Mamata Banerjee

থাকতে চাইছে না কেউ! দলের শৃঙ্খলারক্ষায় অরূপ, ফিরহাদের জায়গায় এবার কাদের দায়িত্ব দিলেন মমতা?

নতুন করে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি তৈরি করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুন ২০, ২০২৬, ২০:০০

options
link
থাকতে চাইছে না কেউ! দলের শৃঙ্খলারক্ষায় অরূপ, ফিরহাদের জায়গায় এবার কাদের দায়িত্ব দিলেন মমতা?
ফাইল ছবি।

দলে থাকতে চাইছেন না কেউই। একে একে সাংগঠনিক দায়িত্ব ছাড়তে চেয়ে চিঠি পাঠাচ্ছেন নেতারা। দলও ছাড়ছেন কেউ কেউ। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তৈরি করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কমিটিতে রাখা হয়েছে দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন, অসীমা পাত্র, শুভাশিস চক্রবর্তী ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। কাউকে এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়নি। ডেরেককে কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই নতুন কমিটিও কতদিন স্থায়ী হয় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Advertisement

তৃণমূলে এখনও ভাঙন অব্যাহত। এই আবহে আজ কালীঘাটে জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হয়। এই বৈঠকে ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কমিটির সদস্যরা। এদিনই সাংসদ নাদিমুল হককে জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Advertisement

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে শৃঙ্খলারক্ষায় ৩টি কমিটি গঠন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। একটি সংসদীয়, একটি পরিষদীয় এবং একটি দলীয় স্তরে কাজ করত। কিন্তু বর্তমানে দলের ভাঙনের কারণে এই তিন কমিটিতে থাকা অনেকেই বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। তাই এবার নতুন একটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তৈরি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের এই কমিটিতে আগে ছিলেন সুব্রত বক্সি, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, সুজিত বসু ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সুব্রত বক্সি অসুস্থ, তাই তাঁকে বর্তমানে দলের কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। অরূপ ও ফিরহাদও বেসুরো গাইছেন। সুজিত বসু বর্তমানে জেলবন্দি। আর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে দলের সভানেত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। সেই কারণে এবার দোলা, ডেরেক, শোভেনদেবদের শৃঙ্খলারক্ষার দায়িত্ব দিলেন তিনি।

Advertisement

রাজ্যে পালাবদলের দিন কয়েকের মধ্যেই দলের সব কমিটি ভেঙে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর রাজ্য-সহ সব জেলায় নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়। এই সব কমিটিতে মূলত প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদেরই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ সুপ্রিমো। কিন্তু মনে হচ্ছে, মমতার সঙ্গে আর থাকতে চাইছেন না কেউই। নতুন কমিটি থেকেও একে একে ইস্তফা দিচ্ছেন মমতাপন্থী নেতারা। দায়িত্ব পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রদীপ সরকার। এরপরই একে একে পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতির দায়িত্ব ছাড়েন যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর জনরোষের শিকার হচ্ছেন একের পর এক তৃণমূল নেতা। দুর্নীতির অভিযোগে চলছে ধরপাকড়। এছাড়াও চলছে ডিম থেরাপি। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ‘কালীঘাট তৃণমূলে’ থেকে যাওয়া প্রবীণ নেতাদের উপর দল আস্থা রাখতে মরিয়া চেষ্টা করলেও, ‘ডিম থেরাপি’র ভয়ে এবার একে একে পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন অনেকেই! এই আবহে নতুন কমিটি গঠন করে দলকে ধরে রাখার চেষ্টা করে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাই এবার শৃঙ্খলারক্ষায় দলের বিশ্বস্তদের উপর ভরসা রাখলেন তিনি। যদিও এই কমিটিও কতদিন স্থায়ী হয় সেটাই দেখার।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.