KK

ফুসফুস, লিভার, পাকস্থলী-সহ সব অঙ্গ উলটোদিকে! পরিণতি হতে পারত কেকে’র মতো

'মিরর ম্যানে'র অসুখ ধরতে পারেননি চিকিৎসকরাও।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১০, ২০২২, ১৬:৪১

options
link
ফুসফুস, লিভার, পাকস্থলী-সহ সব অঙ্গ উলটোদিকে! পরিণতি হতে পারত কেকে’র মতো

অভিরূপ দাস: আচমকা রাস্তায় বুকে ব্যথা। হৃদরোগে আক্রান্ত হলে সিপিআর দেওয়াই দস্তুর। কিন্তু সিপিআর দিয়েও এ রোগীকে বাঁচানো যেত না। হার্টই তো উলটোদিকে! তা কী করে জানবেন বাইরের লোকেরা? সংগীতশিল্পী কেকে’র মতোই অবস্থা হতে পারত শহরের ‘মিরর ম্যানে’র!

Advertisement

শুধু হার্ট নয়, তাঁর ফুসফুস, লিভার, প্লীহা, গলব্লাডার, পাকস্থলী, এপেনডিক্স সব উলটোদিকে। শরীরের যেটা যেখানে থাকার কথা, সবই রয়েছে বিপরীত জায়গায়। চিকিৎসার পরিভাষায় যাকে বলে সাইটাস ইনভারসাস। আজব এই অসুখে আক্রান্ত দক্ষিণ কলকাতার কসবার অপূর্ব কুমার গোস্বামী। গলব্লাডার স্টোন হয়েছিল তাঁর। পেটে ব্যথা নিয়ে গিয়েছিলেন চিকিৎসকের কাছে। কিন্তু সামান্য সে অসুখ চিকিৎসক প্রথমটায় ধরতেই পারেননি। শরীরের উলটোদিকে গলব্লাডার কে জানবে! গলব্লাডার স্টোনের ব্যথাকে তাই পেশীর ব্যথা ভেবেছিলেন ওই চিকিৎসক। ব্যথা নাশক ক্রিমও দিয়েছিলেন। তা লাগিয়েও অবশ্য লাভ হয়নি।

Advertisement

[আরও পড়ুন: কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক, বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাই]

ব্যথা বাড়ছিল ক্রমশ। অপূর্ব গোস্বামীর কথায়, “মাসল পেন নয়, আমার সন্দেহ হয় নিশ্চয়ই অন্য কিছু হয়েছে। চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ায় গলব্লাডারে পুঁজ হয়ে যায়। সেখান থেকে জ্বর চলে আসে।” অবশেষে মুকুন্দপুরের বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি হন। সেখানেই মেলে চিকিৎসা। ডা. সুসেনজিৎ প্রসাদ মাহাতো, ডা. প্রসেনজিৎ দত্তর তত্ত্ববধানে অস্ত্রোপচার হয়। ডা. গৌতম দাস জানিয়েছেন, গলব্লাডারে পাথর থেকে জন্ডিস হয়ে গিয়েছিল রোগীর। এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোলানজিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি বা ইআরসিপি করা হয়েছে রোগীর। বসানো হয়েছে স্টেন। যা অস্ত্রোপচারের ৬ সপ্তাহ পরে খুলে নেওয়া হবে।

Advertisement

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপূর্ব কুমার গোস্বামীর সমস্ত অঙ্গ উলটোদিকে। ৫০ হাজারে একজনের এমনটা হয়। এক্ষেত্রে আচমকা হার্ট অ্যাটাক হলে কী হবে? এই ক’দিন আগে তিলোত্তমায় অনুষ্ঠান কর‍তে এসে মৃত্যু হয়েছে গায়ক কেকে’র। ডা. গৌতম দাস জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হলে CPR-এর অত্যন্ত প্রয়োজন। যার পূর্ণরূপ হল ‘কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন’। যা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এবং শ্বাসকষ্টের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে পারে। কারও শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে বুকের নির্দিষ্ট জায়গায় চাপ দিয়ে সিপিআর দেওয়া হয়, যার ফলে মানুষের জীবন বাঁচানো যায়। অপূর্ববাবুর হার্ট ডানদিকে হওয়ায় বাইরের কেউ তা জানতেন না। ভুল দিকে সিপিআর দিতেন। চিকিৎসকরা বলছেন, বুকে একটা আই কার্ড লাগিয়ে ঘুরতে হবে ‘মিরর ম্যান’কে। যেখানে লেখা থাকবে সব অঙ্গ উলটোদিকে।

[আরও পড়ুন: সস্তায় বিমানের টিকিট কাটতে চান? শিখে নিন ৬টি কৌশল]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.