দিনরাত গুটখা চিবোতেন। সেখান থেকেই মুখে ঘা। প্রথমটা গা করেননি হুগলির সীতারামবাবু। ঘা বাড়তে বাড়তে ভয়াল-ভয়াবহ। ‘কর্কটাসুর’ থাবা বসিয়েছিল দাঁতের গোড়ায়। উপায়? পুরো চোয়াল কেটে বাদ দিতে হবে! ফের টাইটেনিয়াম প্লেট দিয়ে নতুন করে তা তৈরি করতে হবে। লক্ষাধিক টাকার জটিল দুরূহ অস্ত্রোপচার বিনামূল্যে সফল হল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে (NRS Hospital)।
আরও পড়ুন:
হুগলির আরামবাগে বাড়ি বছর সাতান্নর সীতারামবাবুর। মুখের ঘা কমছিল না তাঁর। সন্দেহ হওয়ায় বায়োপসি করান স্থানীয় হাসপাতালে। ধরা পড়ে ক্যানসার। বেসরকারি হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচারের খরচ আকাশছোঁয়া। আর্থিক সামর্থ্য ছিল না সীতারামের। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের শল্য চিকিৎসা বিভাগের অধ্যাপক ডা. উৎপল দে জানিয়েছেন, “সীতারামের ডানদিকের চোয়ালের দু’নম্বর থেকে চার নম্বর দাঁতের গোড়ায় বাসা বেঁধেছিল ক্যানসার। বুঝতে পারি রোগীকে বাঁচাতে হলে চোয়াল শুদ্ধ পাঁচটা দাঁত কেটে বাদ দিতে হবে অস্ত্রোপচারে।”
ডানদিকের গলার লিম্ফনোডও ধরে নিয়েছিল ক্যানসার। অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। অত্যন্ত দুরূহ, জটিল এই অস্ত্রোপচার যেমন কঠিন তার খরচও আকাশছোঁয়া। বাংলার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে (NRS Hospital) বিনামূল্যে তা করল ইউনিট ফোর সার্জারি বিভাগ। ডা. উৎপল দের কথায়, “পাঁচটা দাত বাদ দিতে হয়। মুখের যে অংশে ক্যানসার ছড়িয়েছিল বাদ দিতে হয় সেটাও। অত্যন্ত সন্তপর্ণে গুরুত্বপূর্ণ শিরা-ধমনী বাঁচিয়ে লিম্ফনোড থেকেও বার করতে হয় ক্যানসারের কোষ। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে এমন ধমনী রয়েছে লিম্ফনোডের পাশে। ফলে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করে কাজ সাড়তে হয়।”
সকাল ন’টা থেকে শুরু হওয়া অস্ত্রোপচার শেষ হতে হতে বিকেল সাড়ে পাঁচটা। ডা. উৎপল দে-র কথায়, ‘‘শুধু কাটলেই তো হল না। আবার তৈরি করে দিতে হবে চোয়াল।’’ টাইটেনিয়াম প্লেট দিয়ে তৈরি করা হয় চোয়াল। স্ক্রু দিয়ে তা লাগানো হয়। পরে রেডিওথেরাপি হবে রোগীর। এমতাবস্থায় ঢাকতে হবে টাইটেনিয়াম প্লেটটা। বুকের পেশি তার ওপরের চামড়া রক্তনালি একসঙ্গে নিয়ে ঢাকা দেওয়া টাইটেনিয়াম প্লেট।
ডা. উৎপল দে জানিয়েছেন, গুটখার প্যাকেটের গায়ে ক্রেতাদের সচেতনতার জন্য একটা ছবি দেওয়া থাকে। তারপরেও অনেকেই গা করেন না। কিন্তু হুবহু সেই ছবির মতোই অবস্থা হয়েছিল সীতারামবাবুর। এহেন অস্ত্রোপচার শহরের বেসরকারি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে হয়। তার খরচ আকাশছোঁয়া। কিন্তু নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে একটাকাও খরচ হয়নি সীতারামবাবুর। বেসরকারি হাসপাতালে তিনটে টিম এই কাজ করে। জেনারেল সার্জারি, অঙ্কো সার্জারি এবং প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ। নীলরতনে তিনটে কাজই করেছে ইউনিট ফোর সার্জারি বিভাগ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
প্রতীক কার! ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ ‘কালীঘাট তৃণমূলের’
-
গেরুয়া উত্তরীয় বনাম বোরখা, পোশাক নিয়ে বারাসত কলেজে সম্মুখ সমরে এবিভিপি-বজরং দল!
-
‘ভারতবিদ্বেষে’র হাওয়ায় প্রথম চিন সফর! কী বললেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক?
-
‘যে ইন্ডাস্ট্রিকে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা দিয়েছে…’, রণবীরকে কোণঠাসা প্রসঙ্গে বিস্ফোরক সুনীল
-
‘গুন্ডাদমন বিলে’ লুটের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তই সরকারের লক্ষ্য! কী রয়েছে খসড়ায়