নাসিকায় রক্তক্ষরণে অযথা আতঙ্ক নয়, জেনে নিন প্রতিরোধের উপায়

উচ্চ রক্তচাপ, পলিপের জন্য নাক থেকে রক্ত বেরোতে পারে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯, ২০:৫৫

options
link
নাসিকায় রক্তক্ষরণে অযথা আতঙ্ক নয়, জেনে নিন প্রতিরোধের উপায়

নাক থেকে আচমকা ব্লিডিং? ভয় পাবেন না। রক্তক্ষরণ বন্ধের উপায় জানালেন মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. অভিরাল রায়। লিখছেন পৌষালী দে কুণ্ডু

Advertisement

শীতকালে নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ অনেকের কাছেই পরিচিত, আতঙ্কেরও। কিন্তু এমনটা হওয়ার পিছনে বৈজ্ঞানিক কারণ কী? চিকিৎসকরা বলছেন, নিশ্বাস ফুসফুসে যাওয়ার আগে নাককে আর্দ্র করে দেয়। তাই আবহাওয়া খুব ঠান্ডা ও শুষ্ক হলে শ্বাসও শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় নাকের ভিতরের আর্দ্রতা কমে যায়। তখন নাকের ভিতরের অংশ শুকিয়ে যায়। এর ফলে নাকের অস্বস্তি বাড়ে। চুলকানি হয়। এই সময় আঙুল দিয়ে নাকের ভিতর খোঁচাখুঁচি করলে শুষ্ক ত্বক সহজেই ফেটে যায় এবং সেখানকার রক্তবাহ থেকে রক্তপাত হয়। এই পরিস্থিতিতে কোন কোন বিষয় বিপদজনক, তাও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা –

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

১. ব্লাড প্রেশার বাড়লে বিপদ
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ। তাই যখনই এমন হবে, আগে প্রেশার চেক করে নিতে হবে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের নাক দিয়ে রক্তক্ষরণের ঘটনা মাঝে মাঝে হতে পারে। তাতে প্রথমেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ার কিছু নেই। দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ব্লাড প্রেশার কমানোর ওষুধ খান। কিছু হাই ডোজের অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ সেবনের জন্যও এমন হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। যে কোনও ওষুধের সাইড এফেক্ট জেনে খাওয়া উচিত।

Advertisement

তক্ষুনি কী করবেন?
যে কোনও কারণেই নাক দিয়ে রক্ত পড়ুক না কেন, প্রথমেই দু’আঙুল দিয়ে দুই নাসারন্ধ্র চেপে ধরুন। তারপর ওই অবস্থায় মাথা হেলিয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকার মতো পজিশন করে বসে থাকুন। এতে রক্তপাত বন্ধ হয়। দ্রুত রক্ত জমাট বাঁধতে থাকে।

২.পলিপ বা টিউমার থাকলে চিন্তা
আচমকা নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হলে চিন্তা হওয়া এমনি স্বাভাবিক। কিন্তু শুষ্কতা, হাই প্রেশারের কারণে হলেও চিন্তার কিছু নেই। নাকে কোনও খাবারের গুঁড়ো, বীজ, মরা পোকামাকড় আটকে গেলে অনেক সময় তার উপরে আপনা থেকেই টিস্যু তৈরি হয়ে যায়। পাতলা চামড়ার প্রলেপ পড়ে। এমন কোনও ফরেন বডির কারণে তৈরি হওয়া টিস্যু যেহেতু স্বাভাবিক নয়, তাই মাঝে মাঝে এগুলি থেকে রক্তক্ষরণ হয়। এতে ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু নাকে কোনও পলিপ থাকলে সামান্য আঘাতে প্রায়ই রক্তক্ষরণ হতে পারে। পলিপ বা টিউমারের মতো নাকে কোনও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হলে অবশ্যই তা থেকে বিপদ হতে পারে। এমন হলে অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান। পরামর্শমতো বায়োপসি করিয়ে দেখে নেওয়া উচিত অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অংশ ক্যানসারযুক্ত কি না।

ভুল ধারণা
অনেকের ধারণা, শরীর ভিতরে গরম হয়ে গেলে তার লক্ষণ নাক দিয়ে রক্ত পড়া। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বাস্তবের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। নাক দিয়ে রক্তপাতের প্রবণতা থাকলে অনেকে ঠান্ডা জলে স্নান করেন। শীতেও গরম জল ব্যবহার করেন না। এঁদের এই ধারণারও চিকিৎসাশাস্ত্রে কোনও ভিত্তি নেই।

প্রতিরোধের উপায়
স্প্রে ব্যবহার
১.নাক শুষ্ক হওয়ার কারণে রক্তপাতের প্রবণতা থাকলে বা রক্তপাত এড়াতে বিশেষ ধরনের স্প্রে ব্যবহার করা যায়। এই স্প্রে নাকের ভিতরে করে দিলে নাক আর্দ্র হয়ে যায়। ডাক্তারের প্রেসক্রাইব করা স্প্রে ব্যবহার করাই উচিত।
২.নাক দিয়ে ব্লিডিং শুরু হয়ে যাওয়ার পর নাক চেপে ধরেও যদি না কমে তখন আর এক রকমের স্প্রে পাওয়া যায়, যা ব্যবহার করলে তৎক্ষণাৎ রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। এটিও ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে কিনে রাখা উচিত।
পরামর্শ : ০৩৩ ৬৬৫২ ০০০০

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন