Gangasagar

গুরুর নির্দেশে ৭ বছর স্পিকটি নট! গঙ্গাসাগর ট্রানজিট ক‌্যাম্পে ‘মৌনীবাবা’কে নিয়ে হইচই

গুরুর নির্দেশ ১২ বছর ধরে নিশ্চুপ থাকতে হবে। মৌনীবাবা, এই নামেই সবাই ডাকছেন সাত বছর ধরে মৌনব্রত পালন করা এই সাধককে। গঙ্গাসাগর ট্রানজিট ক‌্যাম্পে নাগা সাধুদের ভিড়।

Advertisement
গৌতম ব্রহ্ম
গৌতম ব্রহ্ম

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১৫:৫৪

options
link
গুরুর নির্দেশে ৭ বছর স্পিকটি নট! গঙ্গাসাগর ট্রানজিট ক‌্যাম্পে ‘মৌনীবাবা’কে নিয়ে হইচই
খোসমেজাজে মৌনিবাবা। ছবি: পিন্টু প্রধান

এখনও জন্ম নেয় রূপকথা। নদীর মতো অনর্গল কথা বলে যাওয়া এক সাধক যদি গুরুর নির্দেশ হঠাৎ মৌনী হয়ে যান? এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির শিখরে পৌঁছে তূরীয় আনন্দে বিচরণ করেন? রূপকথা ছাড়া আর কিই বা বলা যায় তাকে।

Advertisement

‘মৌনীবাবা’, এই নামেই সবাই ডাকছেন সাত বছর ধরে মৌনব্রত পালন করা এই সাধককে। জানা গিয়েছে, মৌনীবাবা একটা সময় খুব কথা বলতেন। বেশি কথা বলা তো সাধকের আধ‌্যাত্মিক উন্নতির পথে অন্তরায়। তাই একবার কোনও এক সাধুসঙ্গ চলাকালীন কী এককথায়  গুরু অজয় ভারতীর মুখ দিয়ে ১২ বছর মৌন থাকার নির্দেশ বেরিয়ে যায়। গুরুর সেই নির্দেশ টানা ৭ বছর ধরে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলছেন মৌনীবাবা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

পাঁচবছর পর পূর্ণ হবে সেই ব্রত। তারপর? “মুঝে মৌন আচ্ছা লগতা হ্যায়।” বাবুঘাট সংলগ্ন গঙ্গাসাগর (Gangasagar) ট্রানজিট ক্যাম্পে বসে জানালেন মৌনীবাবা। সামনে পবিত্র ধুনি। হালকা হালকা ধোঁয়া। আঁচ ঢিমে হলেই তাতে কাঠ জোগাচ্ছেন শিষ্য হনুমান গিরি। তুষার ঘেরা কেদারধাম থেকে যমুনা বিধৌত বৃন্দাবন ধাম সর্বত্রই বাবার ছায়াসঙ্গী হনুমান গিরি। জানা গেল, ট্রানজিট ক্যাম্পে এলেও মৌনীবাবা গঙ্গাসাগর যাবেন না। কলকাতাতেই সংক্রান্তিতে ডুবকি লাগিয়ে ডেরা ডান্ডা তুলে রাধাকৃষ্ণের লীলাভূমির দিকে রওনা দেবেন। কথা না বললেও কেউ প্রশ্ন করলে বাবা ডায়েরিতে লিখে উত্তর দেন। সোমবার ক্যাম্পে গিয়ে দেখা গেল, হাতে ময়ূরপালকের গোছা নিয়ে সবার মাথায় ছোঁয়াচ্ছেন বাবা। আর ভক্তরা হাত বাড়ালে দুটো করে বিভূতি মাখা রুদ্রাক্ষ দিচ্ছেন। অসুস্থতা হোক বা ব্যবসায় ক্ষতি, বাবার একটাই ওষুধ, “শুধু ঈশ্বরের নাম কর। নিজেকে সমর্পণ কর তাঁর চরণে। তবেই মিলবে সব সমস‌্যা থেকে মুক্তি।” হইচই এই মৌনীবাবাকে নিয়ে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, এবার ট্রানজিট ক্যাম্পে ডেরা বেঁধেছেন প্রায় সাড়ে পাঁচশো সাধু সন্ত। কিন্তু, এসেছেন কয়েক হাজার। এদিন ক‌্যাম্পে ‘গঙ্গাসাগর (Gangasagar) সাধু মহাসংঘ’ স্বামী বিবেকানন্দর জন্মতিথি উদযাপিত হল। মহাসংঘের তরফে তারাপীঠের সমীরনাথ অঘোরী জানিয়েছেন, এবার সাধু সন্তের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। অনেক উচ্চকোটির সাধু এসেছেন। কেদারের মৌনীবাবা, কামাখ্যার নিত্যানন্দ গিরি। এসেছেন কিন্নরী আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর গায়ত্রীনন্দ গিরি, জুনা আখড়ার জলেশ্বর গিরি, পুনম গিরি, মঙ্গল গিরি, ললিতানন্দ গিরি। আছেন বাংলার সাধকরাও।

বনগাঁ থেকে পোষ্য হনুমান সঙ্গে নিয়ে এসেছেন তপস্যা গিরি। দুর্গাপুর থেকে মলয়ানন্দ গিরি। গোপালকে কোলে নিয়ে দোলনায় দুলছেন তিনি। রয়েছেন ধর্ষকদের গুলি করে মারার ইচ্ছে নিয়ে সর্বত‌্যাগী এক নাগা সন্ন্যাসিনীও। এ যে সত্যিই মিনি গঙ্গাসাগর। মিনি ভারতবর্ষ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.