Calcutta High Court

‘শাকসবজির মতো বার্থ বিক্রি করে টিটিইরা’, রেলকে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ হাই কোর্টের

দূরপাল্লার ট্রেনে ফাঁকা বার্থ টিটিইরা টাকার বিনিময়ে যাত্রীদের বিক্রি করে দেন বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে ট্রেনে অপরাধের ঘটনাও দেখা যায়! এক দশকের বেশি সময় হওয়া এক ঘটনার মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাই কোর্ট।

গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১৬:৩৯

options
link
‘শাকসবজির মতো বার্থ বিক্রি করে টিটিইরা’, রেলকে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ হাই কোর্টের
রেলকে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ হাই কোর্টের।

দূরপাল্লার ট্রেনে ফাঁকা বার্থ টিটিইরা টাকার বিনিময়ে যাত্রীদের বিক্রি করে দেন বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে ট্রেনে অপরাধের ঘটনাও দেখা যায়! এক দশকের বেশি সময় হওয়া এক ঘটনার মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাই কোর্ট। ফাঁকা বার্থ টাকার বিনিময়ে সংরক্ষণহীন যাত্রীদের বেআইনিভাবে বরাদ্দ করার প্রবণতাই ট্রেনে মাদক খাইয়ে ডাকাতির মতো ঘটনার প্রধান কারণ। এমনই মন্তব্য ডিভিশন বেঞ্চের।

Advertisement

ঘটনাটি ২০০৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিয়ালদহগামী তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেসে দুই যাত্রীকে মাদক খাইয়ে সর্বস্ব লুট করা হয়েছিল। যাত্রী সুনীলকুমার দাস ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। অপর যাত্রী অরুণ চক্রবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। জানা গিয়েছে, ওই দুই যাত্রীর সংরক্ষিত কামরায় ন্যায্য টিকিট ছিল না। অভিযোগ, টিকিট পরীক্ষককে টাকা দিয়ে দুই যাত্রী ওই ট্রেনের এস-৮ কামরায় বার্থ জোগাড় করেছিলেন। যাত্রাপথে তাঁদের সঙ্গে কয়েকজনের আলাপ হয়েছিল। তারা ওই দু’জনকে মাদক মেশানো খাবার ও পানীয় খাইয়ে সংজ্ঞাহীন করেছিলেন! তাঁদের সর্বস্ব লুট করে পালায় ওই দুষ্কৃতীরা। পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ওই ঘটনায় নিম্ন আদালতে দোষীদের সাজাও হয়েছে। 

Advertisement

দুই দোষী সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চে ওই মামলা ওঠে। মামলার শুনানিতেই এবার বড় পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাই কোর্টের।

দুই দোষী সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চে ওই মামলা ওঠে। মামলার শুনানিতেই এবার বড় পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাই কোর্টের। ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্য, “টিটিইরা ট্রেনের ফাঁকা বার্থ বাজারের সবজির মতো বিক্রি করেন।” তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেসে টিটিইদের ভূমিকাকে আদালত ‘অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মামলায় জেরা করা টিটিই-ই শুধু নন, ট্রেনের যাত্রাপথে তাঁর আগে ও পরে দায়িত্বে থাকা টিটিইরাও নিজেদের কর্তব্যে ব্যর্থ হয়েছেন।

Advertisement

বিচারপতিদের মন্তব্য, “টাকার বিনিময়ে বার্থ বরাদ্দই অপরাধের সুযোগ করে দেয়।” এদিন আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিয়মিত টিটিইরা টাকা নিয়ে সংরক্ষণহীন যাত্রীদের অনুরোধে বার্থ বরাদ্দ করেন। সে কারণে এই ধরনের অপরাধের সুযোগ তৈরি হয়। আদালত এদিন জানিয়েছে, “ভারতীয় রেলের টিটিইদের উপরোক্ত গাফিলতিই মূলত এই অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রধান কারণ” আদালত রায়ের একটি কপি ইস্টার্ন রেলের জেনারেল ম্যানেজার এবং দেশের অন্যান্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ‘দোষী’ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.