Health Tips

নিয়মিত হাঁটার সঙ্গে করুন ওজন তোলার অভ্যাস, কমবে মৃত্যুর ঝুঁকি, বলছে গবেষণা

গবেষণা বলছে, যাঁরা সপ্তাহে নিয়ম করে কিছুটা সময় শক্তি বর্ধক ব্যায়াম বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করেন, তাঁদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। দীর্ঘায়ু হওয়ার এই পন্থা খুঁজতে অবিশ্যি জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর কোনও প্রয়োজন নেই।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৩, ২০২৬, ২০:৪১

options
link
নিয়মিত হাঁটার সঙ্গে করুন ওজন তোলার অভ্যাস, কমবে মৃত্যুর ঝুঁকি, বলছে গবেষণা
অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে রোজ করুন স্ট্রেন্থ ট্রেনিং। ছবি: সংগৃহীত

পেশিবহুল শরীর তৈরি করাই কি শরীরচর্চার একমাত্র লক্ষ্য? সাধারণ মানুষের ধারণা অন্তত তেমনই। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান অন্য কথা বলে। শুধুমাত্র নিজেকে সুঠাম দেখানো নয়, দীর্ঘজীবী হতেও নির্ভর করতে হবে পেশির শক্তিতেই। আমেরিকার প্রায় দেড় লক্ষ নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর টানা ৩০ বছর ধরে চালানো হয়েছে এক সমীক্ষা। সেই দীর্ঘ গবেষণার নির্যাস বলছে, যাঁরা সপ্তাহে নিয়ম করে কিছুটা সময় শক্তি বর্ধক ব্যায়াম বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করেন, তাঁদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। দীর্ঘায়ু হওয়ার এই পন্থা খুঁজতে অবিশ্যি জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর কোনও প্রয়োজন নেই।

Advertisement
Health Tips: Strength Training Combined With Aerobics Promotes Longevity
ছবি: সংগৃহীত

গবেষকদের মতে, সুস্থ থাকার একটি নির্দিষ্ট ‘সুইট স্পট’ বা আদর্শ সময় রয়েছে। সপ্তাহে মাত্র ৯০ থেকে ১২০ মিনিট অর্থাৎ দেড় থেকে দু’ ঘণ্টা ওজন তোলা বা এই জাতীয় ব্যায়াম করলেই কেল্লাফতে! যাঁরা একেবারেই শরীরচর্চা করেন না, তাঁদের তুলনায় এই অভ্যাস অকালমৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১৩ শতাংশ কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার মতো স্নায়বিক রোগের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস দারুণ কার্যকরী। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করলে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৯ শতাংশ কমে। অন্যদিকে, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিনাশের মতো জটিল স্নায়বিক রোগে মৃত্যুর আশঙ্কা কমে প্রায় ২৭ শতাংশ। তবে এই ব্যায়ামের ক্ষেত্রে ‘যত বেশি, তত ভালো’— এই নিয়ম কিন্তু খাটে না। সপ্তাহে দু’ ঘণ্টার বেশি ওজন তুললে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

Advertisement

চিকিৎসকদের মতে, খাবার খাওয়ার পর রক্তে যে শর্করা বা গ্লুকোজ তৈরি হয়, তার প্রায় ৮০ শতাংশই শুষে নেয় আমাদের কঙ্কাল পেশি। ফলে শরীরচর্চা করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। যা সরাসরি টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের হাত থেকে আমাদের বাঁচায়। শুধু তাই নয়, ব্যায়ামের সময় সংকুচিত পেশি থেকে ‘মাইওকাইন’ নামের এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়। এই উপাদানটি শরীরের ভেতরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি লিভার, ফ্যাট টিস্যু এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা সচল রাখে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধমনীকে নমনীয় করতেও এর জুড়ি মেলা ভার।

Advertisement
ছবি: সংগৃহীত

গবেষকরা বলছেন, স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের সঙ্গে যদি নিয়মিত অ্যারোবিক এক্সারসাইজ করা যায়, তবে ফল মেলে সবচেয়ে ভালো। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট সাধারণ হাঁটাচলা করলে মৃত্যুর ঝুঁকি এমনিতেই ২৬ থেকে ৪৫ শতাংশ কমে। ক্যানসারের ক্ষেত্রে অবশ্য সামান্য সময় (সপ্তাহে এক ঘণ্টার কম) স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করলেই উপকার পাওয়া যায়। তাই শরীরকে ফিট রাখতে এবং আয়ু বাড়াতে আজই অলসতা ঝেড়ে ফেলুন। ভারী বারবেল বা জিমের সদস্যপদ ছাড়াও বাড়িতে বসেই শুরু করে দিন হালকা ফ্রি-হ্যান্ড বা ওজন তোলার অভ্যাস।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.