স্বামী ভাগাড় চক্রের পাণ্ডা, জানার পর থেকেই রান্না বন্ধ ‘মাংস বিশু’র বাড়িতে

বজবজের ঘটনার পর থেকেই মাংস রান্না বন্ধ করে দিয়েছিলেন বিশ্বনাথের স্ত্রী।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৫, ২০১৮, ১২:১৩

options
link
স্বামী ভাগাড় চক্রের পাণ্ডা, জানার পর থেকেই রান্না বন্ধ ‘মাংস বিশু’র বাড়িতে

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: স্বামী পচা মাংস কারবারের পাণ্ডা। কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না সাধনা। গড়িয়ার বিশ্বনাথ ঘোড়ুই ওরফে ‘মাংস বিশু’র স্ত্রী। স্বামীর গ্রেপ্তারির পর থেকে নিজের প্রিয় পদের রান্নাই বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। শুনতে হচ্ছে প্রতিবেশীদের কটূ কথা। কিন্তু এখনও কিছুতেই স্বামীকে অপরাধী হিসেবে মানতে পারছেন না গড়িয়ার গৃহবধূ।

Advertisement

ভাগাড়ের পচা মাংসের কারবার করে এভাবেই কয়েক বছরে কোটিপতি দক্ষিণ শহরতলির গড়িয়ার বিশ্বনাথ ঘড়ুই। পচা মাংসের কারবারের সুবাদে ‘মাংস বিশু’ উপাধিও জুটেছে। পচা মাংসের কল্যাণে সোনারপুরের গঙ্গাজোয়ারার কাঠিপোঁতার আদিবাড়ির পাট চুকিয়ে গড়িয়ার পূর্ব তেঁতুলবেড়িয়ায় হাঁকিয়েছে পেল্লায় ইমারত। ভাগাড়ের মাংসের টাকা রাখার জায়গা নেই। তাই গড়িয়া স্টেশনের কাছে কিনেছে আরও একটি বড় ফ্ল্যাট। এখানেই শেষ নয়। পুলিশের কাছে খবর, সোনারপুরেই আরও দু’টি ফ্ল্যাট রয়েছে ‘মাংস বিশু’র। উপরন্তু কলকাতা ও আশপাশে বেশ কিছু জমিজিরেতও সে কিনে ফেলেছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

Advertisement

শিয়ালদহ এলাকায় থেকে মাছ বিক্রি করত বিশু। সারা দিনই কাজে ব্যস্ত থাকত। অনেক রাতে বাড়ি ফিরত বলেই জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তাঁদের কথায়, কেবল পুজোর সময় ছাড়া সেভাবে বিশ্বনাথ ঘোড়ুইয়ের দেখা মিলত। ঘটনার পর থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা। দোষ প্রমাণিত হলে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Advertisement

[ভাগাড় কাণ্ডে আতঙ্ক, পঞ্চায়েত ভোটের মেনু থেকে বাদ পড়ল মাংস]

বজবজের ভাগাড় কাণ্ড টেলিভিশনে দেখেছিলেন সাধনাও। গা ঘিনঘিন করে উঠেছিল তাঁর। তারপর থেকেই বাড়িতে মাংস রান্না বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অজান্তেই শাপশাপান্ত করেছিলেন পচা মাংসের কারবারিদের। কিন্তু সেই কারবারিদের মধ্যে যে তাঁর ঘরের মানুষটাও রয়েছে, এটা জানতেন না ‘মাংস বিশু’র স্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই দিশেহারা তিনি। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অকুলপাথারে। কী করবেন, ভেবে কূল পাচ্ছেন না।

Bhagar_p1
‘মাংস বিশু’র বাড়ি

এদিকে ‘মাংস বিশু’র প্রতিপত্তি ও টাকার জোর দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, তার কারবার এতদিন রমরমিয়ে চলেছে। চিংড়ির ব্যবসা করেই বড়লোক হতে শুরু করে বিশ্বনাথ। চিংড়ি কিনে তা ‘প্রসেস’ করে হিমঘরে রেখে চালান করত। চিংড়ির পর মাছ। মাছ কিনে বিভিন্ন জায়গায় চালান দিত সে। নারকেলডাঙার গ্যাস স্ট্রিটের কোল্ড স্টোরেজের আট নম্বর হিমঘর ভাড়া নিয়ে রাখত মাছ। যদিও নতুন করে পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ফরমালিনের মতো রাসায়নিক দিয়ে পুরনো বা পচা মাছ তাজা রাখার কারবার সে করত কি না। এই বিষয়ে তাকে বজবজ থানার পুলিশ জেরা করছে। বছর পাঁচেক আগে এই মাছের ব্যবসা করতে করতেই সে ভাগাড়ের মাংসের সন্ধান পায়। তার সঙ্গে যোগাযোগ হয় সানি, সিকন্দর, সারাফতের মতো কয়েকজনের। যেহেতু হিমঘর তার নিজের হাতে ও হিমঘরে কী রাখা হচ্ছে, সেই বিষয়ে কোনও নজরদারি নেই, তাই ভাগাড়ের মাংসের কারবার শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় সে। কীভাবে পচা মাংস তাজা রাখা যায়, তার জন্য কী কী রাসায়নিক ব্যবহার করতে হবে, তা জানতে রীতিমতো পাঠ নেয় সে। এর পর মাছের বদলে শুধু ভাগাড়ের পচা মাংসের দিকেই ঝোঁকে ‘মাংস বিশু’। নিয়োগ করে এজেন্ট। তাদের মাধ্যমেই কলকাতা থেকে বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে ভাগাড়ের পচা মাংস। এখন সারাফত,  সিকান্দার ও বিশ্বনাথকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করছেন তদন্তকারী ‘সিট’ সদস্যরা। শুক্রবার সিকন্দরকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিন পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

[ভাগাড়ের জীবাণু বাড়াচ্ছে আত্মহত্যার প্রবণতাও]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.