Relationship

অন্যের প্রেম ভাঙিয়ে রোজগার! মিলছে পৌনে তিন লাখের চাকরি, আবেদন করবেন নাকি?

বর্তমানের ব্যস্ত ও জটিল জীবনে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ঝক্কি অনেক। কিন্তু সেই সম্পর্ককে বিদায় জানানোর ঝক্কি বুঝি আরও বেশি। আর ঠিক এই জায়গাতেই বাজার ধরতে নেমেছে এক আন্তর্জাতিক ডেটিং সংস্থা। তারা নিয়োগ করছে ‘চিফ ব্রেকআপ অফিসার’ বা সিবিও। কী অবাক হচ্ছেন?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৬, ২০২৬, ২১:০৯

options
link
অন্যের প্রেম ভাঙিয়ে রোজগার! মিলছে পৌনে তিন লাখের চাকরি, আবেদন করবেন নাকি?
আবেগ কি সত্যিই আউটসোর্স করা যায়? ছবি এআই দ্বারা প্রণীত।

সম্পর্ক ভাঙার যন্ত্রণা চিরন্তন। কিন্তু সেই বিচ্ছেদের পর্বটি যদি অন্য কেউ এসে সেরে দিয়ে যায়? হ্যাঁ, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটাই এখন রূঢ় বাস্তব। এবার সরাসরি প্রেম ভাঙার প্রেসক্রিপশন মিলবে সহজেই। বর্তমানের ব্যস্ত ও জটিল জীবনে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ঝক্কি অনেক। কিন্তু সেই সম্পর্ককে বিদায় জানানোর ঝক্কি বুঝি আরও বেশি। আর ঠিক এই জায়গাতেই বাজার ধরতে নেমেছে এক আন্তর্জাতিক ডেটিং সংস্থা। তারা নিয়োগ করছে ‘চিফ ব্রেকআপ অফিসার’ বা সিবিও। কাজটা খুব সহজ। অন্যের হয়ে তার প্রেমিক বা প্রেমিকাকে গিয়ে বলতে হবে, ‘আমাদের এখানেই শেষ..। চ্যাপ্টার ক্লোজ করলাম।’ আর এই বিচিত্র কাজের জন্য মাসে পারিশ্রমিক মিলবে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা! ভাবা যায়?

Advertisement

রূপোলি পর্দায় রণবীর কাপুরকে আমরা দেখেছি গোপনে এই ‘ব্রেকআপ কনসালট্যান্ট’-এর কাজ করতে। তবে এটি কোনও গোপন মিশন নয়। এটি একেবারে কর্পোরেট চাকরি। আবেদনের যোগ্যতা? অত্যন্ত উচ্চমানের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা এবং অন্তত তিনটি নিজের ব্রেকআপ সামলানোর অভিজ্ঞতা! এটুকুতেই হবে। আপাতদৃষ্টিতে চাকরিটি লোভনীয় মনে হলেও, সমাজতত্ত্ববিদ ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা কিন্তু সিঁদুরে মেঘ দেখছেন।

Advertisement

গবেষণা বলছে, আধুনিক প্রজন্মের প্রায় ৮৪ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনও না কোনও মোড়ে ‘ঘোস্টিং’ বা আচমকা নীরবতার শিকার হয়েছেন। হঠাৎ কথা বন্ধ করে দেওয়া বা ব্লক করে দেওয়ার চেয়ে একটা স্পষ্ট ‘বিদায়বার্তা’ অনেক বেশি যন্ত্রণামুক্ত। এই যুক্তিকেই ঢাল করেছে ওই সংস্থা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, আবেগ কি সত্যিই আউটসোর্স করা যায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচ্ছেদ কেবল একটি তথ্য পৌঁছে দেওয়া নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিপর্ব। তৃতীয় কোনও ব্যক্তি এসে সম্পর্ক ভাঙলে, মানুষ নিজের ভুলত্রুটি থেকে শেখার সুযোগ হারায়। ফলে আগামী দিনেও তারা একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে চলে বইকি!

Advertisement

আগে মানুষ কঠিন সত্যিটা বলতে ভয় পেত। আর আজ মানুষ মুখোমুখি কথা বলতেও ইতস্তত বোধ করছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই চরম অবক্ষয় কি তবে এক যান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে আমাদেরকে ঠেলে দিচ্ছে না? আজ যদি ব্রেকআপের জন্য লোক ভাড়া করা যায়, তবে কি আগামীকাল ভালোবাসার কথা বলার জন্যও অফিসার নিয়োগ করতে হবে? উত্তরটা হয়তো সময়ের হাতেই রয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.