তৃণমূলে ভাঙন
Ritabrata Banerjee - Sandipan Saha

সই কাণ্ডে দলের ‘জালিয়াতি’ ফাঁস, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত-সন্দীপন

সই জাল বিতর্কে তাৎপর্যপূর্ণভাবে আজ, সোমবার এই দুই বিধায়কের নাম নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Advertisement
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুন ১, ২০২৬, ১৯:২২

options
link
সই কাণ্ডে দলের ‘জালিয়াতি’ ফাঁস, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত-সন্দীপন

সই জাল কাণ্ডে ফাঁস তৃণমূলের জালিয়াতি! এরপরেই অস্বস্তি ঢাকতে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক  ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে (Sandipan Saha) বহিষ্কার করল তৃণমূল। দল বিরোধী কাজের অভিযোগে এই দুই তৃণমূল বিধায়ককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত। সই জাল বিতর্কে তাৎপর্যপূর্ণভাবে আজ, সোমবার এই দুই বিধায়কের নাম নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করা হল। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে তৃণমূলের তরফে স্পিকারকে এই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকী বহিষ্কারের কথাও এন্টালি এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ককে ইমেল এবং হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে দলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও খবর। 

Advertisement

সই জাল বিতর্কে তাৎপর্যপূর্ণভাবে আজ, সোমবার এই দুই বিধায়কের নাম নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করা হল।

বিধানসভায় সই বিতর্কে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে তৃণমূলের একাধিক বিধায়কের বাড়িতে হানা দিয়েছে সিআইডি। এমনকী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দরজাতেও কড়া নেড়েছে রাজ্যের গোয়েন্দারা। এহেন বিতর্কের মধ্যেই এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় বিধানসভার সচিবালয় অভিযোগ জানায়। শুধু তাই নয়, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে বিষয়টি জানার পরেই ঘটনায় সিআইডিকে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ তিনি দেন বলে এদিন নবান্নে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এহেন মন্তব্যের কয়েক মিনিটের মাথায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের।

Advertisement

দলের এহেন সিদ্ধান্তের পরেই সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ”১৯ তারিখ কালীঘাটের অফিসে যে অ্যাটেনডেন্স খাতায় সই করানো হয়েছিল তারই পাতা ছিঁড়ে জমা দিয়ে রেজুলেশনের কাগজ বলে দাবি করা হয়েছিল। এটাতো পুরোপুরি অনৈতিক। আজ সেই কাজের প্রতিবাদ করেছি বলে দল বহিষ্কার করল।” এর মানে দল অনৈতিক কাজকেই সমর্থন করে বলে তোপ বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের।

Advertisement

সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ”১৯ তারিখ কালীঘাটের অফিসে যে অ্যাটেনডেন্স খাতায় সই করানো হয়েছিল তারই পাতা ছিঁড়ে জমা দিয়ে রেজুলেশনের কাগজ বলে দাবি করা হয়েছিল। এটাতো পুরোপুরি অনৈতিক। আজ সেই কাজের প্রতিবাদ করেছি বলে দল বহিষ্কার করল।” এর মানে দল অনৈতিক কাজকেই সমর্থন করে বলে তোপ বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের।

এদিকে তৃণমূলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পরেই সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। যেখানে নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। কুণাল ঘোষ লিখছেন, ‘এবার বিধানসভা নির্বাচনে দলনেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দলের প্রতীকেই আমি এবং আমরা বিধায়ক। ফল প্রকাশের এক মাসও হয়নি। তার আগেই দলে বিদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা?? দলের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ?? তাহলে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম কেন?? আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী হলে তো অনেকে মন্ত্রী হওয়ার লবি করত। এখন হঠাৎ নানা কারণ দেখিয়ে দূরত্ব?? এটা কাপুরুষতা।’

সমাজমাধ্যমে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক আরও লিখছেন, ‘দলের কর্মপদ্ধতি নিয়ে দলের বৈঠকে খোলাখুলি বলব। প্রয়োজনে প্রকাশ্যে বলব। কিন্তু দলের পাশে থেকে। তাতে কাজ না হলে তারপর দেখা যাবে। তার আগেই ‘ভালো’ সাজার এত চেষ্টা? অনেকের এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই তো??? যাঁরা দলের কাছ থেকে বহু দায়িত্ব, পদ, ক্ষমতা এতদিন পেয়ে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে ক’জন আজ সামনে আছেন? বাকিরা কোথায়? দলের ভালোর সময়ে ক্ষমতা, ছবি, সেলফি; আর খারাপ সময়ে হাঁটু কাঁপছে???? ভয়??? আপনি বিরোধী বিধায়ক হতে ভয়??? সরকারপক্ষে থাকলে সাহসী?? দলের তরফে বিধায়ক হওয়ার পর দলের বৈঠক নিয়ে কোনো বক্তব্য থাকলে দলকে না জানিয়ে গোপনে প্রতিপক্ষের কাছে অভিযোগ? এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা!!! কর্মীরা বিচার করবেন। দল আবার ঢেলে সাজাবেন নেত্রী। একটু অপেক্ষা করা গেল না?’ 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.