আমেরিকার সঙ্গে বড়সড় প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে ভারত। এবার ভারতীয় সেনার হাতে আসতে চলেছে কাঁধে বহনযোগ্য ট্যাঙ্ক ধ্বংসকারী জ্যাভলিন মিসাইল। শুক্রবার এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্কে এক বিরাট পদক্ষেপ।’ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ‘আত্মনির্ভর ভারতে’র আওতায় মার্কিন সহযোগিতায় দেশেই তৈরি হবে এই মিসাইল।
জানা যাচ্ছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী জরুরি ভিত্তিতে জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য একটি প্রস্তাব ও স্বীকৃতিপত্রে (এলওএ) স্বাক্ষর করেছে। উল্লেখ্য, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং মার্কিন আধিকারিক পিট হেগসেথ-এর মধ্যে সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরাল করতে ১০ বছরের একটি চুক্তি সই হয়েছে। তার ঠিক পর সামনে এল এই প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি। সোশাল মিডিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, ‘ভারত-আমেরিকার প্রতিরক্ষা সম্পর্কে এটি এক বিশাল পদক্ষেপ এবং এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ যৌথভাবে জ্যাভলিন মিসাইল উৎপাদন করবে।’
আরও পড়ুন:
জ্যাভলিন বিক্রির জন্য গত বছরের নভেম্বরে আমেরিকা ৯৩ মিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। যার মধ্যে ছিল ১০১টি জ্যাভলিন মিসাইল ও ২৫টি লঞ্চ ইউনিট। প্রতিটি মিসাইলের দাম প্রায় ১,৭৮,০০০ ডলার।
আমেরিকার থেকে জ্যাভলিন কিনতে ২০১০ সাল থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। তবে এতদিন সে পথে প্রধান বাধা হয়ে উঠেছিল টেকনোলজি ট্রান্সফার। আমেরিকা এই মিসাইলের প্রযুক্তি ভারতকে দিতে চায়নি। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে প্রযুক্তি হস্তান্তরে আমেরিকা রাজি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। গত বছর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিঁদুর চলার পর জরুরি ভিত্তিতে এই মারণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। জ্যাভলিন বিক্রির জন্য গত বছরের নভেম্বরে আমেরিকা ৯৩ মিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। যার মধ্যে ছিল ১০১টি জ্যাভলিন মিসাইল ও ২৫টি লঞ্চ ইউনিট। প্রতিটি মিসাইলের দাম প্রায় ১,৭৮,০০০ ডলার।
উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ট্যাঙ্ক ধ্বংসকারী অস্ত্র জ্যাভলিন তৈরি করে মার্কিন সংস্থা Raytheon ও Lockheed Martin। এর বিশেষত্ব হল, একবার টার্গেট লক করলে মিসাইল নিজে গিয়ে আঘাত করে, সৈনিককে আর গাইড করতে হয় না। ট্যাঙ্কের সামনের অংশ অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও, এর উপরের অংশ দুর্বল। ফলে জ্যাভলিন ১৫০ মিটার উপরে উঠে ট্যাঙ্কের মাথায় আঘাত করে। অস্ত্রের রেঞ্জ ২.৫ কিলোমিটার থেকে ৪.৭ কিলোমিটার পর্যন্ত। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই অস্ত্র কাঁধে বহনযোগ্য। একজন সেনা জওয়ান এই অস্ত্রের মাধ্যমে মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে ৪ মিলিয়ন ডলারের ট্যাঙ্ক ধ্বংস করে দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘কোহলি থাকলে ফল অন্যরকম হত’, দ্বিতীয় টেস্টে গিলের নেতৃত্বে হতাশ প্রাক্তন ক্রিকেটার!
-
কাঁকসায় চিকিৎসক পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু! হস্টেলের রুমে উদ্ধার দেহ, তদন্তে পুলিশ
-
জীবন বিমার গুরুত্ব বুঝতে হবে পড়ুয়াদের, স্কুলে স্কুলে ‘হর ঘর বিমা’ শিবির সরকারের
-
‘লাল গড়’ যাদবপুরে অতি বামদের নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর, বললেন ‘প্যালেস্টাইন নয়, লিখুন পিওকে চাই’
-
‘প্রকৃতির এমন রুদ্ররূপ আগে দেখিনি’, বানভাসি নেপালের জন্য চোখে জল ভূমিকন্যা মনীষা কৈরালার!