২১ জুলাই নিয়েও মিথ্যাচার! সচিত্র পরিচয়পত্র নয়, কোন দাবিতে ৯৩-এ মহাকরণ অভিযান মমতার?
একুশে জুলাইয়ের ইস্যুই বদলে দিয়েছেন মমতা!
ব্যাপারটা ঠিক কী? ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুবকংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযান হয়েছিল। তার ঠিক ২ বছর আগে ২৪৫ টা আসনে জিতে বাংলার ক্ষমতায় আসে সিপিএম। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেন জ্যোতি বসু। তারপরই কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়, ভোটে কারচুপি করা হয়েছিল। সেই সময়ই দাবি ওঠে সচিত্র পরিচয়পত্রের।
আরও পড়ুন:
তারপর পেরিয়েছে ৩৩ বছর। প্রতিবছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শহরের বুকে শহিদ স্মরণও হয়েছে। তবে এবারের ছবিটা একেবারে আলাদা। কারণ, পালাবদলের ফলে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বঙ্গ রাজনীতিতে কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন। এসবের মাঝেই প্রকাশ্যে একুশে জুলাইয়ের চরম সত্যি! যা মমতাকে 'মিথ্যেবাদী' প্রমাণে যথেষ্ঠ।
ব্যাপারটা ঠিক কী? ১৯৯৩ সালের ২২ জুলাই প্রকাশিত প্রতিটি সংবাদপত্র বলছে, মহাকরণ অভিযানের ইস্যু ছিল না সচিত্র ভোটার কার্ড। তাহলে? তথ্য বলছে, বাম অপশাসনের বিরুদ্ধেই সেদিন মহাকরণ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কর্মসূচির নাম ছিল 'মহাকরণ অবরোধ'। স্লোগান উঠেছিল, 'আইনের শাসন, নয় রাষ্ট্রপতি শাসন'। কিন্তু মমতার মুখে ইদানিংকালে তা শোনা যায়নি।
আরও পড়ুন:
কিন্তু একবাক্যে সকলে মমতার সুরেই সুর মেলালেন এতদিন? এর উত্তর ভীষণ সোজা। দলের নেতা-কর্মীদের সাহস ছিল না মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী বিরোধিতার। আর রইল আমজনতা? বর্তমান যুবপ্রজন্মের জন্মের আগের ঘটনা সেই মহাকরণ অভিযান। আর যারা সেই সময় তরতাজা যুবক, বর্তমানে তারা বয়সের ভারে ন্যুব্জ। স্মৃতির পাতায় এত পুরনো কথা না থাকাই স্বাভাবিক। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছেন মমতা।