অর্ণব আইচ: মেটিয়াবুরুজে নিখোঁজ কিশোরীর উদ্দেশে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। লালবাজার জানিয়েছে, গত বছরের জুন মাসে নিখোঁজ হয় ওই অঞ্চলের এক নাবালিকা। ওই কিশোরীর সন্ধানে মেটিয়াবুরুজ, গার্ডেনরিচ-সহ শহরের বেশ কিছু জায়গায় পুলিশ তল্লাশি চালায়। পুলিশের দাবি, কিশোরীর নিখোঁজ-কাণ্ড ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় গুজব ছড়ানো হচ্ছে। মঙ্গলবার টুইট করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান জানান, “বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়িয়েছে যে এক নাবালিকাকে মেটিয়াবুরুজে আটকে রাখা হয়েছে ও পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালাতে ভয় পাচ্ছে। যে গুজব সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারে, তাকে বিশ্বাস করবেন না।”
এদিন লালবাজারেও গোয়েন্দাপ্রধান প্রবীণ ত্রিপাঠী বলেন, “কেউ এই ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ালে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই গুজব ছড়িয়েছে, তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের সাইবার থানা তদন্ত শুরু করেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরও কয়েকজনকে ডেকে মেসেজ মুছে দেওয়া হয়েছিল। গুজব ছড়ানো বন্ধ করা হয়েছিল।” পুলিশের মতে, কাশ্মীরের কাঠুয়ার ঘটনার পর কেউ ফের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই গুজব ছড়াতে শুরু করেছে। পুলিশ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
[কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, ব্যাহত ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা]
গোয়েন্দাপ্রধান জানান, গত বছরের ৮ জুন গার্ডেনরিচ থানায় ওই এলাকার এক বাসিন্দা মিসিং ডায়েরি করেন। জানান, তাঁর ১৬ বছরের কিশোরী মেয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত একই দিনে ওই নাবালিকার এক বন্ধুর বাড়িতেই তার সন্ধান মেলে। মেয়েটিকে থানায় নিয়ে আসা হয়। অভিভাবকদের হাতে পুলিশ তাকে তুলে দেয়। এর পরের দিন ৯ জুন বাথরুমে যাওয়ার নাম করে ফের কিশোরী নিখোঁজ হয়ে যায়।
লালবাজারের মিসিং পার্সন স্কোয়াডে বিষয়টি জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী নাবালিকা হওয়ার কারণে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষে মিসিং পার্সন স্কোয়াড ও গুন্ডাদমন শাখার আধিকারিকরা তল্লাশি চালাতে শুরু করেন। তল্লাশি চালান গার্ডেনরিচ থানার আধিকারিকরাও। ওই অঞ্চলে যার যার বাড়িতে ওই কিশোরী থাকতে পারে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে, তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। খোঁজ নেওয়া হয় কয়েকজন আত্মীয়ের বাড়িতেও। এর মধ্যেই গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওই নাবালিকার বাবা হাই কোর্টে আবেদন জানিয়ে বলেন, তাঁর মেয়েকে আটকে রেখেছে মেয়ের কয়েকজন পরিচিত। মেয়েকে উদ্ধার করতে পারছে না পুলিশ। অথচ পুলিশ যে নাবালিকার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে, তার ভিডিওগ্রাফিও পুলিশের কাছে রয়েছে। প্রত্যেকটি হাসপাতাল ও মর্গেও খোঁজখবর নেওয়া হয়।
[প্রেমিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে নাবালিকাকে পাচারের ছক, গ্রেপ্তার ১]
কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর দক্ষিণ বন্দর থানা গঙ্গা থেকে এক কিশোরী বা তরুণীর দেহ উদ্ধার করে। তখন তার পরিচয় মেলেনি। দেহটির দাঁত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই দাঁতের ডিএনএ পরীক্ষা করে দেহটি ওই কিশোরীর কিনা, তা শনাক্ত করা হবে। এখনও পুলিশ ওই নাবালিকার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। গার্ডেনরিচ থানা ও গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ টিম কলকাতা ও তার আশপাশে ওই নাবালিকার খোঁজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
‘ইসলামই শ্রেষ্ঠ’, মন্তব্য কর্নাটকের মন্ত্রীর, হিন্দু ধর্মকে হেয় করার অভিযোগ বিজেপির
-
ঠোঁটে সারাক্ষণ কৃষ্ণনাম, সাধু বেশে আশ্রয় নিয়ে একের পর এক মঠে লুট! তারপর…
-
নেপালের দুর্যোগে ভাসবে উত্তরপ্রদেশ? ফুঁসছে নারায়ণী-গণ্ডক, প্লাবনের শঙ্কায় সতর্কতা একাধিক জেলায়
-
পাথর হয়েছিল পিত্তথলিতে, অস্ত্রোপচার হল অ্যাপেনডিক্স! কাঠগড়ায় এনআরএস হাসপাতাল
-
হবু স্ত্রী ইউরোপের রাজকন্যা! বিলাওয়াল ভুট্টোর বিয়ে নিয়ে জল্পনা, কী বলছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি?