মানুষের মনের ভিতর কী চলে, তা কি কেবল তাদের লেখা মেসেজ পড়েই জানা যায়? মেসেজে তো চাইলেই মিথ্যে কথাও লিখতে পারে মানুষ। মনস্তত্ত্ব বলছে, মেসেজে কী লেখা রয়েছে, তার চাইতেও জরুরি প্রশ্ন হল কেমনভাবে লেখা রয়েছে। আপনি এক মেসেজেই অনেকখানি লেখেন, নাকি টুকরো টুকরো শব্দ ভেঙে ছড়িয়ে দেন মেসেজের পর মেসেজে? ইমোজির মধ্যে সবথেকে বেশি পছন্দের কোনগুলো? চট করে উত্তর দেন, নাকি ‘সিন’ করেও ফেলে রাখেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা? সেইসব থেকেই বোঝা যাবে মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। আমাদের মনস্তাত্বিক গঠনের অনেকটাই নাকি উন্মুক্ত হয়ে যায় আমাদের মেসেজ লেখার ধরণে, বলছে মনোবিজ্ঞান।
আরও পড়ুন:
কথার শেষে দাঁড়ি টানেন!
যুবসমাজ একাধারে অনেকখানি বলে যাওয়ার চাইতে ভাঙা ভাঙা মেসেজ লিখে মনের ভাব প্রকাশ করে, জানাচ্ছেন মনস্তত্ববিদরা। এর অন্যতম কারণ, ধৈর্যের অভাব। বড় মেসেজ পড়তে তাদের ক্লান্ত লাগে। তাছাড়া মানসিকভাবে তারা ভীষণ অস্থির। এমন লেখায় কখনওই প্রায় বাক্যের শেষে দাঁড়ি দিতে দেখা যায় না তাদের। আর তাই, যখন কেউ মেসেজে লেখা বাক্যের শেষে দাঁড়ি অথবা ফুলস্টপ দেন, তখন বুঝতে হবে যে সে মানুষ গম্ভীর প্রকৃতির। হয়তো রগচটা। কথা বলেন কম, রাগ পুষে রাখেন দীর্ঘ সময়। সহজেই আহত হন। ফুলস্টপ দিয়ে কেবল বাক্যটি নয়, সম্পর্কটিকেও গণ্ডিতে বেঁধে দিতে চান যেন।

বাক্যের শেষে প্রায়শই দেন তিনটে ডট!
বাক্যের শেষে তিনটে ডটের অর্থ, বাক্যটি সেখানেই শেষ নয়। তার সমাপ্তি অনিশ্চিত। কোনও গল্পে যখন চরিত্রের সংলাপের শেষে এই তিন ডট দেওয়া হয়, তখন হতে পারে কথার মাঝেই অন্য কোনও ভাবনায় হারিয়ে গিয়েছে চরিত্রটি। অথবা কী বলবে, তা বুঝে না পেয়ে কথার মাঝে থমকে গিয়েছে।
দেখা যাচ্ছে, যারা প্রায়শই এই তিন ডট ব্যবহার করেন, তারা সচরাচর অনিশ্চয়তায় ভোগেন। কথা বলতে শুরু করে প্রসঙ্গ ভুলে যান। আবার এমনটাও হতে পারে যে উলটোদিকের মানুষটির কথা বলার আগ্রহ ধরে রাখতে এমন রহস্য সৃষ্টি খানিক ইচ্ছাকৃত।
রিপ্লাই দিতেই অধীর অপেক্ষা?
কিছু মানুষ মেসেজ দেখেও রিপ্লাই দেন না। কেউ কেউ আবার মেসেজ পাওয়া মাত্র রিপ্লাই টাইপ করতে বসে যান। মনোবিদরা বলছেন, অস্থিরচিত্ত অথবা অতিসংবেদনশীল মানুষেরা সচরাচর চটজলদি রিপ্লাই করেন। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বেশি কথা লিখবেন এঁরা। উলটোদিকের মানুষ উত্তর দিতে দেরী হলে আগেই ভাবতে বসবেন, তাঁর দিকের মেসেজে কোনও গোলমাল হয়ে গিয়েছে কিনা। তবে এমন মানুষদেরও আমরা দ্রুত রিপ্লাই করি, যাদের সঙ্গে কথা বলতে আমাদের ভালো লাগে। ইচ্ছে করে, দীর্ঘ সময় ধরে এমন গপ্পগুজব চলতেই থাকুক!

রেগে গেলে ব্যাকরণ মানে!
মানুষ যখন জানে, উলটোদিকের মানুষের কাছে সে নিশ্চিন্ত, মানুষটি তার ভুল ধরবে না, তখন বানান আর যতিচিহ্ন নিয়ে না ভেবেই নির্দ্বিধায় মেসেজ পাঠাতে পারে। বিশেষত, ইংরেজিতে লিখলে তেমন মেসেজের সমস্তটাই হয় ছোটহাতের অক্ষরে। কিন্তু সে যখন রেগে বা উত্তেজিত হয়ে যায়, অন্যজনের ভুল চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চায়, তখন আচমকাই ‘অল ক্যাপস’-এ মেসেজ করতে থাকে! এমনকী সঠিক বানান ও যতিচিহ্নের ব্যবহারও করে। পরিশেষে অবশ্যই দাঁড়ি বা একাধিক জিজ্ঞাসাচিহ্ন ব্যবহার করে বুঝিয়ে দেয় যে, তার রাগ সহজে কমবে না!
ভাষায় যা বলা হল না
শব্দে না কুলোলে মানুষ এন্তার ইমোজি ব্যবহার করে মেসেজের মাঝে। কথার অনেকটা কাজই ইমোজি দিয়ে সেরে দেওয়া যায়। ভালোবাসা হোক বা বিরক্তি, অথবা আনন্দ উৎসব— সব বোঝাতেই ভুরি ভুরি ইমোজি ব্যবহার করে তরুণ প্রজন্ম। অনেকেই আবার কথার ভার লঘু করেন ইমোজি দিয়ে। হয়তো সে এমন কোনও সংবেদনশীল কথা বলে ফেলেছে, তা অন্যপাশের মানুষটিকে রাগিয়ে তুলতে পারে। এমন বিপদে ত্রাতা হয়ে আসে ইমোজি।
আধুনিক জীবনের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। টেক্সট মেসেজিং হয়ে উঠেছে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অবশ্য মনস্তত্ববিদরা বলছেন, এই দ্রুত পরিবর্তনশীল যুগে কোনও কিছুকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যায় না। হয়তো দেখা গেল, হুট করে যোগাযোগের নতুন কোনও মাধ্যম আবিষ্কার হল। আর অমনি আমূল বদলে গেল মানুষের মন বোঝার এই অভিধান!
সর্বশেষ খবর
-
তিনের পাল্টা চার! বিধানসভায় বিল উত্তেজনার মাঝে ‘খেলা ভাঙার খেলা’য় মাতল ‘দুই’ তৃণমূল
-
দাদা সৌরভের টিপসই ব্রহ্মাস্ত্র! ‘দাদাগিরি’র সেটে পা রেখেই কী জানালেন দেব?
-
রাস্তা আটকে একুশের মঞ্চের মাপজোক, দোলা-কুণালদের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর
-
জামিনে বাড়ি ফিরতেই বিবাদ! খাস কলকাতায় ‘খুনে’র অভিযোগে গ্রেপ্তার দম্পতি
-
বিশ্বকাপে হেরেও অলিম্পিকের টিকিট স্মৃতিদের, এখনও অনিশ্চিত শ্রেয়সরা, কী মাপকাঠি জানাল আইসিসি?