TMC Bank Account Freeze

তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে কাটমানি, তোলাবাজির টাকা! অরূপের চিঠির পরেই থানায় ‘ঋতপন্থী’ ১০ বিধায়ক

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভাঙনের মাঝে তবে কি সত্যিই একদা শাসক শিবিরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ হবে?

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুন ১৯, ২০২৬, ১৬:১০

options
link
তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে কাটমানি, তোলাবাজির টাকা! অরূপের চিঠির পরেই থানায় ‘ঋতপন্থী’ ১০ বিধায়ক
তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের দাবি। ফাইল ছবি

তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারে কোটি কোটি টাকার কাটমানি। তাই অবিলম্বে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হোক। বৃহস্পতিবারই সন্দেহপ্রকাশ করেন বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূলের’ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপরই বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে অভিযোগ দায়ের করলেন ‘ঋতপন্থী’ দশজন বিধায়ক। অবিলম্বে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরাও। তার ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভাঙনের মাঝে তবে কি সত্যিই একদা শাসক শিবিরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ হবে?

Advertisement

অরূপ বিশ্বাসের দাবি, ‘দলের মধ্যে ব্যাপক গন্ডগোল চলছে। সাংসদদের অনেকে দল ছেড়ে দিয়েছেন। আবার বিধায়কদের মধ্যে অনেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। ফলে দলের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে স্পষ্ট নয়। তাই এই অবস্থায় দলের অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখতে, সমস্ত লেনদেন বন্ধ রাখা হোক। না হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।’

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিতে HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি দেন অরূপ বিশ্বাস। আপাতত দলের তহবিলের অপব্যবহার রুখতে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আর্জিও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘দলের মধ্যে ব্যাপক গন্ডগোল চলছে। সাংসদদের অনেকে দল ছেড়ে দিয়েছেন। আবার বিধায়কদের মধ্যে অনেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। ফলে দলের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে স্পষ্ট নয়। তাই এই অবস্থায় দলের অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখতে, সমস্ত লেনদেন বন্ধ রাখা হোক। না হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।’ যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের পর নতুন যে কমিটি গড়েছেন, সেই কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ পদে অরূপের বদলে এনেছেন শুভাশিস চক্রবর্তীকে। ফলে অরূপ আদৌ তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে নিজেকে দাবি করতে পারেন কিনা, সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

Advertisement

মুখপাত্র কুণাল ঘোষও দাবি করেন, অরূপ বর্তমানে আর কোষাধ্যক্ষ নন। তাই তাঁর এই চিঠির কোনও সারবত্তাই নেই। এদিকে চিঠির বয়ান মোতাবেক অরূপ নিজেকেই কোষাধ্যক্ষ বলে দাবি করছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মমতার তৈরি নতুন কমিটি কি মানছেন না অরূপ বিশ্বাস? তবে কি তিনিও ‘বিদ্রোহী’দের তালিকায় নাম লেখালেন, সে প্রশ্ন উঠছে। বলে রাখা ভালো, এই মুহূর্তে দলের সংসদীয় এবং পরিষদীয় দলে ভাঙন ধরলেও দলের সংগঠনের রাশ নিজের হাতে রাখতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একে একে বিদ্রোহীদের সরিয়ে নিজের মতো করে দলকে সাজানোর চেষ্টা করছেন নেত্রী। দলের তহবিলের রাশও এতদিন কালীঘাটের হাতেই ছিল। অন্তত বিরোধী শিবিরের কেউ সরকারিভাবে তহবিলের উপর নিজেদের দাবি জানাননি। অরূপ বিশ্বাসের চিঠির পর অ্যাকাউন্টের ভবিষ্যৎ কী, সেদিকেই এখন নজর সকলের।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.