Kunal Ghosh

কুণাল-আখরুজ্জামান দ্বৈরথে তুলকালাম বিধানসভায়, সাসপেন্ড বেলেঘাটার বিধায়ক

মার্শাল ডেকে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে বাইরে বার করে দেওয়ার নির্দেশ স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু।

কৃষ্ণকুমার দাস
কৃষ্ণকুমার দাস

শেষ আপডেট: জুলাই ২২, ২০২৬, ১৬:৫৮

options
link
কুণাল-আখরুজ্জামান দ্বৈরথে তুলকালাম বিধানসভায়, সাসপেন্ড বেলেঘাটার বিধায়ক
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

দুই তৃণমূলের দ্বৈরথে তুলকালাম বিধানসভায়। কুণাল-আখরুজ্জামানের ‘সংঘাতে’ উত্তপ্ত বিধানসভা অধিবেশন। মার্শাল ডেকে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে বাইরে বার করে দেওয়ার নির্দেশ স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর। পাশাপাশি কুণালকে (Kunal Ghosh) একদিনের জন্য সাসপেন্ড করেছেন স্পিকার। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “এমন অসভ্যতা দেখিনি। তীব্র নিন্দা জানাই।”

Advertisement

ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এমন অসভ্যতামি বিধানসভায় আগে দেখিনি। বিরোধী দলে ছিলাম। এখন শাসকদলে। এটা খুবই নিন্দাজনক। আখরুজ্জামান আগে মন্ত্রী ছিলেন।”

বিধানসভা গঠন হওয়ার পর থেকেই দুই তৃণমূলের সংঘাত বারবার সামনে এসেছে। বিধানসভায় বিরোধীদল হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ঋতব্রতের তৃণমূল। বিরোধী মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। আখরুজ্জামান বলতে শুরু করলে তাঁকে বাধা দেন কুণাল ঘোষ। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করতে উঠেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিবাদ করেন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক পাশাপাশি বিজেপির মন্ত্রীরা। ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ করেন মন্ত্রী শংকর ঘোষ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়রা। তারপরই কুণালকে মার্শাল ডেকে বার করে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার।

Advertisement

বিধানসভায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূূল বিধায়কদের বলতে দেওয়া হচ্ছে না। বারবার এই অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, যে লিস্ট পাঠানো হচ্ছে, তাতে কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) নাম থাকলেও মুখ্য সচেতক সেই নাম কেটে দিচ্ছেন। অন্য নাম যুক্ত করা হচ্ছে। আগেই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বুধবার বিধানসভার প্রথমার্ধে একই অভিযোগ তুলেছিলেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ। তখন তাঁদের ঝামেলা, ঘরে মেটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপরই দ্বিতীয়ার্ধে আখরুজ্জামান বলতে উঠলে তাঁকে বাধা দেন কুণাল ঘোষ। পরে আখরুজ্জমান বলেন, “৮০ জন বিধায়ক রয়েছে। সবাইকে বলতে দিলে সময় হবে না। আমরা ঠিক করব, কে বলবে বা কে বলবে না।”

Advertisement

ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এমন অসভ্যতামি বিধানসভায় আগে দেখিনি। বিরোধী দলে ছিলাম। এখন শাসকদলে। এটা খুবই নিন্দাজনক। আখরুজ্জামান আগে মন্ত্রী ছিলেন। উনার বাবা হাবিবুর রহমান মুর্শিদাবাদের সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আখরুজ্জামান সাহেবকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা করি।”

এরপরই বিধানসভায় ৩৪৮/২ ধারায় নোটিস দিয়ে গোটা অধিবেশনের জন্য কুণাল ঘোষকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব দেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বলেন, “অনৈতিকভাবে বিরোধী চিফ হুইপকে আক্রমণ করতে গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। এর আগে আমি এই রকম দেখিনি।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিখ্যাত করার দরকার নেই। একদিনের জন্য করা হোক।” ধ্বনি ভোটে কুণাল ঘোষকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.