পুজোয় বিভাজনহীন মার্গের ভাবনায় সেজে উঠছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ

শিল্পী সুশান্ত পালের সাহসী ভাবনায় সেজে উঠছে মণ্ডপ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯, ১৭:২০

options
link
পুজোয় বিভাজনহীন মার্গের ভাবনায় সেজে উঠছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ

পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সেরা পুজোর লড়াইয়ে এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়৷ এমনই কিছু বাছাই করা সেরা পুজোর প্রস্তুতির সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির Sangbadpratidin.in৷ আজ পড়ুন রাজডাঙা নব উদয় সংঘ-এর প্রস্তুতি৷

Advertisement

সরোজ দরবার: সম্প্রীতি, সমন্বয় জাতীয় শব্দগুলির আজ বড় বেশি ঘেরাফেরা। তার নির্দিষ্ট কারণও আছে। কিন্তু কেমন হবে যদি এ শব্দগুলো না থাকে? থাকবে না তখনই, যখন মুছে যাবে বিভাজন। বিভাজন আছে বলেই সম্প্রীতির প্রয়োজন। যখনই আমরা সম্প্রীতির কথা বলি তখনই প্রচ্ছন্ন ভাবে এই বিভাজনকেও প্রশ্রয় দিয়ে ফেলি। এবার এই বিভাজনহীন এক ভাবনা নিয়েই আসছেন শিল্পী সুশান্ত পাল। তাঁর ভাবনায় সেজে উঠছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘের মণ্ডপ।

Advertisement

20170910_173955

Advertisement

পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে। পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে- এ তো আমাদের উপনিষদের শিক্ষা। অর্থা পূর্ণ থেকে পূর্ণ নিলে পূর্ণই থাকে। ব্রহ্ম পূর্ণ। অখণ্ড। তাঁর থেকে উদ্ভুত সবকিছুতেই আছে এই পূর্ণতা। অথচ আমরা, কালের নিয়মে এগোতে এগোতে, বিভাজনকেই প্রশ্রয় দিয়েছি। উদ্ভব হয়েছে তথাকথিত ধর্মের। যা যত না ধারণ করে, তার থেকে ধারণা ভাঙে বেশি। অর্থাৎ এই অখণ্ড পূর্ণতার ধারণা ভেঙে তা আমাদের আলাদা সম্প্রদায়ে ভাগ করে। আলাদা রীতি, আলাদা প্রথায় এক একটা দেওয়াল ওঠে। কখনও সে দেওয়ালের ওপার থেকে কোনও হাত এগিয়ে এসে এপারের কোনও আঙুল ছোঁয়। আমরা সম্প্রীতির বার্তায় উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠি। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে ওই দেওয়ালগুলি তো থাকারই কথা নয়। কেননা এপারের হাত আর ওপারের আঙুলে তো কোনও ফারাক নেই। শিল্পী সুশান্ত পাল তাই বিভাজন শব্দেই বিশ্বাস করেন না। যে বেড়া ভাঙার কথা যুগে যুগে মহাজনরা বলে গিয়েছেন, এবার তাই ফুটে উঠছে তাঁর সৃজনে। মণ্ডপে বেশ কয়েকটি দ্বার রেখেছেন শিল্পী। যা তথাকথিত ধর্মের এক একটিকে সূচিত করবে। দর্শনার্থীদের স্বাধীনতা থাকবে যে কোনও দ্বার দিয়ে প্রবেশ করার। যে দ্বারকেই বেছে নিন না কেন, গন্তব্য কিন্তু সেই মণ্ডপের অভ্যন্তরে। অর্থাৎ যত মত তত পথ থাকবে। কিন্তু মিলন সেই এক অখণ্ডতায়, পূর্ণতায়। এই ভাবনারই বাহ্যিক রূপায়ণ রাজডাঙা নব উদয় সংঘে। প্রায় ২২,০০০ স্কোয়ার ফুট জায়গা জুড়ে এই কাজ করেছেন শিল্পী। সাহসী এই থিম, যার নাম দেওয়া হয়েছে মার্গ, তা করতে ভরসা দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। শিল্পীর ভাবনার স্বাধীনতায় কোনওরকম প্রতিবন্ধকতা নেই। ফলে সাম্প্রতিক সময়ের এক জরুরি বার্তা নিয়েই হাজির হয়েছেন তিনি। আলো ও প্রতিমা সুশান্ত পালেরই। এই থিমের আবহ সৃজনে শুভ ও অনুপল।

20170910_174028

কলকাতার পুজোর মানচিত্রে সাম্প্রতিক অতীতে বেশ উজ্জ্বল রাজডাঙা নব উদয় সংঘ। অতীতে বাংলার তাঁতকে থিম করে রীতিমতো চমকে দিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। এবারের ভাবনাও যথেষ্ট দুঃসাহসিক। এই দর্শন দর্শনার্থীদের যতটা ভাবিত করবে, তাতেই হয়তো সূচিত হবে পুজোর সাফল্য।

দেখুন প্রস্তুতির ভিডিও:

ছবি- আশুতোষ পাত্র

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.