Panchayat Act

‘অংশ নয় বংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েত’, তৃণমূলের দুর্নীতিকে দুষে পঞ্চায়েত আইন সংশোধন রাজ্যের

পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার সময় বলতে ওঠেন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি তৃণমূলকে দুষে বলেন, "১৫ বছরে অংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েতের পরিবর্তে বংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েতের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল।"

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২৬, ১৭:১২

options
link
‘অংশ নয় বংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েত’, তৃণমূলের দুর্নীতিকে দুষে পঞ্চায়েত আইন সংশোধন রাজ্যের
তৃণমূলের দুর্নীতিকে দুষে পঞ্চায়েত আইন সংশোধন রাজ্যের

তৃণমূল আমলে অংশ নয়, বংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েতের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল! একাধিক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ। ১০০ দিনের কাজ থেকে বিভিন্ন টেন্ডারে কাটমানি, টাকা আত্মসাৎ। যা পঞ্চায়েত প্রধানদের ‘অতিরিক্ত’ ক্ষমতার ফল! সেই অপব্যবহার দমনে পঞ্চায়েতের পরিষেবা দ্রুত ও স্বচ্ছ ভাবে সাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে পঞ্চায়েত আইন সংশোধনের পথে রাজ্য সরকার। বিধানসভায় মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বললেন, “সংবিধানের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি। কাটমানি খাওয়ার অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছি। বিল সই করবে সেক্রেটারি, শুধু অনুমতি দেবেন প্রধান।”

Advertisement

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে একাধিক প্রকল্প চালু হয়েছে। বন্ধ হয়ে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন পঞ্চায়েত বিলে অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান, জি রাম জির মতো জনপ্রিয় ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা ছাড়ার বিষয়টি এবার থেকে প্রশাসনিক স্তরে দেওয়ার কথা রয়েছে বিলে। রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতেই এই সিদ্ধান্ত।

Advertisement

শনিবার বিধানসভায় পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল পেশ করা হলে তা বিপুল সমর্থন পেয়ে পাশ হয়ে যায়। বিলের স্বপক্ষে ভোট পড়েছে ১৬৯টি। বিলের বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১৩টি। অনুপস্থিত রয়েছেন ৩২।

পঞ্চায়েত আইন সংশোধনীর স্বপক্ষে বলতে উঠে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “বিডিও, এসডিও সই করেন, ডিএম সই করেন। পঞ্চায়েত প্রধানের বদলে সেক্রেটারি সই করলে কী অসুবিধা হবে? কাটমানি কমে যাবে? গরিব মানুষগুলো কাজ করে টাকা পায়নি। অনুমতি প্রধান দেবেন। কিন্তু সংবিধানের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি। কাটমানি খাওয়ার অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছি।” কেন এই বিল? মন্ত্রী বলেন, “১০০ দিনের টাকা আবার আসবে। কাজ হবে। সেই টাকা মানুষের হাতে যাক আমরা চাই। তাই এই সংশোধন। যারা বলছে মানুষকে বঞ্চিত করার কথা। কেন? এতদিন পুরসভায় নির্বাচন হয়নি, প্রশাসক বসিয়ে রাখলেন, কোর্টে গেলেন। কোর্ট বলল অবৈধ। আপনারা আবার নিজেদের চেয়ারম্যান বসালেন। এইভাবে অবৈধ কাজ করেছেন। তাই এই বিল।”

Advertisement

পঞ্চায়েত বিল নিয়ে আলোচনার সময় বলতে ওঠেন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি তৃণমূলকে দুষে বলেন, “১৫ বছরে অংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েতের পরিবর্তে বংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েতের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। পঞ্চায়েত ব্যবস্থা আপনারা ভেঙেছেন (তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলে)। সেই ব্যবস্থার বদল দরকার। আর এখন চুরি করে জিতে আসা প্রধানরা পঞ্চায়েতে আসছে না। সেই কারণে আমরা এই ব্যবস্থার বদল চাই।”

শনিবার বিধানসভায় পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল পেশ করা হলে তা বিপুল সমর্থন পেয়ে পাশ হয়ে যায়। বিলের স্বপক্ষে ভোট পড়েছে ১৬৯টি। বিলের বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১৩টি। অনুপস্থিত রয়েছেন ৩২। ১৩টি বিপক্ষের ভোটের মধ্যে মধ্যে ৯ জন কালীঘাটের বিধায়ক। বাকি ৪টির মধ্যে নওশাদ, সিপিএম, আর কংগ্রেসের ২ রয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.