Kolkata Police

লক্ষ লক্ষ টাকা চুরি করে বান্ধবীদের নিয়ে ফুর্তি, একবালপুরে পুলিশের জালে ‘গুণধর’ আসিফ

ওই চুরির জেরে সংসারে অশান্তি। কানাডা থেকে কাঁদতে কাঁদতে ফিরতে হল গৃহবধূকে।

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২৬, ০০:০২

options
link
লক্ষ লক্ষ টাকা  চুরি করে বান্ধবীদের নিয়ে ফুর্তি, একবালপুরে পুলিশের জালে ‘গুণধর’ আসিফ
নিজস্ব চিত্র।

৩৫ লাখ টাকার সোনার গয়না ও নগদ হাতিয়ে নামী রিসর্টে গা ঢাকা। রিসর্টে ব‌্যবসায়ী পরিচয়ে একাধিক বান্ধবীর পিছনে লুঠের চার লাখ টাকা উড়িয়ে দিল ‘চোর’। অথচ একবালপুরে হওয়া এই চুরি ঘিরে কানাডায় শুরু হয় পারিবারিক বিবাদ। নববধূকে কাঁদতে কাঁদতে কানাডা থেকে চলে আসতে হয় কলকাতায়।

Advertisement

শেষ পর্যন্ত এই চুরির কিনারা করলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। রিসর্টের এক ভিলা থেকে অন‌্য ভিলায় পালিয়েও শেষরক্ষা হল না ২১ বছর বয়সেই অন্ধকার জগতে ‘নাম’ করে ফেলা আসিফ হোসেনের। তাকে গ্রেপ্তার করে তার বাড়ির ভিতর চোরাকুঠুরি থেকে বেশিরভাগ গয়না উদ্ধার করলেন লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের চুরি দমন শাখার আধিকারিকরা। এ ছাড়াও উদ্ধার হয় একগোছা চাবি, যেগুলি ব‌্যবহার করেই চুরি করত সে।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, একবালপুরের এম এম আলি রোডের বাসিন্দা দম্পতি বাড়ির দরজায় ‘টেপা তালা’ লাগিয়ে কাজে বেরিয়েছিলেন। সন্ধ‌্যায় বাড়ি ফিরে দেখেন, বাইরের তালা বন্ধ। অথচ আলমারি খোলা। ভিতর থেকে লুঠ হয়েছে ২০১ গ্রাম সোনার গয়না ও নগদ চার লাখ টাকা। ওই টাকা ও গয়না ওই দম্পতির নববিবাহিতা মেয়ের। বিয়ের পর মা-বাবার কাছেই সোনা-টাকা গচ্ছিত রেখে স্বামীর সঙ্গে কানাডায় চলে যান মেয়ে। পুলিশের কাছে খবর, বিদেশে বসে চুরির খবর শুনেই নতুন জামাইয়ের সন্দেহ হয় তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির উপরই। তাঁদেরই ‘চোর’ অপবাদ দেন জামাই। নবদম্পতির পারিবারিক বিবাদে এমনই পরিস্থিতি হয় যে, নববধূ কানাডা থেকে কাঁদতে কাঁদতে একবালপুরে চলে আসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে একবালপুর থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের হয়। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তভার হাতে নিয়ে এলাকার সিসিটিভির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে। পূর্ব কলকাতার এন্টালির বিবিবাগানের আসিফকে গোয়েন্দারা শনাক্ত করেন।

Advertisement

গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, আসিফ গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে রাজারহাট এলাকার একটি নামী রিসর্টে। ব‌্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে সেখানে একাধিক বান্ধবীকে নিয়ে গিয়ে এন্তার ফূর্তি করছে সে। এভাবে গত কয়েক দিনে ওই রিসর্টেই প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছে সে। তার রুম শনাক্ত করে গোয়েন্দারা হানা দিতেই এক ভিলা থেকে অন‌্য ভিলায় পালাতে থাকে সে। রীতিমতো চোর-পুলিশে লুকোচুরি খেলা শুরু হয় রিসর্টে। যদিও একটি ভিলা থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দারা। সে জানায়, পুরো নগদ টাকাই সে উড়িয়েছে। প্রথমে তাকে জেরা করেও সোনা উদ্ধার করা যায়নি। কিন্তু সোমবার তার বাড়ির চোরাকুঠুরিতে হানা দিয়ে ১৭২ গ্রাম সোনা গোয়েন্দারা উদ্ধার করেন। তার নেশা করার জায়গা ওই চোরাকুঠুরির ভিতর একটি কোণ থেকে উদ্ধার হয় সেই সোনা। সেগুলি বিক্রি করার জন‌্য ছক কষছিল সে। তাকে জেরা করে বাকি গয়না উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.