সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অমরেন্দ্র বাহুবলী নন। বরং বাহুবলের কাছে মাথা নত করতে হচ্ছে তাঁকে। এমনকী তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। স্বয়ং রাজ্য নির্বাচন কমিশনারও ভয়ে আছেন, এমনটাই প্রচারিত হচ্ছিল। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সে বিষয়টি স্পষ্ট করলেন অমরেন্দ্র সিং। জানালেন, এটা একেবারেই মিথ্যে প্রচার। তৃণমূল তো নয়ই, কোনও রাজনৈতিক দলই তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়নি। কোনওরকম চাপও দেয়নি।
[ পুড়িয়ে মারতে তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে আগুন, অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে ]
সোমবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে সাংবাদিকদের সামনে অমরেন্দ্রবাবু বলেন, “গতকাল একটা রাজনৈতিক দল সাংবাদিকদের সামনে বিশেষ অভিযোগ এনেছে। বলেছে, আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কথাটা শোনার পর থেকে অনেক ভেবেছি কাল থেকে। সাংবাদিকরাও মোবাইলে এসএমএস বা ফোন করে বিষয়টা সম্পর্কে জানতে চাইছেন। তাই মনে হল পুরো ব্যাপারটা পরিষ্কার করা উচিত। আমি বলছি, কোনওরকম প্রাণনাশের হুমকি টিএমসি বা কোনও রাজনৈতিক দল থেকে পাইনি। এমনকী কোনও ব্যক্তির থেকেও পাইনি।”
এদিন আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর কথাবার্তা বাইরের অচেনা লোক রেকর্ড করছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার স্পষ্টই জানালেন, এটাও সত্যি নয়। তিনি বলেন, “এই অভিযোগও ঠিক নয়। কেউ অনেক আগে কিছু করলে আমি জানি না। তবে ১০ তারিখ থেকে আমার কাছে কোনও প্রতিনিধি দলই আসেনি। একটা ছোটখাটো দল এসেছিল। তবে আমার কথা রেকর্ড হচ্ছে এটা সত্যি নয়। জল্পনা ছড়াচ্ছে।এই বিষয়টাও পরিষ্কার করে দেওয়া উচিত বলেই মনে হল।” তিনি জানান, তাঁর ফোন ট্যাপ হচ্ছে বলেও যে অভিযোগ উঠছে তাও সত্যি নয়। তবে যে রাজনৈতিক দল এই অভিযোগ তুলেছে তাদের বিরুদ্ধে এখনই কোনও পদক্ষেপ করার ভাবনা নেই তাঁর।
[ ভোটের আঁচে তপ্ত বাংলা, রাজনৈতিক সংঘর্ষে ফের প্রাণ গেল তৃণমূল কর্মীর ]
এদিকে আজও পঞ্চায়েত মামলার শুনানি হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে তাই নারাজ তিনি। বলেন, “পুরো বিষয়টাই তো এখনও বিচারাধীন। আজও শুনানি হয়েছে। এখনই তাই আমার কিছু বলা ঠিক হবে না।” এদিকে সেই বিতর্কিত মনোনয়নের বিজ্ঞপ্তি নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। কী এমন হল যে মনোনয়নের দিন বাড়িয়ে রাতারাতি তা প্রত্যাহার করে নিলেন? শাসকদলের নেতারা কি তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন? অমরেন্দ্রর বক্তব্য, “সে কোনও নেতা বাড়িতে আসতেই পারেন। তবে এ বিষয়ে যা বলার তা তো আমি আমার নির্দেশিকাতেই বলেছি। কিছু আইনি জটিলতা ছিল। তাহলে এখন আবার এ প্রশ্ন উঠছে কেন? আমি তো কোনও কিছুই লুকোইনি।”
রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে যে নজিরবিহীন টালবাহানা চলছে তার মধ্যে কমিশনারের নীরবতা যেন আরও অস্বস্তির হয়ে উঠেছিল। নানা অভিযোগে গুমোট ক্রমশ বাড়ছিল। এদিন সাফ কথায় তাই কাটানোর চেষ্টা করলেন কমিশনার। বাহুবলী না হতে পারেন, বাহুবল যে তাঁকে প্রভাবিত করেনি এদিন তাই-ই আপ্রাণ বোঝানোর চেষ্টা করলেন অমরেন্দ্র।
সর্বশেষ খবর
-
‘ইসলামই শ্রেষ্ঠ’, মন্তব্য কর্নাটকের মন্ত্রীর, হিন্দু ধর্মকে হেয় করার অভিযোগ বিজেপির
-
ঠোঁটে সারাক্ষণ কৃষ্ণনাম, সাধু বেশে আশ্রয় নিয়ে একের পর এক মঠে লুট! তারপর…
-
নেপালের দুর্যোগে ভাসবে উত্তরপ্রদেশ? ফুঁসছে নারায়ণী-গণ্ডক, প্লাবনের শঙ্কায় সতর্কতা একাধিক জেলায়
-
পাথর হয়েছিল পিত্তথলিতে, অস্ত্রোপচার হল অ্যাপেনডিক্স! কাঠগড়ায় এনআরএস হাসপাতাল
-
হবু স্ত্রী ইউরোপের রাজকন্যা! বিলাওয়াল ভুট্টোর বিয়ে নিয়ে জল্পনা, কী বলছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি?