Padma Hilsa

ভরা বর্ষাতেও বঙ্গবাসীর পাতে ‘অধরা’ পদ্মার ইলিশ! খরা কাটাতে ঢাকায় যাচ্ছে প্রতিনিধি দল

গতবছর ঠিক পুজোর আগে মেরে কেটে ৫০০ মেট্রিক টন পদ্মার ইলিশ পেয়েছিল বাংলা।

তরুণকান্তি দাস
তরুণকান্তি দাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ১৬:২৫

options
link
ভরা বর্ষাতেও বঙ্গবাসীর পাতে ‘অধরা’ পদ্মার ইলিশ! খরা কাটাতে ঢাকায় যাচ্ছে প্রতিনিধি দল
ফাইল ছবি।

গতবছর ঠিক পুজোর আগে মেরে কেটে ৫০০ মেট্রিক টন পদ্মার ইলিশ পেয়েছিল এই বঙ্গ। কিছুটা পেয়েছিল ত্রিপুরাও। কিন্তু এবার? এখনও পর্যন্ত ইলিশ-বার্তা নেই বাংলাদেশের তরফে। সেখানকার উথালপাতাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর থিতু সরকার এলেও পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গবাসীর পাতে পড়বেই, এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। বরং তা নিয়ে বেশ কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যা কাটাতে এখানকার আমদানিকারকদের একটি প্রতিনিধিদল যাচ্ছে ঢাকা। সেখানে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ দ্বিবেদীর সঙ্গে দেখা করে বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন তাঁরা।

Advertisement

সেই বৈঠকেই আর্জি জানানো হবে যাতে পদ্মার ইলিশের জন্য চাতকের মতো চেয়ে থাকা এপার বাংলার তেষ্টা মেটায় ওপার বাংলা। আমদানিকারক সংগঠনের কর্তা অতুলচন্দ্র দাস বলেছেন, “আশা করছি বৈঠক ফলপ্রসূ হবে।” গতবার বাংলাদেশ সরকার সে দেশের ৩৭টি সংস্থাকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে ১২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল। সেটাই ছিল পুজোর সময়। তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে জটিলতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে ২০১২ সাল থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ। সরকারিভাবেই তা জানিয়ে দিয়েছিল সেখানকার সরকার। তারপর ২০১৯ সালে ফের ইলিশ আসে, তবে তা দুর্গাপুজো উপলক্ষে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসাবে। বনগাঁর পেট্রাপোল দিয়েই ইলিশ আসে এপারে। এবারও সেই চেষ্টা চলছে।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ গতবারও চেষ্টা চালিয়েছিলেন যাতে করে বেশি ইলিশ আনানো যায়। এবারও সেই চেষ্টা চলছে। পদ্মার ইলিশ এক কেজি ওজনের বেশি হলেই এখানে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি দাম ছুঁয়ে যায়। এবার এখানে দিঘা, নামখানায় ইলিশের জোগান যথেষ্ট। কিন্তু বড় ইলিশের দেখা নেই। এখনও পর্যন্ত এক কেজি ওজনের ইলিশ এসেছে একেবারে নামমাত্র। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা, রাজ্য ফিশ ট্রেডার্স ও ট্রলার মালিকদের সংগঠনের এক কর্তা বিজন মাইতি বলেছেন, “গত পাঁচ-ছ’দিন খুবই ভালো ইলিশ উঠেছে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকার দরুন বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপর যদি ভালো পরিমাণ মাছ ওঠে তো বলতে হবে গতবারের চেয়ে জোগান বেশি। না হলে গতবারের মতোই থাকবে।” এবার ইলিশের জন্য যে বৃষ্টি দরকার তাও রয়েছে। তাই আশায় মৎস্যজীবীরা। কিন্তু বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা চিরকালীন। সেই চাহিদা মিটবে কি না, মিটলে সেটা কতখানি তা ঠিক হয়ে যাবে আগামী সোমবারের মধ্যেই ঢাকায় বৈঠকের পর।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.