অর্ণব আইচ: নিখোঁজ শেরু কোথায়? বুধবার সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যেও শেরু নিজামির সন্ধানে সারাদিন ধরে ভেঙে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চলেছিল উদ্ধারকাজ। কিন্তু খোঁজ মেলেনি শেরু বা অন্য কারও। তাই আপাতত গার্ডেনরিচের আজাহার মোল্লা বাগানে ভেঙে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনডিআরএফ, কলকাতা পুলিশের ডিএমজি ও রাজ্য সরকারের সিভিল ডিফেন্স।
এদিন সন্ধ্যায় উদ্ধারকারীরা কলকাতা পুলিশ ও পুরসভাকে জানিয়ে দেন, যে অবস্থায় ধ্বংসস্তূপ রয়েছে, তাতে ভিতরে প্রবেশ করে কাজ করা তাঁদের পক্ষে ঝুঁকির হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনদিন ধরে টানা চেষ্টার পরও কোনও জীবিত বা মৃত ব্যক্তির সন্ধান তাঁরা পাননি। তাই আপাতত উদ্ধারকাজ বন্ধ করছেন তাঁরা। তবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় কারও অবস্থান জানতে পারলে সঙ্গে সঙ্গেই যেন উদ্ধারকারী তিনটি সংস্থাকে তা জানানো হয়। আপাতত এনডিআরএফ নিজেদের যন্ত্রপাতি ও সদস্যদের ফিরিয়ে নিলেও ডিএমজি ও সিভিল ডিফেন্সের কয়েকজন কর্মী ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকছেন বলে জানা গিয়েছে।
[আরও পড়ুন: জোটে কংগ্রেসকে প্রাধান্য বামেদের, বৃহস্পতিবারই একপেশেভাবে প্রার্থী ঘোষণার পথে ISF]
বুধবার সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যেও গার্ডেনরিচের আজাহার মোল্লা বাগানে একসঙ্গে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনডিআরএফ, কলকাতা পুলিশের ডিএমজি ও রাজ্য সরকারের সিভিল ডিফেন্স। অল্প অল্প করে কংক্রিটের স্ল্যাব কেটে সরিয়ে চলে উদ্ধারের কাজ। ছোট ছোট গাড়ি নিয়ে এসে ধ্বংসস্তূপ সরাতে থাকে পুরসভা। এলাকার বাসিন্দারা উদ্ধারকারীদের জানিয়েছেন, নির্মীয়মাণ বাড়ির সিঁড়ির কাছে ছিলেন শেরু। তাই সিঁড়ির আশপাশের জায়গার উপর গুরুত্ব দেন উদ্ধারকারীরা। ওই জায়গাগুলোতে কংক্রিটের স্ল্যাবের উপর ছোট ছোট অংশ সার্কুলার করাত, ডায়মন্ড কাটার করাত দিয়ে কাটা হতে থাকে। এদিনও এনডিআরএফের সারমেয় প্রথমে গর্তের ভিতর দিয়ে ঢুকে নজর চালায়। এর পর সার্চ ক্যামেরা তথা ভিকটিম লোকেটিং ক্যামেরা ভিতরে প্রবেশ করিয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজা হয়। উদ্ধারকারীরা জানান, পাঁচতলার ছাদ থেকে সাতটি গর্ত খুঁড়ে তাঁরা একতলা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।
প্রত্যেকটি তলার গর্তে ঢুকে ক্যামেরা ও আলো দিয়ে চলেছিল সন্ধান। একটি গর্ত দিয়ে প্রবেশ করার সময় অন্য গর্ত খোঁড়ার কারণে কম্পন হতে থাকে। এর ফলে ধ্বংসস্তূপ ভেঙে উদ্ধারকারীদের উপর গিয়ে পড়তে পারে, এমন সম্ভাবনাও তাঁরা উড়িয়ে দেননি। ধ্বংসস্তূপে কোথাও শেরু নিজামি বা অন্য কারও সন্ধান না মেলায় সন্ধ্যার পর অস্থায়ীভাবে উদ্ধারের কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাগুলো। পুরসভাকে জানানো হয়েছে, আপাতত ধ্বংসস্তূপ সরানো হোক। প্রয়োজনে পরে ফের উদ্ধারকাজ শুরু হবে। যদিও এই খবর আজাহার মোল্লা বাগান এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর হতাশ এলাকার বাসিন্দারা। এতে মুষড়ে পড়েছেন শেরু নিজামির পরিবারের লোকেরাও। শেরুর পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, এখনও তাঁরা আশা ছাড়েননি। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মিলতে পারে শেরুর সন্ধান।
সর্বশেষ খবর
-
সার্কিট হাউসে মহুয়াকে ঘর ছাড়তে ‘চাপ’, বাইরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান! উত্তেজনা কৃষ্ণনগরে
-
স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণপত্রে ছত্তিশগড়-মধ্যপ্রদেশের কারুকাজ, মাওবাদীমুক্ত রাজ্যের শিল্পচর্চায় জোর
-
স্বাধীনতা দিবসের রাতে ৭টি গাড়িতে মাংস পাচার! পুলিশি অভিযানে খড়্গপুরে গ্রেপ্তার ১৮
-
এই প্রথম! স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের নিরাপত্তায় পুলিশের সঙ্গী কেন্দ্রীয় বাহিনী
-
টুলুর কারবারের সঙ্গে যোগ? বীরভূমের ভূমি দপ্তরের হেড ক্লার্কের বাড়িতে পুলিশি হানা