Abhishek Banerjee

সেবাশ্রয়ে হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা, জোর করে আনা হত লোক! অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের থানায় ববি

ঠিক কী কী দুর্নীতি হয়েছে?

সুরজিৎ দেব
সুরজিৎ দেব

শেষ আপডেট: জুলাই ১, ২০২৬, ১৪:৫০

options
link
সেবাশ্রয়ে হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা, জোর করে আনা হত লোক! অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের থানায় ববি
সেবাশ্রয়ে হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা! জোর করে আনা হত লোক, অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের থানায় ববি

সেবাশ্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানার দ্বারস্থ হলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। অভিযোগপত্রে হাতুড়ে ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে দিয়ে মর্ডান চিকিৎসা,  আইন অমান্য করে ক্যাম্পে মেডিকেল সরঞ্জামের ব্যবহার, জোর করে লোক নিয়ে গিয়ে ভিড় বাড়ানো, চিকিৎসায় গাফিলতি-সহ একাধিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী। জানা যাচ্ছে, অভিযোগ পত্রে অভিষেক ছাড়াও নাম রয়েছে তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়, অয়ন ঘোষ দস্তিদার, এলাকার বিধায়ক, পঞ্চায়েত সদস্য ও সেবাশ্রয়ে থাকা চিকিৎসকদের। 

Advertisement
সেবাশ্রয়ের প্রেসক্রিপশন।

অভিযোগ পত্রে ঠিক কী কী জানিয়েছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস? তাঁর দাবি, সেবাশ্রয়ের নামে ডায়মন্ড হারবারবাসীকে ‘টুপি’ পরিয়েছেন অভিষেক। অভিযোগ, সেবাশ্রয়ে আনা হত হাতুড়ে ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের। তাঁদের কারও রেজিস্ট্রশন নেই। তাঁরাই নাকি মর্ডান চিকিৎসা করতেন! একটি প্রেসক্রিপশন দেখিয়েছেন অভিজিৎ। সেখানে রোগীর নাম-বয়স লেখা রয়েছে, তবে নেই রোগের বিবরণ। শুধু লেখা, ‘রেফার্ড টু হসপিটাল।’ সেই প্রেশক্রিপশনে চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বরও লেখা নেই। তিনি আরও দাবি করেছেন, ইউএসজির মেশিন ব্যবহারের জন্য আইন অনুযায়ী যে অনুমতির দরকার, তাও নাকি নেননি অভিষেক। এখানেই শেষ নয়, জোর করে এলাকার বাসিন্দাদের সেবাশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হত বলে দাবি। কারণ, ভিড় না বাড়লে সেবাশ্রয় যে সফল তা প্রমাণ করা যাবে না। এছাড়া ওষুধের মান, মেয়াদ নিয়েও অভিযোগ পত্রে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতা। অভিযোগের কপি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি-কেও পাঠিয়েছেন তিনি।

Advertisement

উল্লেখ্য, আগেই সেবাশ্রয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন এক চিকিৎসক। তিনি সেবাশ্রয়ের ক্যাম্পে থাকতেন বলেই দাবি। ঠিক অভিযোগ তাঁর? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক জানান, সেবাশ্রয়ে চিকিৎসা হত বিনামূল্যে। কিন্তু ঘুরপথে রোগীদের থেকে আদায় করা হত মোটা টাকা। কীভাবে? ওই চিকিৎসক জানান, সেবাশ্রয়ে রোগীদের এমআরএই, সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেওয়া হত। কিন্তু এই পরীক্ষাগুলো স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাই চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশনে এই ধরণের পরীক্ষা লিখে দিলেই ময়দানে নামতেন সেবাশ্রয়ে থাকা বিভিন্ন হাসপাতালের মার্কেটিং বিভাগের কর্মীরা। তাঁদের দায়িত্ব ছিল, রোগীদের বুঝিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা। এরপর রোগীরা কেউ হাঁটু ব্যথা, কেউ অন্য কোনও সমস্যা দেখিতে ভর্তি হতেন হাসপাতালে। ১০-১২ দিন ভর্তি রাখায় চড়চড়িয়ে বাড়ত বিল। তা কাটা হতো স্বাস্থ্যসাথী ফান্ড থেকে। অর্থাৎ ঘুরপথে সরকারি প্রকল্পের টাকা চলে যেত অভিষেকের কাছে! বিষয়টা প্রকাশ্যে আসতেই তাজ্জব সকলে।      

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.