দুষ্কৃতী হানা, প্রাণের বিনিময়ে প্রভুর সম্পত্তি রক্ষা তিন সারমেয়র

একেই বলে প্রভুভক্তি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৯, ২০১৮, ১৯:৫৬

options
link
দুষ্কৃতী হানা, প্রাণের বিনিময়ে প্রভুর সম্পত্তি রক্ষা তিন সারমেয়র

ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, বারাসত:  একেই বলে প্রভুভক্তি। জীবন দিয়ে দুষ্কৃতীদের কবল থেকে মালিকের বাড়ি রক্ষা করল তিন পোষ্য। তবে দুষ্কৃতীরাও কম যায় না। লুটপাট চালাতে না পেরে প্রতিহিংসাবশত তিন সারমেয়কেই বিষ খাইয়ে দিল। ফলস্বরূপ মৃত্যু অবধারিত। তারা হল ভোলা, লালি ও বেঁড়ে। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বারাসতের দেগঙ্গা থানার ভাসলিয়া তেলিপাড়া গ্রামে। তিন পোষ্যের মালিক হলেন মফিজুল হক। এভাবে প্রিয় পোষ্যদের হারিয়ে তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সুবিচারের  আশায় সোমবার সকালে তিন সারমেয়র দেহ নিয়ে দেগঙ্গা থানায় ধরনা দেন মফিজুল। খুনের অভিযোগও দায়ের করেন।

Advertisement

[শহরে ফের নিপা আতঙ্ক, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভরতি আরও ১]

এহেন খুনের ঘটনায় পুরোনো রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন মফিজুল হক। তাঁকে ২৬ বছর আগে ঠিক একইভাবে প্রিয় পোষ্যদের হারাতে হয়েছিল। ইতিহাসের যেন পুনরাবৃত্তি হল। মফিজুলের দাবি, ১৯৯২ সালের ১৬ অক্টোবর একইভাবে পাঁচটি পোষা কুকুরকে বিষ খাইয়ে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় এক ডাকাত দল। সেই সময় সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। রবিবার রাতে তেমনই কিছু ঘটেছে। লিখিত অভিযোগ পোষ্যদের কর্তা জানিয়েছেন, সেদিন রাতে ভোলা, লালি ও বেঁড়ে খুব চিৎকার করছিল। চিৎকারের ধরন দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। বিছানা ছেড়ে বাড়ির বাইরে এসে আশপাশ খুব ভাল করে দেখেন। তবে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়েনি। তাই ফের ঘুমিয়ে যান তিনি। গভীর রতে আবারও চিৎকার শুরু করে তিন সারমেয়। এবার আর গুরুত্ব দেননি মফিজুল। সকালে ঘুম বাঙতে সারমেয়দের কোনও আওয়াজ পাননি গৃহকর্তা। বাড়ির বাইরে গিয়ে দেখেন একটি ঘরের তালা ভাঙা। তারই সামেন বসে কাঁপছে তিন সারমেয়। সঙ্গেসঙ্গেই স্থানীয় এক চিকিৎসককে ডেকে আনেন মফিজুল হক। পরীক্ষা করে ওই চিকিৎসক জনান, তিনজনকেই বিষ খাওয়ানো হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ভোলা, লালি ও বেঁড়ে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[চিকেন প্যাটিসে ছত্রাক, প্রতিবাদ করায় কলেজ পড়ুয়াকে মারধর]

গোটা ঘটনার সঙ্গে পুরনো ডাকাতির মিল খুঁজে পাচ্ছেন মফিজুল। তিনি জানান, তালা ভাঙা দেখেই বুঝেছি ডাকাতির ছক কষেছিল দুষ্কৃতীরা। কিন্তু লালি, ভোলা ও বেঁড়ে দুষ্কৃতীদের এগোতে দেয়নি। রাগের বশেই তিনজনকে বিষ খাইয়ে দেয় দুষ্কৃতীদের দলটি। তবুও হাল ছাড়েনি তিন পোষ্য। প্রভুর সম্পত্তি নির্বিঘ্নেই পাহারা দিয়ে গিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে দেগঙ্গা থানার পুলিশ।

Advertisement

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.