Darjeeling

১৮ বছর দিল্লির সঙ্গে লড়াইয়ের পর প্রাপ্তি! অবশেষে পাহাড়ে পর্যটনে গড়ে উঠতে চলেছে বৌদ্ধ সার্কিট

১৮ বছরের লড়াইয়ের সমাপ্তি! অবশেষে পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে। ভারত সরকার বৌদ্ধ সার্কিট তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছে। পশ্চিবঙ্গ বিশেষত দার্জিলিং, কালিম্পং জেলা এবং ডুয়ার্সকে ওই সার্কিটে আনতে সোমবার দিল্লিতে চিঠি পাঠালেন রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান তথা হেল্প ট্যুরিজমের কর্ণধার রাজ বসু।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ১৯:২৩

options
link
১৮ বছর দিল্লির সঙ্গে লড়াইয়ের পর প্রাপ্তি! অবশেষে পাহাড়ে পর্যটনে গড়ে উঠতে চলেছে বৌদ্ধ সার্কিট
পাহাড়ে পর্যটনে গড়ে উঠতে চলেছে বৌদ্ধ সার্কিট।

১৮ বছরের লড়াইয়ের সমাপ্তি! অবশেষে পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে। ভারত সরকার বৌদ্ধ সার্কিট তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছে। পশ্চিবঙ্গ বিশেষত দার্জিলিং, কালিম্পং জেলা এবং ডুয়ার্সকে ওই সার্কিটে আনতে সোমবার দিল্লিতে চিঠি পাঠালেন রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান তথা হেল্প ট্যুরিজমের কর্ণধার রাজ বসু। ২০২৬ সালের বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন উত্তর-পূর্ব ভারতকে প্রধান আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন। এতদিন বিদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পর্যটকরা নেপাল ও ভুটানে বেশি যেতেন।

Advertisement

ট্যুর অপারেটররা মনে করছেন ভারত সরকার উদ্যোগী হতে এবার উত্তর-পূর্বের ছয়টি রাজ্যে আসবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাব বৌদ্ধ সার্কিট অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরা জুড়ে হবে। যদিও রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান তথা হেল্প ট্যুরিজমের কর্ণধার রাজ বসু বলেন, “২০০৮ সাল থেকে পর্যটনের বৌদ্ধ সার্কিট গড়ে তোলার দাবিতে লড়াই চলছে। কয়েক দফায় কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রীর সঙ্গে ওই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অবশেষে স্বপ্ন সফল হতে চলেছে। ওই সার্কিটে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং জেলা এবং ডুয়ার্সকে জুড়তে সোমবার কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি।”

Advertisement

জানা গিয়েছে, ওই বৌদ্ধ সার্কিটে ৪ হাজার বৈদ্যুতিক বাস চলবে। রাজ বসু জানান, বৌদ্ধ সার্কিট গড়ে তোলার উদ্দেশ্য তীর্থযাত্রা পর্যটনকে শক্তিশালী করা এবং বৌদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা। প্রতি বছর বিদেশের কয়েক লক্ষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পর্যটক নেপাল ও ভুটানে গেলেও প্রচার ও পরিকাঠামো না থাকায় ভারতের হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় আসেন না। অথচ এশিয়ার মধ্যে ভারত বৌদ্ধ ধর্ম বিকাশের পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। গবেষকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহার ছাড়াও সিকিম এবং উত্তরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে বৌদ্ধ নিদর্শন। প্রাচীন পৌন্ড্র রাজ্য থেকে একসময় বিতাড়িত হয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও তান্ত্রিকরা করতোয়া পাড়ের অধুনা ময়নাগুড়ি সহ জঙ্গলাকীর্ণ ডুয়ার্সের বিভিন্ন প্রান্তে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

Advertisement

এখানে ‘দেওমালি’ নামে পরিচিত সিল্ক রুট ধরে তারা পৌঁছে যেতেন তিব্বত এবং গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লুম্বিনীতে। ওই সিল্ক রুটে চিনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং করতোয়া নদী অতিক্রম করে কামরূপে পৌঁছেছিলেন। রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান তথা হেল্প ট্যুরিজমের কর্ণধার জানান, ওই কারণে দার্জিলিং, কালিম্পং ও ডুয়ার্সকে বৌদ্ধ সার্কিটে জুড়তে অনুরোধ করা হয়েছে। সিকিম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি অমর আগরওয়াল বলেন, “আমি খুবই আনন্দিত সিকিমকে ‘বৌদ্ধ সার্কিট উন্নয়ন প্রকল্প’ ভুক্ত করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে মঠ সংরক্ষণে গুরুত্ব বাড়বে। হোটেল মালিক, ট্যুর অপারেটর, পরিবহন সরবরাহকারী, কারিগর এবং যুব উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.