Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
Kolkata Police

কাচ বসানো বালা পরিয়ে বৃদ্ধার ৫০ লক্ষের হিরের গয়না হাতিয়ে পালায় আয়া! কী হল তারপর?

বৃদ্ধার হাত ঘোরালেই ঝলসাত হিরে। তাঁর হাতের বালায় বসানো হিরের উপর আলোর প্রতিফলনে বাড়ির লোকেরই চোখ যেত ধাঁধিয়ে। কিন্তু সকাল হতে যেন হিরের গয়না আর ঝলসে উঠল না। কেটে গেল ছন্দ।

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২৬, ০০:০৭

link
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২৬, ০০:০৭

options
link
কাচ বসানো বালা পরিয়ে বৃদ্ধার ৫০ লক্ষের হিরের গয়না হাতিয়ে পালায় আয়া! কী হল তারপর? zoom
প্রতীকী ছবি।
Advertisement

বৃদ্ধার হাত ঘোরালেই ঝলসাত হিরে। তাঁর হাতের বালায় বসানো হিরের উপর আলোর প্রতিফলনে বাড়ির লোকেরই চোখ যেত ধাঁধিয়ে। কিন্তু সকাল হতে যেন হিরের গয়না আর ঝলসে উঠল না। কেটে গেল ছন্দ। পরিবারের লোকেরা বৃদ্ধার হাতের বালাটি হাতে নিয়ে পরীক্ষা করতেই চমকে গেলেন। হিরে কোথায়? বালায় বসানো কাচের টুকরো। আসল হিরের বালা উধাও। তার সঙ্গে খোয়া গিয়েছে এক জোড়া সোনার কানের দুল, নাকের নথ। বৃদ্ধার ছেলে, অর্থাৎ পরিবারের কর্তার সন্দেহ হল আগের রাতে নাইট ডিউটিতে থাকা আয়ার উপর। কিন্তু আয়ার ফোনও বন্ধ।

নিখুঁত ছক কষে শহরের অভিজাত অঞ্চল পার্ক স্ট্রিটের একটি বহুতলের ফ্ল‌্যাট থেকে ৫০ লাখ টাকার সোনা আর হিরের গয়না চুরি। যদিও অভিযোগ পাওয়ার একদিনের মধ্যেই তার কিনারা করলেন পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ আধিকারিকরা। অভিযুক্ত আয়া নমিতা রাউতের দুই সাকরেদকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। সুস্মিতা সর্দার ও সোহেল রফিক নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে কিছু গয়না পুলিশ উদ্ধারও করেছে। নমিতার হদিশ পেলে পুরো গয়না পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ আধিকারিকরা। পুলিশ জানিয়েছে, পার্ক স্ট্রিটের ওই অভিজাত আবাসনের বাসিন্দা বৃদ্ধাকে দেখভালের জন‌্য আয়া সেন্টার থেকে উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ের বাসিন্দা নমিতা রাউতকে নিয়োগ করা হয়। একদিন কাজ করার পরই তার নজরে আসে বৃদ্ধার দু’হাতে ঝলসাতে থাকা দু’টি হিরের বালা।

Advertisement

সেই বালার ছবি নমিতা নিজের মোবাইলে তুলে নেয়। বাড়ি ফিরেই সে যোগাযোগ করে তার দুই সাগরেদ সুস্মিতা ও সোহেলের সঙ্গে। তাদের সাহায‌্য নিয়েই হিরের বদলে কাচ বসিয়ে প্রায় একই রকমের বালা এক স‌্যাকরাকে দিয়ে একদিনের মধ্যে তৈরি করে ফেলে নমিতা, সুস্মিতারা। নাইট ডিউটিতে কাজ করার সুবাদে বৃদ্ধার খাবার জলের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয় নমিতা। বৃদ্ধা ঘুমিয়ে পড়েন।

পরিবারের অন‌্যরাও যখন ঘুমিয়ে কাদা, তখন বৃদ্ধার হাত থেকে আসল হিরের বালা খুলে নকল হিরের বালা সে পরিয়ে দেয়। অন‌্য গয়নাগুলি ও আলমারি থেকে এক হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সে। সকাল হওয়ার পর ডিউটি শেষ হতে না হতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় নমিতা। গয়নার একাংশ তুলে দেয় সুস্মিতা ও সোহেলের হাতে। বাকিটা নিয়ে পালায় সে। পরিবারের লোকেরা নকল গয়না ধরে ফেলার পর পার্ক স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করে নমিতার মোবাইলের কল লিস্ট খতিয়ে দেখে সুস্মিতাদের নম্বরের হদিশ পায়। সেই সূত্র ধরেই বারাকপুরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ সুস্মিতা ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জেরা করে নমিতার হদিশ পাওয়ায় চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.