Reverse Parenting

উলটপুরাণ! সন্তানদের শাসনেই ‘মানুষ’ হচ্ছেন মা-বাবারা, কেমন হয় ‘রিভার্স পেরেন্টিং’?

এতদিন নিয়ম ছিল উলটো। সন্তান বায়না করলে বাবা-মা তাকে আগলে রাখতেন। আঙুল ধরে শেখাতেন জীবন। কিন্তু চিনে এখন হাওয়ার অভিমুখ সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে শৈশব আর বার্ধক্যের সীমারেখাটা ঝাপসা হয়ে গিয়েছে। যে বয়সে সন্তানদের খেলার কথা, সেই বয়সেই তারা সামলাচ্ছে ঘর এবং ঘরনিদের। সম্পর্কের এই নয়া রসায়নের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রিভার্স পেরেন্টিং’।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২, ২০২৬, ১৯:৫৮

options
link
উলটপুরাণ! সন্তানদের শাসনেই ‘মানুষ’ হচ্ছেন মা-বাবারা, কেমন হয় ‘রিভার্স পেরেন্টিং’?
চেনা সংসারের ছবিটাই হয়তো বদলে দিতে চলেছে এই ‘রিভার্স পেরেন্টিং’। ছবি: সংগৃহীত

এতদিন নিয়ম ছিল উলটো। সন্তান বায়না করলে বাবা-মা তাকে আগলে রাখতেন। আঙুল ধরে শেখাতেন জীবন। কিন্তু চিনে এখন হাওয়ার অভিমুখ সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে শৈশব আর বার্ধক্যের সীমারেখাটা ঝাপসা হয়ে গিয়েছে। যে বয়সে সন্তানদের খেলার কথা, সেই বয়সেই তারা সামলাচ্ছে ঘর এবং ঘরনিদের। সম্পর্কের এই নয়া রসায়নের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রিভার্স পেরেন্টিং’। যেখানে ছোটরাই এখন বড়দের ‘বড়’ হয়ে ওঠার পাঠ দিচ্ছে। কী শুনতে খুব অবাক লাগছে?

Advertisement
ছবি: সংগৃহীত

কেন এই উলটপুরাণ?
চিনের কর্পোরেট সংস্কৃতি অত্যন্ত কঠোর। হাড়ভাঙা খাটুনি আর সাফল্যের চরম ইঁদুর দৌড়ে ক্লান্ত বাবা-মায়েরা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছেন। ঘরে ফিরে তাঁরা যখন অবসাদে ভেঙে পড়েন, তখন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তাঁদের নাবালক সন্তান। তারা শুধু সান্ত্বনা দিচ্ছে না, বরং বাবা-মায়ের কেরিয়ার থেকে শুরু করে জীবনযাপন— সব কিছুতেই ছড়ি ঘোরাচ্ছে। চিনের দীর্ঘদিনের ‘এক সন্তান নীতি’ সন্তানদের ওপর এক বিশাল দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। বাড়িতে কথা বলার আর কেউ নেই, তাই খুব অল্প বয়সেই তারা বাবা-মায়ের সবচেয়ে কাছের বন্ধু এবং অভিভাবক হয়ে উঠতে বাধ্য হচ্ছে।

Advertisement

চিনের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তুঙ্গে। তারা দেখতে পাচ্ছে, তাদের বাবা-মায়েরা পুরনো ধ্যানধারণার জালে আটকে থেকে নিজেদের ক্ষতি করছেন। তাই এই খুদে ‘অভিভাবক’রা বাবা-মাকে বুঝিয়ে কাউন্সেলিং করাচ্ছে, নতুন লাইফস্টাইল শেখাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এমন দাঁড়াচ্ছে যে, ছোটদের অনুমতি ছাড়া বড়রা কোনও কাজই করতে পারছেন না।

Advertisement
ছবি: সংগৃহীত

এই প্রবণতা যেমন বাবা-মায়ের মানসিক চাপ সাময়িকভাবে কমায়, তেমনই তৈরি করছে নতুন বিপদ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে বাবা-মায়েরা ক্রমশ পরনির্ভরশীল ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছেন। উলটোদিকে, সন্তানরা তাদের শৈশব হারিয়ে ফেলছে। হাতে ব্যাট আর কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বড় হওয়ার বদলে তারা সময়ের আগেই প্রবীণ হয়ে উঠছে। ভালোবাসার এই অদ্ভুত টানাপোড়েনে চিনের অন্দরমহলে এখন দাপট দেখাচ্ছে ‘খুদে’ বড়রা। চেনা সংসারের সংজ্ঞাটাই হয়তো বদলে দিতে চলেছে এই ‘রিভার্স পেরেন্টিং’।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.