এই হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় সরষের তেল থেকে দূরে থাকুন

কেন এ কথা বলছেন ডাক্তাররা?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯, ১৭:৩১

options
link
এই হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় সরষের তেল থেকে দূরে থাকুন

অভিরূপ দাস: ঝঞ্ঝা সরিয়ে মারকুটে মেজাজে শীত। সুচের মতো শরীরে বিঁধছে উত্তুরে হাওয়ার কামড়। ক্রমেই নিম্নমুখী পারদে জবুথবু হয়ে পড়েছে শহর। বেলা বাড়লেও লেপ কম্বল ছেড়ে বেরতে চাইছে না কেউই।

Advertisement

এই শীতেই শরীরে থাবা বসায় হাজারো অসুখ। কারও নাক দিয়ে ক্রমাগত জল পড়ছে তো কারও গলা ফুলে ঢোল। ঢোক গিলতে গেলেই লাগছে। পায়ে মোজা পরলেও কেন আটকানো যাচ্ছে না ঠান্ডা? চিকিৎসকরা বলছেন মার্বেলের মেঝেতে শুধু মোজা পরে হেঁটে লাভ নেই। পায়ে দিতে হবে হাওয়াই চটি। ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই রোজ স্নান করতে চান না এসময়। নয়া প্রেসক্রিপশনে, রোজ কনকনে ঠান্ডা জল গায়ে ঢালাটা কোনও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং ঠান্ডা জলের সঙ্গে ঈষৎ উষ্ণ জল মিশিয়েই স্নান করতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Untitled-1

Advertisement

[আকাদেমিতে সভাপতির দায়িত্বেই থাকবেন শাঁওলি, মন্তব্য পার্থর]

কারণ? মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সুকুমার মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শীতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক ভাবে হয় না। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গিয়ে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে ট্যাঙ্কের ঠান্ডা জলে স্নান করলে বয়স্কদের ক্ষেত্রে স্ট্রোক অথবা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে অল্প গরম জল মিশিয়ে নিলে ভাল থাকবেন প্রৌঢ়-প্রৌঢ়ারা।

শীত এলেই স্কুলে যেতে পারে না ক্লাস নাইনের অদ্রিজা। চুল ভিজিয়ে স্নান করা অদ্রিজার মতো অনেকেরই ঠান্ডা লাগার মূল কারণ। শহরের কান নাক গলার চিকিৎসক ডাঃ সুদীপ্ত চন্দ্র জানিয়েছেন, ‘চুল বড় হলে সপ্তাহে দু’দিনের বেশি মাথা ভেজাবেন না। মাথা ভেজালেও সঙ্গে সঙ্গে তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছে নিন। এতে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।’

ইএনটি-র সমস্যাও মাথাচাড়া দেয় শীতের সময়েই। ডাবের জল খেয়ে গলায় ব্যথা! গলায় সংক্রমণের প্রবণতা থাকলে পৌষ-মাঘে ডাবের জল নৈব নৈব চ। ডাঃ চন্দ্র বলেছেন, ‘ডাবের জল খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। এমন ধারণা অনেকেরই আছে। কিন্তু শীতে ডাবের জল না খাওয়াই শ্রেয়। গলায় সংক্রমণের সম্ভাবনা দ্বিগুণ এই জলে।’

[চালকহীন মেট্রোর মক রেকে স্টেশনের নামে ভুরিভুরি ভুল, আপনার চোখে পড়েছে?]

শীতে ত্বকের রুক্ষতা নিয়েও ভুল ধারণা রয়েছে অনেকের মধ্যে। ‘তেল মেখে স্নান করছি। তাও গায়ে র‌্যাশ বেরচ্ছে কেন?’ চেম্বারে এমন প্রশ্ন হামেশাই শুনতে হয় চিকিৎসকদের। ত্বকের এই র‌্যাশের পিছনে প্রধান শত্রু সরষের তেল। ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথের চিকিৎসক ডাঃ প্রভাস প্রসূন গিরির কথায়, ‘শীতকালে বাতাসে জ্বলীয় বাষ্প কমে যায়। ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়ে। ত্বকের শুষ্কতা হটাতে তেল মেখে স্নান করার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু সরষের তেল না মাখতেই পরামর্শ দিই আমরা। ফি বছর দেখা যায় চেম্বারে এমন অনেকেই আসেন যাঁদের  ত্বকে ইরিটেশন হয়েছে সরষের তেলে।’

শীতের খাওয়া-দাওয়াতেও কিছু নিয়ম মানা দরকার। শুষ্ক আবহাওয়ায় বেশি জল খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ঠান্ডায় জল মুখে দেওয়া দুস্কর। লক্ষ করলে দেখা যাবে, বছরের এই দু’মাস প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম জল খান। জল খাওয়ার অভ্যেস ধরে রাখতে ফ্লাস্কে ঈষৎ উষ্ণ জল রেখে দেওয়ার নিদান দিয়েছেন ডাক্তাররা। শীত জুড়ে ছড়ানো হরেক ভাল থাকার উপাদানও। সুকুমার মুখোপাধ্যায়ের পরামর্শ, ‘শীতেই কিন্তু সবচেয়ে বেশি মরশুমি শাকসবজি পাওয়া যায়। বছরের এই সময়টায় মরশুমি ফল খান। শাকসবজি খান। তাতেই বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।’

[আগামী ৩ দিনে আরও নামবে পারদ, জেলায় শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা]

তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ-

  • গায়ে সরষের তেল নয়, সরষের তেলে গায়ে র‌্যাশ বেরোয়। স্কিন ইরিটেশন হয়। বাজার চলতি বডি অয়েল অথবা নারকেল তেল মাখা যেতে পারে।
  • হাঁটাহাঁটি অথবা খেলাধুলা করার সময় খুব বেশি ভারী পোশাক না পরাই শ্রেয়। ঘাম বসে জ্বর আসতে পারে।
  • চুল লম্বা হলে সপ্তাহে দু’বারের বেশি চুল ভিজিয়ে স্নান নয়।
  • শীতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয় না। তাই স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়ে। এমনিতেই রক্তনালি সংকুচিত হয়, ঠান্ডা জলে স্নান করলে তা আরও তরান্বিত হয়। হার্ট অ্যাটাক এড়াতে ঈষৎ উষ্ণ জল মিশিয়ে স্নান করতে বলছেন চিকিৎসকরা।
  • ডাবের জল থেকে দশ হাত দূরে থাকাই শ্রেয়। শীতে ডাবের জল গলায় সংক্রমণ বাড়ায়।
  • নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করতে আঙুলে অল্প জল নিয়ে নাকের ভিতর দিতে হবে। জোরে নাক ঝাড়বেন না।
  • বাড়িতে এসি চালালে কখনওই যেন তা ২৭ এর নিচে না নামে।
  • খালিপায়ে ঘরে হাঁটবেন না। মোজা পরলেও পাতলা চটি পায়ে দিয়ে হাঁটা উচিত।

[সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেই ভাবছেন নিশ্চিন্ত? নির্ভাবনার দিন শেষ]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.