ভাই-বোনের সম্পর্কের প্রতীক রাখিবন্ধন (Raksha Bandhan)। সেই বন্ধনের আগেই ভাইকে এমন এক উপহার দিলেন ৪৫ বছরের দিদি, যার মূল্য কোনও উপহারের সঙ্গে তুলনাই চলে না। দীর্ঘ আড়াই বছর সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালিসিসের পর ৪০ বছরের ভাই জিতেন্দ্র সিং গাংওয়ারকে নিজের কিডনি দান করলেন বীণাকুমারী গাংওয়ার। তাঁর কথায়, এটা কোনও ত্যাগ নয়, ভাইয়ের প্রতি ভালবাসা ও দায়িত্ব থেকেই এই সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুন:
উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার বাসিন্দা জিতেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক কিডনি ডিজিজে ভুগছিলেন। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় নিয়মিত ডায়ালিসিসের উপর নির্ভর করতে হত তাঁকে। সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালিসিস করতে করতে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন তিনি। সেই সময়ই ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তাঁর দিদি।
আরও পড়ুন:
গ্রেটার নয়ডার শারদাকেয়ার-হেলথসিটিতে জিতেন্দ্রর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। এবিও-কমপ্যাটিবল কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে নিজের ডান কিডনিটি ভাইকে দান করেন বীণা। অস্ত্রোপচার করেন কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট ও ইউরোলজি বিভাগের ডিরেক্টর ডা. অনিল শর্মা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, অস্ত্রোপচারের পর দাতা ও গ্রহীতা দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন।

ডায়ালিসিসের কষ্ট দেখেই সিদ্ধান্ত
জিতেন্দ্রর জীবনে গত আড়াই বছর কেটেছে ডায়ালিসিসকে ঘিরে। সপ্তাহে তিন দিন চিকিৎসার জন্য ছুটতে হত হাসপাতালে। সে সময় ভাইয়ের পাশে থেকেছেন বীণা। জিতেন্দ্র যখন চিকিৎসার জন্য বাইরে থাকতেন, তখন তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে এবং ছোট মেয়েরও দেখাশোনা করতেন তিনি।
জিতেন্দ্রর কথায়, আমার দিদি সারা জীবন আমার পাশে থেকেছে। ডায়ালিসিসের সময়ও ও আমার সন্তানদের দেখাশোনা করেছে। আজ নিজের কিডনি দিয়ে আমাকে নতুন জীবন দিয়েছে। দীর্ঘদিনের চিকিৎসার পর নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার অনুভূতিও তাঁর কাছে আলাদা। তিনি বলেন, দিদি আমার জন্য যা করেছে, তার প্রতিদান দেওয়া সম্ভব নয়। এখন আমার একটাই ইচ্ছে, এই নতুন জীবনটা ভালো ভাবে কাটাব এবং দিদির যত্ন নেব।

ভাইকে কষ্ট পেতে দেখে বসে থাকতে পারিনি
ভাইকে কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্তে এক মুহূর্তও পিছিয়ে যাননি বীণা। তাঁর কাছে বিষয়টি কোনও আত্মত্যাগের নয়, বরং ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানোর স্বাভাবিক দায়িত্ব। বীণা বলেন, ডায়ালিসিসের সময় ভাইকে কষ্ট পেতে দেখেছি। ওকে এ ভাবে কষ্ট পেতে দেখে আমি চুপ করে থাকতে পারিনি। কিডনি দেওয়া আমার কাছে কোনও ত্যাগ নয়। ভাইয়ের প্রতি ভালবাসা এবং দায়িত্ব থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বীণা অবিবাহিত। তাঁর সিদ্ধান্তে পরিবারেরও সমর্থন ছিল। দুই ভাই-বোন একসঙ্গেই থাকেন। অস্ত্রোপচারের পর ভাই সুস্থ হয়ে উঠছেন, সেটিই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।

প্রতিস্থাপনের আগে স্থিতিশীল করা হয় রোগীর অবস্থা
জিতেন্দ্রকে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে অস্ত্রোপচারের আগে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনার দিকে বিশেষ নজর দেন চিকিৎসকেরা। শরীরে অতিরিক্ত তরল জমা নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতির পর তাঁকে প্রতিস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
ডা. অনিল শর্মা বলেন, রাখিবন্ধনের আগে এই কিডনি প্রতিস্থাপন এক বিশেষ বার্তা বহন করছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান আমাদের প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু বীণার সাহস ও ভাইয়ের প্রতি তাঁর ভালবাসাই জিতেন্দ্রকে নতুন জীবন দিয়েছে। উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কিডনি প্রতিস্থাপন দীর্ঘমেয়াদি ডায়ালিসিসের নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দিতে পারে এবং জীবনযাত্রার মানও উন্নত করতে পারে।
জিতেন্দ্রর কাছে অবশ্য এই গোটা ঘটনার অর্থ চিকিৎসার পরিভাষায় সীমাবদ্ধ নয়। আড়াই বছর ডায়ালিসিসের পর তিনি ফিরে পেয়েছেন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা। সন্তানদের সঙ্গে আরও সময় কাটানোর সুযোগ। আর সেই সুযোগ এনে দিয়েছেন তাঁর দিদি। রাখিবন্ধনের আগে তাই ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধার আগেই নিজের কিডনি দিয়ে তাঁর জীবনটাকেই নতুন করে বেঁধে দিলেন বীণা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সপ্তাহান্তে বাতিল একাধিক লোকাল, ৭ ঘণ্টা চলবে রেলের কাজ, কবে, কখন ট্রাফিক ব্লক?
-
খাঁটি হ্যান্ডলুম নাকি মেশিনে তৈরি? পুজোর কেনাকাটায় শাড়ি চিনতে মাথায় রাখুন এই ৫ বিষয়
-
সেনার হাতে এবার ট্যাঙ্ক ধ্বংসকারী জ্যাভলিন মিসাইল! আমেরিকার সঙ্গে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের
-
ছেলে থেকে মেয়ে হয়েই মহিলা ক্রিকেটে! অনয়া বাঙ্গারকে ‘অসহ্য’ তোপ প্রোটিয়া তারকার
-
শাসক-বিরোধী যুক্তি-যুদ্ধ শুরু, আসন্ন নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব আইন নিয়ে উত্তপ্ত সিএবি