বৌদ্ধ সাধুরা মনে করতেন, ঘর ঝাঁট দিয়ে ধুলো বের করা আদতে জাগতিক মোহ কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সমার্থক। বাড়ির আসবাব থেকে ঘষে ময়লা পরিষ্কার করলে, মায়ার বন্ধন ত্যাগ করে মুক্ত হওয়া সহজ হয়। এ কথা সত্যিই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বর্তমানে মনোবিদেরাও এ কথা বারবার বলেন যে, ঘর গুছালেই (decluttering home) জীবন গুছানো সহজ হয়।
আরও পড়ুন:
প্রায়শই দেখা যায়, যেসব মানুষ ঘর-বাড়ি অগোছালো করে রাখেন, তাঁরা ব্যক্তিগত জীবনেও সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। নানা মনোরোগের শিকার হন। সহজে বিরক্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু জানেন কি, এই সবের সমাধান একটাই। ঝাঁটা-বালতি তুলে নিয়ে বাড়িটিকে ঝেড়ে সাফসুতরো করা। কীভাবে তা কাজে দেয়? জেনে নেওয়া যাক।

১। ধরা যাক, টেবিলের উপর স্তূপ হয়ে রয়েছে ওষুধের শিশি, আলনায় জামার উপর জামা চেপে পাহাড় হয়ে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে তা দেখে, গুছাতে ইচ্ছে করবে না নিঃসন্দেহে। কিন্তু যখনই ধৈর্য ধরে একটি একটি করে জিনিস গুছাবেন, নিজেই অনুভব করতে পারবেন যে উদ্বেগ কমছে। মন শান্ত হচ্ছে।
২। সমস্ত এলোমেলো জিনিস নামিয়ে, নতুন করে সাজিয়ে রাখাই তো মূল কাজ এক্ষেত্রে। খেয়াল রাখতে হচ্ছে, যাতে তা দৃষ্টিনন্দন হয়। ফলে একাগ্রতা বাড়ে। মনসংযোগ বাড়ে। বর্তমানে দীর্ঘ সময় সোশাল মিডিয়া স্ক্রোল করার কারণে যে কোনও কাজই নিবিষ্ট মনে করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে মানুষ। সময় নিয়ে ঘর গুছালে পরবর্তীকালে অন্য কাজেও ফোকাসে সুবিধা হয়।
৩। যখনই একটু একটু করে সেজে ওঠে বাড়ির ঘেঁটে থাকা কোণ, এক অপার আনন্দে মন ভরে যায়। অনুভব করা যায় যেন ব্যক্তিজীবনের উপরেও নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হবে এরপর। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। মানসিক ক্লান্তি দূর হয়। ঘুম ভালো হয়। আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
৪। রোজের বাঁধাধরা কাজের মধ্যে ব্যায়ামের সময় পাওয়া যায় না বললেই চলে। নিয়মিত ঘর গুছালে শরীর সক্রিয় হয়ে উঠতে বাধ্য হয়।

৫। নিজের হাতে ঘর সাজিয়ে রাখলে পরে যে কোনও জিনিস খুঁজে পেতে সুবিধে হয়। এতে দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। তাছাড়া বাইরের কেউ এসে যখন গৃহসজ্জার তারিফ করেন, তখন অজান্তেই নিজের প্রতি বিশ্বাস অনেকখানি বেড়ে যায় গৃহস্থের।
বাড়ির সমস্তটাই যে এক ধাক্কায় গুছিয়ে ফেলতে হবে, তেমন নয়। বরং বাড়ির এক একটি অংশ এক এক সময় বেছে নিয়ে, গুছানো যেতে পারে। সবটাই যে একেবারে পটু হাতের কাজ হতে হবে, তারও কোনও মানে নেই। ধীরে ধীরে গুছাতে শুরু করলেই এক সময় দেখা যাবে, কখন যেন এই কঠিন কাজ সহজ হয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গুলি খেয়েও বেপরোয়া রণবীর কাপুর! ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর রক্তাক্ত লুকে ফেরালেন ‘অ্যানিম্যাল’ স্মৃতি
-
সুপ্রিম দরবারে অমীমাংসিত তৃণমূলের ‘প্রতীক-যুদ্ধ’, কমিশনকে শিব সেনা মনে করাল আদালত
-
প্রধান নির্বাচক পদে আগরকর আর কতদিন? জানিয়ে দিল বোর্ড, জানানো হল উত্তরসূরি বাছার দিনক্ষণও
-
আবার বিহার! কিশোরীর পথ আটকে যৌন নিগ্রহ, অশালীন আচরণ, বন্ধুকে মার, প্রকাশ্যে ভিডিও
-
নতুন করে পুলিশি পদক্ষেপ নয়, হাই কোর্টের নির্দেশে স্বস্তিতে নন্দীগ্রামের জেলবন্দি কংগ্রেস প্রার্থী