সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভিড়ে ঠাসা বাসে নাক কুঁচকে আছেন। বাদুরঝোলা অবস্থায় ট্রেন থেকে নেমে বমিই করে ফেললেন প্রায়। ভিড়ে নয়, গন্ধে দম আটকে ছিলেন সময়টুকু। ভিড়ে যত না কষ্ট হয়েছে তারচেয়েও বেশি কষ্ট সহযাত্রীর ঘামের দুর্গন্ধে। ভিড়ের মধ্যে কোনওরকমে দাঁড়িয়ে তখন বিরক্তি লাগলেও কিছু বলা যায় না। একবারও কি ভেবেছেন? যার গায়ের গন্ধে আপনার এমন দুর্দশা তিনি নিজে কতটা বিব্রত বোধ করেন ?
[পেঁয়াজকলির গুণে বদলে যেতে পারে আপনার জীবন]
গায়ে দুর্গন্ধের পিছনেও রয়েছে হাজারো কারণ। তারই ব্যাখ্যা দিলেন শহরের বিশিষ্ট ডার্মাটোলজিস্ট চিকিৎসক অশোককুমার ঘোষাল। বললেন, “আমাদের ত্বকে সিভেশিয়াস গ্ল্যান্ড, অ্যাপোক্রিন গ্ল্যান্ড রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে এইসব গ্ল্যান্ড বেশি থাকে। এই গ্রন্থি থেকে রাসায়নিক নিঃসরণ চলতে থাকে। যখনই নিঃসরণের পরিমাণ বেড়ে যায়, তখনই ত্বকে ব্যাকটেরিয়া, ফাংগাস বেশি জন্মায়। ত্বকে জন্ম নেওয়া এই ব্যাকটেরিয়াই নিঃসৃত রাসয়নিককে ভেঙে দুর্গন্ধের জন্ম দেয়। যাদের ওজন বেশি, নিয়মিত মশলাদার খাবার নাহলে চলে না, তাদের গায়ে দুর্গন্ধও বেশি। এমনকী, ডায়াবেটিসের জন্য দীর্ঘদিন ওষুধ খাচ্ছেন এমন ব্যক্তি ভিড় ট্রেনে আশপাশে থাকলে রক্ষা নেই। অনেক সময় পারিবারিক কারণেও গায়ে দুর্গন্ধ হতে পারে।”
[সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাক্তনের প্রোফাইলে উঁকি? এই রোগে ভুগছেন না তো?]
বিশালবপুর মানুষটি গাদা গাদা সুগন্ধী কিনে ঘর ভরিয়ে ফেলেছেন। সামনেই গরম আসছে। ভিড়বাসে উঠে সহযাত্রীকে অস্বস্তিতে ফেলার আগেই নিজে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁরা এবার সুগন্ধী থেকে একটু হলেও নজর সরিয়ে নিন। শরীরের বিভিন্ন খাঁজে যে ঘাম জমছে, তা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। বাহুর নিম্নোক্ত স্থান পরিচ্ছন্ন রাখতে সময়মতো শেভ করুন। ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। স্পিরিট থাকে ডিওডোরেন্টের মধ্যে। ঘর্মাক্ত স্থানে ডিওডোরেন্ট পড়লে সেখানে একটা লেয়ার তৈরি হয়। ওই লেয়ার ত্বকের গ্রন্থির মুখ আটকে ঘামের মাত্রা কমায়। দুর্গন্ধ থেকেও রেহাই মেলে। পারলে নিয়মিত গরমজলে স্নান করুন। গরমজল ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করুন। সূতির পোশাক পরুন। অতিরিক্ত ঝাল, মশালদার খাবার, বিয়ার এড়িয়ে চলুন। ঘরোয়া নিয়মে কাজ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড যুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। অনেকের মোজা থেকেও দুর্গন্ধ ছড়ায়। তাই সূতির মোজা ব্যবহার করুন। দুর্গন্ধ এড়াতে চটিজুতো ব্যবহার করতে পারেন। রুক্ষ খসখসে ত্বকে ব্যাকটেরিয়া বেশি জন্মায়। তাই পায়ের ত্বক নরম রাখতে পিউমিস স্টোন দিয়ে নিয়মিত পা পরিষ্কার করুন।
থাইরয়েড বেড়ে গেলে ঘাম বেশি হতে পারে। মেনোপজের পর কোনও ওষুধ খেলেও বেশি বেশি ঘামতে পারেন। কিডনি, লিভার ও ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে ঘামে দুর্গন্ধের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই যুক্তিযুক্ত হবে।
[একটানা মাথাব্যথায় ভুগছেন! ফাইব্রোমায়ালজিয়া নয় তো?]
সর্বশেষ খবর
-
আজ জানে কি জিদ না করো… চোখের জলে মহাকাব্যে ইতি টানলেন মহানায়ক রোনাল্ডো
-
লাস্ট ডান্সেও অধরা মাধুরী, স্পেনের কাছে হেরে শূন্য হাতেই বিশ্বকাপকে চিরবিদায় রোনাল্ডোর
-
কাচ বসানো বালা পরিয়ে বৃদ্ধার ৫০ লক্ষের হিরের গয়না হাতিয়ে পালায় আয়া! কী হল তারপর?
-
চুলের মুঠি ধরে মার! কলেজ প্রজেক্টের ছবি তুলতে গিয়ে হেনস্থার শিকার ৪ ছাত্রী
-
বাবা-ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লক্ষ মুক্তিপণ দাবি! ধৃত ৩