Gangasagar Mela

গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ ঘোষণার প্রস্তাব, বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র গড়তে কেন্দ্রের সাহায্য চায় রাজ্য

রাজ্যের যুক্তি, প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী, সাধু-সন্ত এবং দেশ-বিদেশের পর্যটক গঙ্গাসাগরে সমবেত হন। মেলাটিকে ‘জাতীয় মেলা’র স্বীকৃতি দিলে ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নথিভুক্তকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার কাজ সহজ হবে।

নব্যেন্দু হাজরা
নব্যেন্দু হাজরা

শেষ আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১৪:০৩

options
link
গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ ঘোষণার প্রস্তাব, বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র গড়তে কেন্দ্রের সাহায্য চায় রাজ্য
গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ ঘোষণার প্রস্তাব, বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়তে কেন্দ্রের চায় রাজ্য

গঙ্গাসাগরকে ‘জাতীয় মেলা’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে কেন্দ্রকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছিল তৃণমূল সরকার। কিন্তু তাতে সবুজ সংকেত মেলেনি। এবার রাজ্যের বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের সংস্কৃতি মন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠালো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। একই সঙ্গে গঙ্গাসাগরকে বিশ্বমানের ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কেন্দ্রের পর্যটন মন্ত্রকের কাছে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে।

Advertisement

রাজ্য সরকারের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গঙ্গাসাগর মেলা (Gangasagar Mela) দেশের অন্যতম প্রাচীন, বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী, সাধু-সন্ত এবং দেশ-বিদেশের পর্যটক এখানে সমবেত হন। তাই মেলাটিকে ‘জাতীয় মেলা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে এর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বাড়বে এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নথিভুক্তকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার কাজ সহজ হবে। প্রস্তাবে মেলার নথিভুক্তকরণ, লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা কেন্দ্র গড়ে তোলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনীর আয়োজন এবং গঙ্গাসাগরের ঐতিহ্য প্রচারের জন্য কেন্দ্রের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

Advertisement

অন্যদিকে, কেন্দ্রের ‘প্রসাদ’ প্রকল্পের আওতায় গঙ্গাসাগরকে বিশ্বমানের ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। নবান্নের তরফে কেন্দ্রের পর্যটন সচিবকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমস্থলে অবস্থিত গঙ্গাসাগর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান এবং এর উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আধুনিক তীর্থযাত্রী পরিকাঠামো, পর্যটক সুবিধা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, স্মার্ট যানবাহন ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নদীতীর উন্নয়ন এবং জনসাধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পের জন্য পূর্ত দপ্তরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনে কেন্দ্রের পর্যটন মন্ত্রকের সহযোগিতায় ডিপিআর তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

Advertisement

চিঠিতে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে প্রকল্পটি দ্রুত বিবেচনা করে প্রসাদ প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। এতে গঙ্গাসাগরকে জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন একটি আধুনিক ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করা হয়েছে। ‘প্রসাদ’ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো সারা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানগুলোতে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ করা। রাজ্য সরকার আশা প্রকাশ করেছে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গঙ্গাসাগরের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্র ইতিবাচকভাবে এই দুই প্রস্তাব বিবেচনা করবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.