কবিপক্ষেই দেবীপক্ষ! পুজোপ্রেমীদের জন্য শহরে আসছে ‘দশভুজা’

একই ছাদের নিচে পুজো দেখা ও পেটপুজো।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৮, ২১:১৩

options
link
কবিপক্ষেই দেবীপক্ষ! পুজোপ্রেমীদের জন্য শহরে আসছে ‘দশভুজা’

শুভময় মণ্ডল: কবিপক্ষে দেবীপক্ষ! সে আবার কী? না, না মশাই ঠাট্টা নয়। শিল্পীর ভাবনায় এবার বছরভর মিলবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আস্বাদ। গোটা বছর, তাও আবার এক ছাদের নিচে। পুজোর থিম, পুজোর গন্ধে ম ম করবে চারপাশ। ভাবুন তো একবার! শহরের মধ্যেই বাঙালিয়ানায় ভূরিভোজের সঙ্গে দুর্গাপুজোর পরিবেশ। ভাবছেন কোথায় এবং কীভাবে? শহরের পুজোপ্রেমীদের জন্য এমনই বন্দোবস্ত করেছেন শিল্পী সায়ক রাজ। নিজেও তিনি যুক্ত দুর্গাপুজোর সঙ্গে। থিম করেছেন বহু পুজোর। এবার সারাবছরের জন্য পুজোপাগলদের সামনে তুলে ধরতে নিয়ে আসছেন শহরের প্রথম দুর্গাপুজো থিমড রেস্তরাঁ। আর পাঁচটা বাঙালি রেস্তরাঁর থেকে একেবারেই আলাদা। কারণ, এখানে শুধুই বাঙালি খানা-পিনা নয়। মিলবে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের খাবার। ভোগের খিচুড়ি, নানান রকম পিঠে ছাড়াও আরও অনেক কিছু। উপরি পাওনা গোটা রেস্তরাঁ জুড়ে দুর্গাপুজোর থিম। রেস্তরাঁর নাম ‘দশভুজা’। লালবাজারের পিছনে রাধাবাজারে ৭, ওল্ড কোর্ট হাউস কর্নারের তিনতলায় ৭ মে যাত্রাশুরু হবে রেস্তরাঁর। তার দুদিন পরই ২৫ বৈশাখ। বাঙালির প্রাণের মানুষ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। তাই কবিপক্ষেই দেবীপক্ষ চাক্ষুষ করতে পারবে পুজোপাগল বাঙালি।

Advertisement

b609b73f-3396-4282-9b06-b43eb914d1bf

Advertisement

প্রতিবছর পুজো এলেই মনটা উসখুস করে ওঠে। ওমা, উসখুস করবে কেন? বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব বলে কথা। দুর্গাপুজোর ওই চারটে দিনে কী মজা! ঘরে ঘরে আনন্দ। নতুন জামা-কাপড়, ঠাকুর দেখা, অষ্ঠমীতে অঞ্জলি, রোল-ফুচকা, দেদার আড্ডা। এমন আনন্দ আর কোনও কিছুতে আছে কি? ওই চারটে দিনের জন্যই বাঁচে বাঙালি। তাহলে মন উসখুস কেন? এই যে এত সব পুজোমণ্ডপ। এমন ঘটা করে সাজানো, গোছানো। কত থিম, নতুন চিন্তা-ভাবনা। পুজোর ক’টা দিন থিমশিল্পীদের দৌলতে দেশ-বিদেশের রকমারি শিল্প, সংস্কৃতি চলে আসে বাঙালির দুয়ারে। রাজস্থান থেকে রাশিয়া, চম্বল থেকে চিন, দেশ-বিদেশের হাজারো শিল্প দু’চোখ ভরে দেখা যায়। কিন্তু পুজো শেষ, সেই জৌলুসও শেষ। বিজয়া দশমীতে মায়ের কৈলাসযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে বিষাদের সুর বেজে ওঠে। নাও, এবার সব খুলে ফেলার পালা। দিনরাত এক করে, কয়েকমাসের কায়িক পরিশ্রমে তৈরি করা সৃষ্টি চোখের সামনে ধ্বংস হতে দেখতে হয় বহু থিমশিল্পীকে। তখন তাঁদের মনে একটাই আক্ষেপ রয়ে যায়, যদি এই এত মেহনতের কাজগুলি সংরক্ষণ করা যেত? সেই ভাবনা থেকেই শিল্পীর মাথায় আসে এমনই এক রেস্তরাঁর ভাবনা। সায়কবাবু বলেন, ‘রেস্তরাঁ তাঁর পারিবারিক ব্যবসা, আর দুর্গাপুজো ভালবাসা। তাই দুই ভাবনার সংমিশ্রণই হল এই দশভুজা রেস্তরাঁ। বিভিন্ন বিখ্যাত পুজোর থিমের অংশবিশেষ দিয়ে সাজানো হয়েছে গোটা রেস্তরাঁ। খাবারও আর পাঁচটা বাঙালি রেস্তরাঁর মতো নয়। বাঙালির পার্বণের খাবারগুলিই মিলবে এখানে।’ অনেকটা রথ দেখা, কলা বেচার মতো ব্যাপার। পুজো দেখা এবং পুজোর ভোজ দুই-ই এক ছাদের নিচে।

Advertisement
[থিমশিল্পর নয়া ঠিকানা ইকো পার্কের পুজো মিউজিয়াম ‘সংগ্রহ’]

c8f17cd7-14d5-4020-bd8c-735b6cd87aa8

আগামিকাল, শনিবার একটি সাংবাদিক সম্মেলন করবেন সায়কবাবু। অনুষ্ঠানে থাকবেন অভিনেত্রী মমতা শংকর, অভিনেতা বরুণ চন্দ। থাকবেন শিল্পী সুবল পাল, পরিমল পালরাও। সায়কবাবু জানিয়েছেন, সনতান দিন্দা, সুশান্ত পাল-সহ একাধিক শিল্পীর কাছে তিনি এই রেস্তরাঁয় তাঁদের পুজোর কাজের দ্রষ্টব্য রাখতে অনুরোধ করেছেন। অনেকেই সম্মতি দিয়েছেন। বছরের পর বছর বিভিন্ন পুজোমণ্ডপের থিমের দ্রষ্টব্যগুলি সাজানো থাকবে রেস্তরাঁয়। শহরের বেশ কিছু পুজোকমিটি থিম সংরক্ষণ করেও থাকে। নিজের উদ্যোগে শিল্পীর শিল্পকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। সংরক্ষণ করে তিল তিল করে গড়ে তোলা থিমকে। কিন্তু ট্যাঁকের জোরে তা সম্ভব। এমন বহু পুজোকমিটি আছে যারা অনেক ভাল থিম করেও শেষপর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারে না। বাধ্য হয়ে কিছু পুজো কমিটি কালীপুজো এবং জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটিগুলিকে দুর্গাপুজোর থিম বিক্রি করে দেয়। এতদিন এমনটাই চলত। তারপর মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ইকোপার্কে তৈরি হয় পুজোর মিউজিয়াম ‘সংগ্রহ’। এবার সেই পথে হেঁটেই শহরের পুজেপাগলদের জন্য শুরু হচ্ছে দশভুজা রেস্তরাঁর পথ চলা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.