Behala museum

নতুন সাজে বেহালার ‘অবহেলিত’ মিউজিয়াম, শিক্ষামূলক ভ্রমণকেন্দ্র করার পরিকল্পনা নবান্নের

সম্প্রতি মিউজিয়াম ঘুরে দেখে এসেছেন নবান্নের আধিকারিকরা। কোথায় কীভাবে আরও এই মিউজিয়ামকে সাজানো যায়, সেবিষয়ে তদারকি শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের থেকে চাওয়া হয়েছে রিপোর্টও।

নব্যেন্দু হাজরা
নব্যেন্দু হাজরা

শেষ আপডেট: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৮:৫৫

options
link
নতুন সাজে বেহালার ‘অবহেলিত’ মিউজিয়াম, শিক্ষামূলক ভ্রমণকেন্দ্র করার পরিকল্পনা নবান্নের
বেহালার স্টেট আর্কিওলজিক্যাল মিউজিয়াম।

জাদুঘর যাওয়া মানেই আমাদের চোখে এখনও ভেসে ওঠে পার্কস্ট্রিটের সুবিশাল সংগ্রহশালায় টিকিটের লাইনে মানুষের ভিড়। কিন্তু দেশ-বিদেশের মানুষ দূরে থাক, এ বাংলার অধিকাংশই জানেন না বেহালাতেও রয়েছে স্টেট আর্কিওলজিক্যাল মিউজিয়াম (রাজ্য পুরাতাত্ত্বিক সংগ্রহালয়)। কারণ প্রচারের অভাব। বেহালা বাজার মেট্রোগেটের পাশে অবস্থিত জাদুঘরে বাংলার প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, প্রাচীন পোড়ামাটির ভাস্কর্য এবং পাথর ও ব্রোঞ্জের একাধিক মূর্তি রয়েছে। রয়েছে অনেক অজানা ইতিহাস। এই স্টেট আর্কিওলজিক্যাল মিউজিয়ামকেই ফের নতুন করে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাখা হবে বহু প্রাচীন নথি, শিল্পকার্য্য। স্কুলপড়ুয়া থেকে অন্যান্য মানুষজনের কাছে এই মিউজিয়ামকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। মিউজিয়াম মানেই পার্কস্ট্রিট নয়! মিউজিয়াম মানে বেহালাও।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের বহু শতাব্দী প্রাচীন সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে এটি সকলেরই অবশ্য দ্রষ্টব্য একটি স্থান। ২০ টাকা প্রবেশমূল্য। জাদুঘরটি বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত খোলা থাকে।

ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষামূলক ভ্রমণের অন্যতম স্থান হিসাবে এই মিউজিয়ামকে আরও চিত্তাকর্ষক করে তুলতে চাইছে নবান্ন। এবিষয়ে স্কুলশিক্ষা-সহ একাধিক দপ্তরকে নিয়ে বৈঠকও করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মিউজিয়াম ঘুরে দেখে এসেছেন নবান্নের আধিকারিকরা। কোথায় কীভাবে আরও এই মিউজিয়ামকে সাজানো যায়, সেবিষয়ে তদারকি শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের থেকে চাওয়া হয়েছে রিপোর্টও। এক আধিকারিকের কথায়, আগের সরকার এই যাদুঘরটিকে রক্ষণাবেক্ষণ থেকে আরও ভালোভাবে সাজিয়ে তার প্রচার করা কিছুই করেনি। যে কারণে খুব একটা মানুষজন এখানে আসেননা। এখন এবিষয়ে নজর দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বহু শতাব্দী প্রাচীন সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে এটি সকলেরই অবশ্য দ্রষ্টব্য একটি স্থান। ২০ টাকা প্রবেশমূল্য। জাদুঘরটি বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত খোলা থাকে।

Advertisement

দোতলা এই ভবনের ভিতের রাজ্য প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের নিচতলায় দুটি প্রদর্শনী কক্ষ রয়েছে, যার প্রথমটিতে জলপাইগুড়ি, ফারাক্কা এবং মুর্শিদাবাদের পোড়ামাটির শিল্পকর্ম রয়েছে। একাদশ শতাব্দীর কিছু ভাস্কর্যের পাশাপাশি রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো পথিকৃৎদের ছবিও প্রদর্শিত হচ্ছে। তবে অনেককিছুই প্রদর্শিত হয়নি। সেগুলিও স্থান পাবে এই মিউজিয়ামে। অষ্টাদশ শতাব্দীর মুর্শিদাবাদের একটি হাতির দাঁতের দাবা সেট সম্ভবত প্রদর্শনীতে থাকা ইতিহাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় নিদর্শন। দ্বিতীয় প্রদর্শনী কক্ষটি পশ্চিমবঙ্গের চিত্রকলার, যেখানে একাদশ শতাব্দীর বিভিন্ন দেব-দেবীকে চিত্রিত করা চিত্রকর্ম রয়েছে। তাছাড়া এখানে গুপ্ত যুগসহ বিভিন্ন রাজবংশের মুদ্রা ও প্রত্নবস্তু রয়েছে এবং সাথে বাংলায় লেখা ব্যাখ্যাসহ কার্ডও আছে। দোতলায় বিভিন্ন দেব-দেবীর ভাস্কর্যে পরিপূর্ণ। নবম শতাব্দী থেকে শুরু করে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত বিভিন্ন শতাব্দীর বিষ্ণু, সূর্য, গঙ্গা, যমুনা, চামুণ্ডা, অগ্নি, গণেশের ভাস্কর্যগুলো দেখায় কীভাবে সময়ের সাথে সাথে কারুশিল্প এবং শিল্পের মাধ্যম পরিবর্তিত হয়েছে। এখানকার সবচেয়ে পুরোনো প্রদর্শনীটি হলো পোড়ামাটির মূর্তি, যা প্রথম শতাব্দীর বলে মনে করা হয়। কিন্তু প্রচারের অভাবে সাধারণ মানুষ অনেকেই জানেনই না বেহালায় রয়েছে এমন জাদুঘর। তাই মানুষের কাছে এই মিউজিয়ামকে আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে নবান্ন।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.