সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাঙালি মানেই ভোজনরসিক। আর জমিয়ে খাওয়ার পর ‘একটু মিষ্টি’ না হলে যেন মন ভরে না! মিষ্টি ছাড়া ডিনার বা লাঞ্চ শেষ করা অনেকের কাছেই অসম্ভব। এই মিষ্টির আবদার কি শুধু মনের? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে শরীরের গোপন কোনও বার্তা? ডাক্তাররা কিন্তু বলছেন, প্রায়শই মিষ্টির এই চাহিদা শরীরের বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
ভারী খাবার, বিশেষত ভাত, রুটি বা ময়দার মতো পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বেশি খেলে এই সমস্যা হয়। এই খাবারগুলি শরীরে দ্রুত হজম হয়। ফলে রক্তে গ্লুকোজ বা চিনির মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। এই মাত্রা সামলাতে শরীর দ্রুত বেশি পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি করে। কিন্তু ইনসুলিন যখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাজ করে ফেলে, তখন রক্তে সুগারের মাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। ডাক্তারি পরিভাষায় এটিকে রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে।
রক্তে সুগারের মাত্রা দ্রুত কমে গেলেই মস্তিষ্ক আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সে দ্রুত শক্তি চায়। আর দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে একমাত্র চিনি বা মিষ্টি। তাই মিষ্টি খাওয়ার জন্য তীব্র ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় শরীরে। এছাড়া, মিষ্টি খাবার আমাদের মস্তিষ্কে সেরোটোনিন হরমোনের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। এই হরমোন মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই মস্তিষ্ক বারবার সেই ‘একটু মিষ্টির’ জন্য শরীরকে আবদার করতে থাকে।

চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন খাবারের পর মিষ্টির এই তীব্র চাহিদা স্বাভাবিক নয়। এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে আপনি আপনার মূল খাবারে অতিরিক্ত শর্করা নিচ্ছেন। অথবা আপনার শরীরে ইনসুলিনের কাজে সামান্য সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই অভ্যাস প্রি-ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
তাই শুধু জিভের স্বাদ মেটানোর জন্য নয়। নিয়মিত এমন মিষ্টির টান অনুভব করলে অবিলম্বে খাদ্যাভ্যাসে বদল আনা প্রয়োজন। খাবার থেকে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট এবং চিনি কমিয়ে দিন। প্রয়োজনে একবার রক্তে সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সর্বশেষ খবর
-
যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাংলায় বসবাস করছে তারা সবাই ‘বাঙালি’
-
‘নেতানিয়াহুকে জাহান্নামে পাঠাব’, নিষেধাজ্ঞায় আমেরিকার উপর হামলার হুমকি ইরানের
-
জলরোষে ২০ বছর আগে মৃত্যু ৫ যুবকের, বিধ্বস্ত নেপাল ফেরাল পুরুলিয়ার ডাউরি খালের স্মৃতি
-
পুজোয় টইটইয়ের প্ল্যান? কলকাতার কাছেপিঠেই রয়েছে অপরূপ বিস্ময়, রইল ৫ গন্তব্যের খোঁজ
-
একাধিক তথ্যে অসঙ্গতি! সরল প্রকাশক, ভারতে প্রকাশিত হবে না সোনিয়ার ‘স্মৃতিকথা’?