Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Maharaja’s Well

ভারতীয় রাজার দৌলতে তৃষ্ণা মেটে ইংল্যান্ডের গ্রামবাসীর, ১৬২ বছরের ‘মহারাজা কুয়ো’ আজও বিস্ময়

ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় এই প্রকল্পে প্রায় ৩৫৩ পাউন্ড খরচ হয়েছিল, অর্থাৎ বর্তমানের ভারতীয় মুদ্রার সঙ্গে তুলনা করলে তা দাঁড়ায় প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১৮:১১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১৮:১১

options
link
ভারতীয় রাজার দৌলতে তৃষ্ণা মেটে ইংল্যান্ডের গ্রামবাসীর, ১৬২ বছরের ‘মহারাজা কুয়ো’ আজও বিস্ময় zoom
৩৬৮ ফুট গভীর এই ঐতিহাসিক জলকূপটি পরিচিত ‘মহারাজা’স ওয়েল’ নামে।
Advertisement

বিদেশের মাটিতে ভারতের এমন এক নিদর্শন, যার সামনে দাঁড়ালে বিস্ময়ে বিস্ফারিত হয়ে ওঠে দুই চোখ। নেপথ্যে এক ভারতীয় মহারাজা। এই নিদর্শন কিন্তু কোনও গগনচুম্বী প্রাসাদ নয়, বাড়ি নয়, ফটক নয়— বরং এক কুয়ো! স্বাভাবিকভাবেই এত এই কুয়োর স্থাপনা, তা জানার জন্য উদ্বেল হয়ে ওঠে মন।

ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারের ছোট্ট গ্রাম স্টোক রো-তে দাঁড়িয়ে রয়েছে এমন এক কুয়ো, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের এক মহারাজার নাম। ৩৬৮ ফুট গভীর এই ঐতিহাসিক জলকূপটি পরিচিত ‘মহারাজা’স ওয়েল’ নামে (Maharaja’s Well)। ১৮৬০-এর দশকে বেনারসের মহারাজা ঈশ্বরী প্রসাদ নারায়ণ সিংহের অর্থসাহায্যে তৈরি হয়েছিল এটি। ১৮৬৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কুয়োটি উদ্বোধন করা হয়।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Maharaja’s Well: How an Indian Maharaja Helped a Drought-Hit English Village

চিলটার্ন হিলসের স্টোক রো-তে একসময় পানীয় জলের যথেষ্ট অভাব ছিল। স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতির কারণে শুষ্ক মরশুমে পুকুর শুকিয়ে যেত এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তরও ছিল অনেক গভীরে। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ভারতে কর্মরত ব্রিটিশ আধিকারিক এডওয়ার্ড অ্যান্ডারটন রিডে স্টোক রো-র জলকষ্টের কথা বেনারসের মহারাজার কাছে জানান। শোনা যায়, খরার সময় এক বাড়িতে থাকা শেষ জলটুকু পান করার অপরাধে এক শিশুকে শাস্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনাও তিনি মহারাজাকে জানিয়েছিলেন।

ঘটনাটি গভীরভাবে প্রভাবিত করে মহারাজাকে; তিনি গ্রামবাসীদের জন্য একটি কুয়ো তৈরির অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৮৬৩ সালে কুয়ো খোঁড়ার কাজ শুরু হয়। কেবলমাত্র হাতে খুঁড়েই প্রায় ৩৬৮ ফুট গভীরে পৌঁছনো হয়, যাতে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর পাওয়া যায়। ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় এই প্রকল্পে প্রায় ৩৫৩ পাউন্ড খরচ হয়েছিল এবং নির্মাণে প্রায় এক বছর সময় লাগে। অর্থাৎ বর্তমানের ভারতীয় মুদ্রার সঙ্গে তুলনা করলে তা দাঁড়ায় প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা!

পরে কুয়োটিকে ঘিরে তৈরি হয় একটি নকশাদার অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান শৈলীর প্যাভিলিয়ন। তার উপরে বসানো হয় একটি সোনালি হাতি, যা এই স্থাপনার সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্যগুলির অন্যতম। মহারাজা কুয়োটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কাছেই একটি চেরি বাগানও তৈরি করেছিলেন। সেটি পরিচিত ছিল ‘ইশ্রী বাগ’ নামে। বাগান থেকে যা আয় হত, তা কাজে লাগানো হত কুয়োটির দেখভালে।

Maharaja’s Well: How an Indian Maharaja Helped a Drought-Hit English Village

নির্ভরযোগ্য জলের উৎস তৈরি হওয়ায় স্টোক রো-তে বসতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে শুরু করে। ১৯২৭ সালে গ্রামে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ শুরু হলে ধীরে ধীরে কুয়োটির দৈনন্দিন ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব কমেনি।

১৯৬৪ সালে কুয়ো তৈরির শতবর্ষ উপলক্ষে স্টোক রো-তে প্রায় ১,৫০০ মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্স ফিলিপ। শতবর্ষ পেরিয়ে আজও ‘মহারাজা’স ওয়েল’ দাঁড়িয়ে রয়েছে একই জায়গায়—একটি ছোট্ট ইংরেজ গ্রামে ভারতীয় এক শাসকের মানবিক উদ্যোগের ১৬০ বছরেরও বেশি পুরনো স্মৃতির নিদর্শন হয়ে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.