনই দৃশ্য কলকাতার ছোটখাটো হোটেল থেকে শুরু করে নামীদামি রেস্তরাঁয়। ভোজনরসিক মাংসপ্রেমীরা পণ করেছেন ফুটপাতে চিকেন-মটন রোল, চাউমিন হোক কিংবা পার্কস্ট্রিট বা শহরের অন্য জায়গার পাঁচতারা হোটেলের স্বাদে ভরপুর মটন রোগান জোশ, বিরিয়ানি- মাংস দিয়ে উদরপূর্তি, নৈব নৈব চ।

Advertisement

মানুষের মনে পচা মাংস খাওয়ার এই আতঙ্কের জেরে একধাক্কায় কমে গিয়েছে রেস্তরাঁয় মাংস বিক্রি। সকাল থেকে মাংস বিক্রি অনেক কম বলে স্বীকার করছেন ওয়েটাররা। উলটোদিকে সাউথ ইন্ডিয়ান এবং নিরামিষ রেস্তরাঁয় ভিড় বাড়ছে। বিক্রি বেড়েছে মাছ ও ডিমের মেনুর। রেস্তরাঁয় মরা মুরগি বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল দিনকয়েক আগে। অভিযানে নামে পুরসভাও। বজবজের ভাগাড়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বজবজ পুরসভার দুই কর্মীকেই। এর জেরে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। একইসঙ্গে রাজ্যের সমস্ত ভাগাড়ে কড়া নজরদারিরও নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, প্রতিটি ভাগাড়েই কড়া নজর রাখতে হবে। কারণ, যে ভাগাড়ে এই কেলেঙ্কারি ধরা পড়েছে, সেটি বজবজ পৌর এলাকায় এবং ধৃতরা পুরকর্মী। এদিনও একজন গ্রেপ্তার হয়েছে।

Advertisement

[বাড়াতে হবে মনোনয়নের দিন, নয়া ভোট নির্ঘণ্ট প্রকাশের নির্দেশ আদালতের]

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ থানায়। অভিযোগ, ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া মরা পশুর মাংস সকলের নজর এড়িয়ে পাচারের কাজ চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হয় বজবজ পুরসভার দুই কর্মী রাজা মল্লিক ও মিশেল শ্যামলাল। ওইদিন মাংস পাচারের সময় ভাগাড়ের সামনেই তাদের গাড়ির চাকা কাদায় আটকে যায়। তা তুলতে গিয়ে গাড়ির পিছনের ডিকি খুলে যায়। তার ভিতরে রাখা মাংস দেখতে পেয়ে ছুটে আসে এলাকার মানুষ। তারাই তাদের ধরে মারধর দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। শুক্রবার ফের আরও এক অভিযুক্ত নিতাই খাঁড়াকে আটক করে পুলিশ। তাকে আপাতত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জেরার মুখে নিতাই মাংস পাচারের সঙ্গে যুক্ত আরও চার-পাঁচজনের নাম জানায়। সানি নামে আরও একজন রয়েছে সন্দেহের তালিকায়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এর পিছনে একটা বড় চক্র কাজ করছে। সব মিলিয়ে ১০-১২ জনের একটা দল রয়েছে। যারা এভাবে বেআইনি মাংস পাচার করে। কোন কোন হোটেলে এই মাংস গিয়েছে তা অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছে বজবজ থানা। বৃহস্পতিবার জেরায় রাজা স্বীকার করে যে, সে-ই নিতাই-সানিকে ভাগাড় থেকে তোলা মরা পশু সরবরাহ করত। নিতাই আর সানি সেই মাংস ধুয়ে কেটেকুটে ‘সাইজ’ করত। মাঝে মাঝে রাজু নামে এক যুবকও আসত। আর সাফসুতরো ছোট ছোট পিসের মাংস হোটেল-রেস্তরাঁয় পৌঁছে দেওয়ার ভার ছিল গাড়িচালক শ্যামলালের উপর। বেহালার কবরডাঙায় তারই বাড়িতে পচা মাংস ‘প্রসেস’ করা হত। মূলত, দক্ষিণ শহরতলির বেশ কিছু হোটেল-রেস্তরাঁ ছিল তাদের খদ্দের। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ আরও জানতে পারে যে তারা সরাসরি রেস্তরাঁয় মাংস পাচার করত না।

[আইপিএল ম্যাচে বাজি ধরে সর্বস্বান্ত, ফাঁসিদেওয়ায় আত্মঘাতী যুবক]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.