একজন নারীর সুস্থতা শুধু তাঁর নিজের জন্য নয়, একটি পরিবার এবং আগামী প্রজন্মের সুস্থ ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে। আর সেই সুস্থতার পথকে আরও নির্ভুল, নিরাপদ ও সহজ করে তুলছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক প্রযুক্তি। জরায়ুর বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিস্টেরোস্কোপি। সেই প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করে তুলতে ডিসান হসপিটাল এবং আইএসএআর বেঙ্গলের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল ‘ন্যাশনাল-লেভেল মাস্টারক্লাস অন হিস্টেরোস্কোপি’।
আরও পড়ুন:
ইস্ট ইন্ডিয়া ফার্টিলিটি কনক্লেভ ‘ইনস্পায়ার ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এই কন্টিনিউয়িং মেডিক্যাল এডুকেশন (সিএমই) কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ, জুনিয়র ও সিনিয়র চিকিৎসকেরা অংশ নেন। লক্ষ্য একটাই—শুধু বইয়ের পাতায় নয়, বাস্তব অপারেশন থিয়েটারের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আধুনিক হিস্টেরোস্কোপির সূক্ষ্ম কৌশল আয়ত্ত করা।
আরও পড়ুন:
ডিসান হসপিটালের কনসালট্যান্ট গাইনোকোলজিস্ট ডা. অয়ন মুখোপাধ্যায় এবং কনসালট্যান্ট গাইনোকোলজিস্ট ও আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ডা. মণিকা কুমারীর নেতৃত্বে আয়োজিত এই মাস্টারক্লাসে লাইভ সার্জিক্যাল ডেমনস্ট্রেশন, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং একাডেমিক আলোচনার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক গাইনোকোলজিক্যাল চিকিৎসার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল লাইভ হিস্টেরোস্কোপিক সার্জারি। ডায়াগনস্টিক স্যালাইন ভ্যাজিনোস্কোপি ও হিস্টেরোস্কোপি, ইউটেরাইন সেপ্টাম রিসেকশন, সাবমিউকাস ফাইব্রয়েড অপসারণ এবং কর্নিয়াল ক্যানুলেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্ভাব্য জটিলতার মোকাবিলা এবং মিনিম্যালি ইনভেসিভ সার্জারির আধুনিক কৌশল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডা. মানস দত্ত, ডা. সঞ্জয় বিশ্বাস, ডা. অরুণাশিস মল্লিক এবং ডা. অলক দে তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে আধুনিক গাইনোকোলজিক্যাল এবং প্রজনন চিকিৎসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ডিসান হসপিটালের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সজল দত্ত বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন সেই জ্ঞান আরও বেশি সংখ্যক চিকিৎসকের কাছে পৌঁছে রোগীদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। এই ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতের নারীস্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
হসপিটালের কনসালট্যান্ট গাইনোকোলজিস্ট ও ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ডা. সুদীপ বসু বলেন, হিস্টেরোস্কোপি আজ শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, এটি নির্ভুল রোগনির্ণয়, কম আঘাতে চিকিৎসা এবং অনেক নারীর মাতৃত্বের স্বপ্নকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে আসার এক কার্যকর মাধ্যম। চিকিৎসকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণই উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি।
দিনভর বিভিন্ন আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং লাইভ ক্লিনিক্যাল সেশনের মধ্য দিয়ে এই মাস্টারক্লাস হয়ে উঠেছিল অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের এক প্রাণবন্ত মেলবন্ধন। কারণ চিকিৎসকের শেখা প্রতিটি নতুন অধ্যায় একজন রোগীর সুস্থতার গল্পকেই আরও সুন্দর করে লেখে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মমতার তিরস্কার, শুভেন্দুর পুরস্কার! দময়ন্তী সেন-সহ ৬ আইপিএসকে স্বাধীনতা দিবসে সম্মান মুখ্যমন্ত্রীর
-
কলকাতা মেডিক্যালে মহিলা কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা! নেপথ্যে কী কারণ?
-
কার্যালয়ে কার্তুজ, গোপন ডেরায় ইসিএলের নথি! দেড় মাস পর পুলিশের জালে বিধায়ক পুত্র ‘বাহুবলী’ প্রেমপাল
-
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ‘তিজ’ উদযাপনে কাকলি-শতাব্দী-রচনারা, মেহেন্দি-সেলফিতে হুল্লোড়, শামিল কঙ্গনাও
-
অনুশীলন সমিতি থেকে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য! ফিরে দেখা ঝাড়গ্রামের বিস্মৃতপ্রায় বিপ্লবীকে