অর্ণব আইচ: হায়দরাবাদে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে খুনের ঘটনার জেরে সতর্ক হল কলকাতা পুলিশ। শনিবার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা কলকাতা পুলিশের প্রত্যেক ডেপুটি কমিশনার, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ও থানার ওসিদের সতর্কবার্তা পাঠান।
পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, হায়দরাবাদে এক মহিলার উপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। কলকাতা পুলিশের প্রত্যেক ডিসি, এসি ও ওসিকে বলা হচ্ছে তাঁরা যেন তাঁদের অফিসার ও অধস্তন কর্মীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেন। মহিলাদের উপর কোনও অত্যাচারের অভিযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গেই যেন কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দ্বিতীয় ভাবনা ছাড়াই অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতিমধ্যে মহিলাদের উপর নির্যাতন নিয়ে প্রত্যেকটি থানাকে এসওপি বা বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশগুলি যেন অতি অবশ্যই মানা হয়। প্রত্যেকটি থানার ডিউটি অফিসার, বিট অফিসার, পেট্রোল পার্টিকে যেন থানার ওসিরা বিশেষভাবে সতর্ক করেন। পুলিশ বাহিনীর প্রত্যেকেই যেন এই নির্দেশ মেনে চলে। পুলিশ কমিশনারের এই নির্দেশ পাওয়ার পর প্রত্যেক থানার ওসি পুলিশ কর্মী ও অফিসারদের নিয়ে বৈঠক করেন।
সম্প্রতি শহরে পরপর মহিলাদের উপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পঞ্চসায়রে একটি হোম থেকে পালিয়ে যাওয়া মহিলাকে গাড়িতে তুলে নরেন্দ্রপুরে নিয়ে গিয়ে তাকে গণধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনায় গাড়ির চালক ও তার সঙ্গী এক নাবালক গ্রেপ্তার হয়েছে। তার কয়েকদিন যেতে না যেতেই দুই নাবালিকাকে আদি গঙ্গার ঘাটে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালায় এক যুবক ও তার সঙ্গী দুই নাবালক। তারা প্রত্যেকে ধরা পড়েছে পুলিশের হাতে। এরপর থেকে পুলিশ আরও সতর্ক ছিল। লালবাজারের এক কর্তা জানান, তেজস্বিনী প্রকল্পের আওতায় শহরের মহিলাদের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে শ্লীলতাহানি বা যে কোনও নির্যাতনের হাত থেকে তাঁরা নিজেদের নিজেরা বাঁচাতে পারেন। এছাড়াও রয়েছে পুলিশের রেসপেক্ট উইম্যান প্রকল্প। কিন্তু হায়দরাবাদের ঘটনাটি ঘটার পরে কলকাতা পুলিশ আর কোন ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। তাই থানার ওসিরা ইতিমধ্যেই নিজেদের এলাকায় যে রাস্তাগুলি রাতে বেশি নির্জন, সেগুলির ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করেছেন। থানার নাইট অফিসারদের বলা হয়েছে, তাঁরা যেন ওই অঞ্চলগুলিতে বেশি করে টহল দেন। এছাড়াও বাইক নিয়ে যে পুলিশকর্মীরা রাতে টহল দেন, তাঁদেরও এলাকাগুলির উপর বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।
[আরও পড়ুন: রাজ্য সরকারের নয়া উদ্যোগ, এবার রেশনেই মিলবে মহার্ঘ্য পিঁয়াজ]
এখন বেশি রাতে বহু মহিলা কাজ সেরে বাড়ি ফেরেন। রাতে বাস না পেলে শেয়ার ট্যাক্সি বা অ্যাপ ক্যাবে ফিরতে হয়। চলন্ত গাড়িতে যাতে তাঁরা কোনও হামলার শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে। কোন মহিলার চিৎকার কানে এলেই পুলিশকর্মীদের বলা হয়েছে সেই গাড়ির পিছু নিতে। শহরের আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় বেশি সংখ্যক সিসিটিভি বসানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
মুড়ি-মুড়কির মতো ‘দানধ্যান’, অন্নপূর্ণা বিক্ষোভে তৃণমূলকেই দুষলেন দিলীপ
-
আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি ভোগাবে কলকাতাবাসীকে! রবিবার থেকে দুর্যোগের হলুদ সতর্কতা দক্ষিণবঙ্গে
-
নবভারত নির্মাণের রাস্তা দেখাতে পারে, অরোভিল হোক ‘জেন জি’-র প্রেরণা!
-
২৫ কোটির চুক্তি না পেলে টিভিতে সম্প্রচার নয়, কোথায় আইএসএল দেখাতে চায় ক্লাবগুলি?
-
‘আজকাল সবারই সুগার, মিষ্টি ক’জন খায়?’, চিনির মূল্যবৃদ্ধিতে না ঘাবড়ানোর পরামর্শ বিহারের মন্ত্রীর!