Taki Municipality

৩ জনের চাপেই দুর্নীতি! হাই কোর্টে দোষ কবুল ‘পে-মাস্টারে’র, দুষলেন টাকি পুরসভার চেয়ারম্যানকে

তৎকালীন পুরসভার 'পে মাস্টার' প্রবীর চট্টোপাধ্যায় তাঁর হলফনামায় জানিয়েছেন, তিনি যা করেছেন এই তিনজনের নির্দেশ মতোই করেছেন।

গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: জুলাই ২৪, ২০২৬, ২২:২১

options
link
৩ জনের চাপেই দুর্নীতি! হাই কোর্টে দোষ কবুল ‘পে-মাস্টারে’র, দুষলেন টাকি পুরসভার চেয়ারম্যানকে
ফাইল ছবি।

টাকি পুরসভার পাহাড় প্রমাণ আর্থিক দুর্নীতিতে কাঠগড়ায় তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ডের চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়। শুধু তিনিই নন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে কাঠগড়ায় তৎকালীন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দীপঙ্কর দাস এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক শুভ্রকুমার দাসও। সম্প্রতি ২০১৮ – ২২ অর্থ বর্ষের টেন্ডার দুর্নীতি, সরকারি তহবিল নয়ছয়, আর্থিক দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় হাই কোর্টে। মামলা করেন টাকি পুরসভার সদ্য ইস্তফা দেওয়া তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস। সেই মামলাতেই তৎকালীন পুরসভার ‘পে মাস্টার’ প্রবীর চট্টোপাধ্যায় তাঁর হলফনামায় জানিয়েছেন, তিনি যা করেছেন এই তিনজনের নির্দেশ মতোই করেছেন।

Advertisement

আর্থিক বেনিয়ম নিয়ে দোষ কবুল করে প্রবীর চট্টোপাধ্যায় আদালতে এও বলেছেন, তাঁকে ক্রমাগত ভয় দেখানো, জোরজবরদস্তি ও অন্যায্য চাপের মুখে ফেলা হয়েছিল। যদি তিনি তাঁদের নির্দেশ না মেনে চলেন, তাহলে গুরুতর পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কর্মজীবন ও চাকরির উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা। ভয় ও চাপের মুখে পড়ে তিনি এ কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে আদালতে জানান। যদিও আগেই এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের ‘ডিরেক্টর অব লোকাল বডি’। মামলার পরবর্তী শুনানিতে তাঁকে এনিয়ে বিস্তারিত তথ্য ও নথি দিয়ে হলফনামা পেশের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দু-সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি।

Advertisement

জঙ্গল ও ট্রেন পরিষ্কারের জন্য ২০১৮-২২ অর্থবর্ষে ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ। একই সঙ্গে, আমফান ত্রাণ তহবিলের প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, একাধিক টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ জনস্বার্থ মামলায়। এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি প্রধান বিচারপতি। শুধু মাত্র জঙ্গল ও ট্রেন পরিষ্কারের জন্য এত টাকা! এই টাকা টাকি পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যানের অ্যাকাউন্ট ও ‘ফ্রেইন্ড কনস্ট্রাকশন’-এর অ্যাকাউন্টে কি করে ঢুকল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি চক্রবর্তী। এ ছাড়াও টাকি পুরসভার একাধিক টেন্ডার দুর্নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। যদিও এনিয়ে কোনও প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি টাকি পুরসভার আইনজীবী। তার প্রেক্ষিতেই মামলার পরবর্তী শুনানিতে মামলায় পক্ষভুক্ত প্রত্যেকের কাছে আলাদা আলাদা করে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। সেই নির্দেশ মেনেই হাই কোর্টে হলফনামা দেয় তৎকালীন ‘পে-মাস্টার’ প্রবীর চট্টোপাধ্যায়।

Advertisement

আবেদনকারীর আইনজীবী ওমর ফারুক গাজীর দাবি ছিল, নথি অনুযায়ী, সেসময় প্রবীর চট্টোপাধ্যায় নামে একজন ‘লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক’, তাঁর একাউন্টে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা ঢোকে। তাঁকে কীকরে পে মাস্টার করা হয় তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সে সময়ের ঘটনা সেসময় স্থায়ী বড়বাবু থাকার সত্ত্বেও একজন ক্লার্কের ব্যক্তিগত অক্যাউন্টে এই টাকা ঢোকা। পুর আইন অনুযায়ী তা বেআইনি বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, একাধিক টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে মামলায়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.